লালকেল্লা বিস্ফোরণ মামলায় বড় তথ্য প্রকাশ, রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টে পাকিস্তানভিত্তিক জইশের যোগের ইঙ্গিত
দিল্লির লালকেল্লা সংলগ্ন বিস্ফোরণ কাণ্ডে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়াল আন্তর্জাতিক মহলে। দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাসবাদ নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের ৩৭ তম রিপোর্টে উঠে এসেছে এক গুরুত্বপূর্ণ দাবি, ১০ নভেম্বর রাজধানীর লালকেল্লা এলাকায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণের সঙ্গে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ ই মহম্মদের (জইশ) যোগ থাকতে পারে।
রাষ্ট্রসংঘের অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাংশনস মনিটরিং টিমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, একটি সদস্য দেশ তাদের জানিয়েছে যে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে জইশ। ওই বিস্ফোরণে অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ নভেম্বর সন্ধ্যায় লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে ধীরগতিতে চলা একটি হুন্ডাই আই ২০ গাড়িতে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের একাধিক গাড়িতে। বিস্ফোরণে বহু মানুষ আহত হন ও এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
উল্লেখ্য, এর আগেই ৮ অক্টোবর জইশ প্রধান মাসুদ আজহার সংগঠনের একটি পৃথক মহিলা শাখা গঠনের ঘোষণা দেন, যার নাম রাখা হয় 'জামাত উল মুমিনাত'। যদিও এই শাখাটিকে রাষ্ট্রসংঘের নিষিদ্ধ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, তবে অভিযোগ, এটি সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জইশের বর্তমান সক্রিয়তা নিয়ে সদস্য দেশগুলির মধ্যে মতভেদ রয়েছে। একটি দেশ দাবি করেছে সংগঠনটি এখনও সক্রিয়, অন্যদিকে আরেকটি দেশ বলছে, এটি কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। পাকিস্তান অতীতে জানিয়েছে, রাষ্ট্রসংঘের নিষেধাজ্ঞার পর জইশ ও লস্কর ই তইবা আর সক্রিয় নয়।
এছাড়াও, রিপোর্টে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে প্যাহেলগামে হওয়া হামলার প্রসঙ্গও তোলা হয়েছে, যেখানে ২৬ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হন। সেই হামলার দায় নিয়েছিল 'দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট', যাকে লস্কর ই তইবার ছদ্মসংগঠন হিসেবে মনে করা হয়।
লালকেল্লা বিস্ফোরণের তদন্তে প্রাথমিকভাবে ফরিদাবাদে সম্প্রতি ভেঙে দেওয়া একটি সন্দেহভাজন জঙ্গি মডিউলের যোগসূত্র সামনে আসে। ইতিমধ্যেই কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। গোটা চক্রটিকে চিহ্নিত করে ধ্বংস করতে তদন্তকারী সংস্থাগুলি বিস্তৃত তল্লাশি ও অনুসন্ধান চালাচ্ছে।
রাষ্ট্রসংঘের এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর কূটনৈতিক মহলে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন তদন্তের অগ্রগতি ও সন্ত্রাস দমনে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।












Click it and Unblock the Notifications