লোকপালের সবুজ সংকেত, মহুয়া মৈত্রর বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের পথে সিবিআই
দুর্নীতি দমনকারী সাংবিধানিক সংস্থা লোকপাল আনুষ্ঠানিকভাবে সিবিআইকে তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্রর বিরুদ্ধে ক্যাশ ফর ক্যুয়েরি মামলায় চার্জশিট দাখিলের অনুমতি দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা বিতর্ক ও তদন্তের পরে এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে।
২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে লোকপালের নির্দেশে সিবিআই প্রথমে একটি প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। সেই রিপোর্ট লোকপালের কাছে জমা দেওয়ার পরই মামলাটি নতুন মোড় নেয়। অভিযোগ দর্শন হিরানন্দানি কিছু সুবিধা ও অর্থের বিনিময়ে সংসদে নির্দিষ্ট শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলার জন্য মহুয়া মৈত্রকে প্রভাবিত করেছিলেন। এই বিতর্কের জেরে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে লোকসভা থেকে বহিষ্কৃত হন তিনি।

এরপর ২০২৪ সালের মার্চে সিবিআই মহুয়া মৈত্র, দর্শন হিরানন্দানি ও আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনের ৭, ৮, ১২ ধারাসহ আইপিসির ১২০ বি ধারায় মামলা রুজু করে। তদন্ত সংস্থা তাঁর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালায়।
নতুন নির্দেশে লোকপাল জানিয়েছে ২০১৩ সালের আইনের ২০(৭)(এ) ও ২৩(১) ধারার অধীনে সিবিআই ৪ সপ্তাহের মধ্যে যথাযথ আদালতে চার্জশিট দাখিল করতে পারবে। সেইসঙ্গে চার্জশিট ও সংশ্লিষ্ট নথির কপি লোকপাল দপ্তরে জমা দিতে হবে।
লোকপাল আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে, চার্জশিট আদালতে জমা দেওয়ার পরই তারা তদন্ত সংস্থার দ্বিতীয় প্রার্থনা অভিযোগ গঠনের অনুমতি বিবেচনা করবে। আদালত যখন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রহণ করবে, তখনই লোকপাল পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।
এ বছরের অগাস্টে মহুয়া মৈত্র দিল্লি হাইকোর্টে অভিযোগ করেন যে লোকপালের কাছে জমা দেওয়া সিবিআই রিপোর্ট জমা পড়ার পরই তা মিডিয়ায় ফাঁস হয়ে যায়। আদালত স্পষ্ট করে দেয় এধরনের সংবেদনশীল মামলায় সংশ্লিষ্ট সকলেরই কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখতে হবে। বিচারপতি মন্তব্য করেন, "আমি পরিষ্কার জানিয়ে দিচ্ছি, কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখতেই হবে।"
এই নির্দেশের পর মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। সিবিআই এর চার্জশিট দাখিলের পর আদালতের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে এই বহুল আলোচিত মামলার পরবর্তী ধাপ।












Click it and Unblock the Notifications