মহারাষ্ট্রে পৌরসভা নির্বাচন, ভোট দেওয়ার পরই ইঙ্ক বিতর্ক, রাজ ও উদ্ধবের প্রশ্নবাণ
মহারাষ্ট্রের চলমান পৌরসভা নির্বাচনে ভোট পর্বকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার তুমুল রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হলো। ভোট প্রদান শেষ করে বেরিয়ে এসে মার্কার পেনের কালির মান নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা (এমএনএস) প্রধান রাজ ঠাকরে। তাঁর অভিযোগ প্রচলিত অমোচনীয় কালি নয়, বরং পেনের কালিতে চিহ্ন দেওয়া হচ্ছে ভোটারদের আঙুলে, যা সহজেই স্যানিটাইজার দিয়ে মুছে ফেলা সম্ভব।
রাজ ঠাকরের এই অভিযোগ মুহূর্তেই রাজনীতি উত্তপ্ত করে তোলে। তিনি আরও আক্রমণ শানালেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনের (এসইসি) বিরুদ্ধে। বিশেষ করে মুম্বই পুরসভা নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ব্যবহৃত প্রিন্টিং অক্জিলিয়ারি ডিসপ্লে ইউনিট (পিএডিইউ) এর উদ্দেশ্য ও প্রয়োগ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর দাবি, এই যন্ত্রের ব্যবহারের বিষয়ে যথাযথ ব্যাখ্যা দেয়নি কমিশন, উল্টে প্রচারের সময়সীমা বাড়িয়ে ক্ষমতাসীনদের টাকা বিলি বণ্টনের সুযোগ করে দিয়েছে।

"এভাবে প্রশাসন চললে সুস্থ গণতন্ত্র বলা যাবে না," ক্ষোভ উগড়ে দেন এমএনএস প্রধান। পাশাপাশি কর্মীদের অনিয়ম নজরদারির ডাক দেন তিনি।
অন্যদিকে, শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব ঠাকরেও ভোট দিয়ে বেরিয়ে এসে একইসুরে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সকালে থেকেই বহু ভোটার তাঁকে ফোন করে জানাচ্ছেন আঙুলের কালি মুছে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, ভোটার তালিকা থেকে নাম উধাও হওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে রাজনৈতিক বিচ্ছেদের পর দীর্ঘ বিরতির পর মুম্বই পুরভোটে 'মরাঠি মানুষ ' ইস্যুকে সামনে রেখে ফের একজোট হয়েছেন এই দুই কাকাতো ভাই। ২০১৭ সালের পর প্রথমবার অনুষ্ঠিত এই ভোটে তাদের লক্ষ্য আবারও বেসরকারি দৃষ্টিতে এশিয়ার সবচেয়ে ধনী পুরসংস্থার নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করা।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৩ কোটি ৪৮ লক্ষ ভোটার ২৯টি পৌরনিগমের ৮৯৩টি ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বী ১৫,৯০৮ প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ করবেন। রাজ্যজুড়ে ৩৯,০৯২টি ভোটকেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ চলছে ১৫ জানুয়ারি সকাল ৭টা ৩০ থেকে বিকেল ৫টা ৩০ পর্যন্ত, আর ভোটগণনা শুরু হবে ১৬ জানুয়ারি।












Click it and Unblock the Notifications