মোদী ও রাহুল একই অপরাধে অভিযুক্ত! তদন্তে নির্বাচন কমিশন, বিজেপি ও কংগ্রেসের জবাবদিহি তলব
Lok Sabha Election 2024: নরেন্দ্র মোদী ও রাহুল গান্ধী। রাজনৈতিক মতাদর্শে দুজনেই ভিন্ন মেরুতে। কিন্তু তাঁরাই এবার একই অপরাধে অভিযুক্ত। যার তদন্তে নির্বাচন কমিশন।
মোদী ও রাহুল দুজনেই তাঁদের দলের তারকা প্রচারকও। তাঁদের বিরুদ্ধে নির্বাচনী বিধিভঙ্গের অভিযোগ ওঠায় বিজেপি ও কংগ্রেসের কাছে জবাবদিহি তলব করল নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচন ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই লাগু হয়েছে আদর্শ আচরণবিধি। বিশেষ করে তারকা প্রচারকদের বক্তব্য পেশের সময় সে সম্পর্কে বিশেষভাবে অবহিত থাকার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মোদী ও রাহুলের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ পেতেই জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৭৭ নম্বর ধারা প্রয়োগ করে পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের।
মোদীর বিরুদ্ধে কংগ্রেস ও রাহুলের বিরুদ্ধে বিজেপি ধর্ম, জাত, সম্প্রদায় ও ভাষার ভিত্তিতে ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। দুই দলকেই বলা হয়েছে ২৯ এপ্রিল সকাল ১১টার মধ্যে এই অভিযোগগুলির প্রসঙ্গে তাদের বক্তব্য কমিশনকে জানাতে। কমিশনের এই পদক্ষেপ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
মোদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পর্কে জানানো হয়েছে বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডাকে। রাহুলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের কথা কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকে জানানো হয়েছে। এটিই প্রথম ধাপ। দুই দলের বক্তব্য আসার পর কমিশন কী পদক্ষেপ করতে পারে তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে।
দলীয় প্রার্থী, তারকা প্রচারকদের আচরণ, দায়িত্ব সংক্রান্ত বিষয়গুলিতে সতর্ক থাকার প্রাথমিক দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দলের উপরই বর্তায় বলে জানিয়ে দিয়েছে কমিশন। উচ্চ পদে আসীন নেতারা প্রচারে কী ধরনের বক্তব্য রাখছেন, সেদিকেও নজর রাখছে কমিশন। ইতিমধ্যেই মডেল কোড অব কন্ডাক্ট লঙ্ঘনে কড়া পদক্ষেপ থেকে কমিশন যে বিরত থাকবে না, সে কথাও জানানো হয়েছে।
রাজস্থানের বাঁশওয়াড়ায় মোদীর বক্তব্য নিয়ে কমিশনে যায় কংগ্রেস। মোদী বলেছিলেন, কংগ্রেসের ম্যানিফেস্টো দেখে বোঝা যাচ্ছে তারা মা-বোনেদের সোনার হিসেব করে সেই সম্পত্তি বিতরণ করবে। মনমোহন সিং সরকারের আমলে বলা হয়েছিল, দেশের সম্পত্তির প্রথম অধিকার মুসলিমদের। ফলে বোঝাই যাচ্ছে সম্পত্তি কাদের মধ্যে বিতরণ করবে।
মোদী আরও বলেছিলেন, এই সম্পত্তি তাঁদের মধ্যে বিতরণ করা হবে যাঁদের সন্তানের সংখ্যা বেশি। অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে বিতরণ করবে। মানুষ কি তাঁদের কষ্টার্জিত উপার্জন অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে বিতরণ করা মেনে নেবেন? এটা কি অনুমোদন দেওয়া যায়?
রাহুল গান্ধী কেরলের কোট্টায়মে যে বক্তব্য রেখেছিলেন তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। রাহুল বলেন, কোনও কন্যাসন্তান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হলে তাঁর বাবা-মা অভিনন্দন জানান মালয়ালম ভাষায়। ভাই ভাইকে হারালেও মালয়ালম ভাষাতেই কথা বলেন। কেরল মানেই মালয়ালম, মালয়ালম মানেই কেরল। কিন্তু মোদী তাঁর ভাষণে বলছেন, এক দেশ, এক ভাষা, এক ধর্মের কথা। কীভাবে মানুষকে তামিল ভাষায় কথা বলা থেকে বিরত রাখা যায়? কীভাবে কেরলের মানুষের মালয়ালম ভাষায় কথা বলা বন্ধ করা যায়?












Click it and Unblock the Notifications