পুলিশের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এনে আত্মহত্যা মহারাষ্ট্রের তরুণী চিকিৎসকের
মহারাষ্ট্রের সাতারা জেলার একটি সরকারি হাসপাতালে এক তরুণী চিকিৎসক আত্মহত্যা করেছেন। অভিযোগ, গত পাঁচ মাস ধরে এক পুলিশ অফিসার তাকে একাধিকবার ধর্ষণ এবং অন্য এক ব্যক্তি তাকে মানসিকভাবে হয়রানি করে আসছিলেন।
সাতারা জেলার সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত ওই চিকিৎসক সুইসাইড নোটে এক পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে বারবার ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন। তার হাতের তালুতে লেখা সুইসাইড নোটে গোপাল বাদানে নামের এক পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে পাঁচ মাস ধরে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ করা হয়েছে।

এছাড়াও, সুইসাইড নোটে প্রশান্ত বাঙ্কার নামের অন্য এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যিনি তাকে মানসিকভাবে হয়রানি করতেন। বাঙ্কার হলেন সেই বাড়ির মালিকের ছেলে যেখানে চিকিৎসক ভাড়া থাকতেন।
২৮ বছর বয়সী এই চিকিৎসক বিড় জেলার বাসিন্দা ছিলেন এবং ফলটানের একটি সরকারি হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ পাঠিয়েছে এবং হাতের তালুতে লেখা সুইসাইড নোটের ফরেনসিক বিশ্লেষণ শুরু করেছে।
ইতিমধ্যে, অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং তাকে ও অন্য অভিযুক্তকে গ্রেফতারের জন্য তল্লাশি অভিযান চলছে। এই বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, "দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ধর্ষণ এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত সাব-ইন্সপেক্টরকে ডিউটি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। দুই অভিযুক্তকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এদিকে, এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ সাতারার পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং ওই চিকিৎসকের সুইসাইড নোটে উল্লেখিত পুলিশ অফিসারদের অবিলম্বে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় (CMO) থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ফড়নবীশ, যিনি স্বরাষ্ট্র দপ্তরেরও প্রধান, এই মামলায় অভিযুক্ত সকলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
তবে, নিহত চিকিৎসকের আত্মীয়রা এর পিছনে কোনও চক্রান্তের অভিযোগ করেছেন। নিহতের এক আত্মীয় বলেন, "তার উপর ভুল ময়নাতদন্ত রিপোর্ট তৈরির জন্য প্রচুর পুলিশ ও রাজনৈতিক চাপ ছিল। তিনি এই বিষয়ে অভিযোগ করার চেষ্টা করেছিলেন। তার ন্যায়বিচার পাওয়া উচিত।"
মহারাষ্ট্র রাজ্য মহিলা কমিশনও এই ঘটনার বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে এবং পুলিশকে ওই চিকিৎসকের অভিযোগের বিষয়ে কথিত নিষ্ক্রিয়তার তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। কমিশনের চেয়ারপার্সন রূপালী চাকানকর বলেছেন যে, সাতারার পুলিশকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মহারাষ্ট্র রাজ্য মহিলা কমিশন এক্স-এ একাধিক পোস্টে জানিয়েছে, "নিহত চিকিৎসকের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কমিশন সাতারার পুলিশ সুপারকে পলাতক অভিযুক্তদের অবিলম্বে খুঁজে বের করতে এবং পুরো মামলার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছে।"
পোস্টে আরও বলা হয়েছে, "কমিশন পুলিশকে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছে যে কেন ওই নির্যাতিতা মহিলা পূর্বে হয়রানির অভিযোগ করা সত্ত্বেও সাহায্য পাননি এবং যারা এর জন্য দায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।"












Click it and Unblock the Notifications