কোভিড বিধি না মানলে সাধারণ মানুষকে মারধর নয়, পুলিশকে নির্দেশ হাইকোর্টের
কোভিড বিধি না মানলে সাধারণ মানুষকে মারধর নয়
রাজ্যের কোনও নাগরিক যদি মাস্ক না পরেন বা সামাজিক দুরত্বের মানদণ্ড পালন না করেন বা লকডাউনের শর্ত মেনে না চলেন, তাঁকে শারীরিক শাস্তি অথবা মারধর করা উচিত নয়। বৃহস্পতিবার এমনই জানিয়েছে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। এর আগেও হাইকোর্টের পক্ষ থেকে এই একই নির্দেশ জারি ছিল।

অভিযুক্ত পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
মুখ্য বিচারপতি মহম্মদ রফিক ও অতুল শ্রীধরনের বেঞ্চ পুরো ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করেন ও ইন্দোরের এসপিকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেন। প্রসঙ্গত, ওসিন শর্মা ও অন্য অনেকে আদালতে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন। আবেদনের বয়ান অনুযায়ী, ইন্দোরের পরদেশিপুরা পুলিশ থানার দুই কনস্টেবলের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার আর্জি জানানো হয়। কারণ ওই পুলিশ কর্মী তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিরীহ রিক্সাচালক, ভ্যান চালকদের মারধর করছে। আবেদনকারীরা আদালতের কাছে একটি স্বতন্ত্র কমিটি বা অভিযেগ সেল গঠন করার জন্য আবেদন করেন, যাতে এ ধরনের ঘটনাগুলির নিরপেক্ষ বিচার হতে পারে এবং পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ করা যায়।

অটো চালককে মারধর
প্রসঙ্গত, গত ৮ এপ্রিল পরদেশিপুরার দুই কনস্টেবল এক অটো চালককে মাস্ক না পরার জন্য বেধড়ক মারধর করেন এবং এই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পরই তাদের সাসপেন্ড করে দেওয়া হয়। মালওয়া মিল গেটে কর্তব্যরত ওই দুই পুলিশ কর্মী এক অটোকে দাঁড় করিয়ে তার চালককে জিজ্ঞাসা করেন যে তিনি কেন যথাযথভাবে মাস্ক পরেননি। প্রসঙ্গত, ওই চালকের মাস্ক নাক থেকে ভুলবশত নেমে এসেছিল। জানা গিয়েছে, ওই অটো তালক দুই পুলিশ কর্মীকে এও জানিয়ে ছিলেন যে তাঁর বাবা অসুস্থ এবং হাসপাতালে ভর্তি, তাঁকে দেখতে যাচ্ছেন কিন্তু অটো চালকের কথায় আমল না দিয়ে ওই দুই পুলিশ কর্মী তাঁকে থানায় যেতে বলেন। কিন্তু অটো চালক যেতে না চাইলে পুলিশ কর্মী ও অটো চালকের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায় এবং এরপর অটো চালককে প্রায় টানতে টানতে পুলিশ থানায় নিয়ে আসা হয় এবং অটো চালকের ছেলে ক্রমাগত দুই কনস্টেবলকে হাতজোড় করে তাঁর বাবাকে মারতে বারণ করে।

গত তিনমাসে চারটে ঘটনা
এটা ছাড়াও আবেদনকারীরা পুলিশি জুলুমের আরও তিনটে মামলা বর্ণনা করেন, যেখানে একজন আইনজীবী ও দুটজন সাংবাদিককেও মধ্যপ্রদেশের পুলিশ এভাবে মারধর করেছে। এই চারটে ঘটনাই ঘটেছে গত তিনমাসে।

আদালতের রায়
এরপরই পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্ট মন্তব্য করে যে পুলিশ কর্মীদের বরং কোভিড বিধিগুলি যেমন মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্বের নিয়ম অনুসরণ করা বা লকডাউন / করোনার কার্ফুর নিষেধাজ্ঞাগুলি মেনে চলার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সংবেদনশীল হয়ে লোকদের পরামর্শ দেওয়া উচিত।












Click it and Unblock the Notifications