জানেন কি? স্ত্রী'য়ের সঙ্গে তুমুল ঝগড়া করেই তৈরি হয়েছিল গুগল ম্যাপ
স্বামী- স্ত্রীর ঝগড়া তো কত ব্যাপারেই হয় তা নিয়ে কে আর মাথা ঘামায়। স্থান যদিও আমেরিকা দম্পতি টি কিন্তু ভারতীয়। স্বামী আমেরিকার একটি বিখ্যাত কোম্পানি তে তখন টিঁকে থাকার ও ওপরে ওঠার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

সেটা ২০০৪ সাল। একদিন তার এক সহকর্মী তাকে স্বস্ত্রীক ডিনার করতে ডাকলেন বাড়িতে ঠিক রাত আটটায়। সাহেবদের ভীষন সময় জ্ঞান। আটটা মানে আটটা। ভারতীয় ভদ্রলোক দেখলেন অফিস থেকে বেরিয়ে স্ত্রী'কে তুলে সাহেবের বাড়ি পৌঁছতে দেরী হয়ে যাবে। তাই দুজনের আলোচনা মত স্ত্রী বাড়ি থেকে বেরিয়ে ঠিক আটটায় সাহেবের বাড়ি পৌঁছালেন ডিনার করতে। ভারতীয়ও ছটায় অফিস থেকে বেরিয়ে পড়লেন যাতে জায়ার আগেই পৌঁছে যেতে পারেন।
দুরত্ব অনুযায়ী সেটাই হবার কথা। কিন্তু বিধি বাম। ভদ্রলোক ফেললেন রাস্তা হারিয়ে। অনেক খোঁজাখুঁজি করে গলদ ঘর্ম হয়ে যখন সাহেবের বাড়ি পৌঁছালেন তখন রাত দশটা। তার বৌ ডিনার সেরে বাড়ি ফিরে গেছেন। খাওয়ার পাট সব চুকে গেছে। ভদ্রলোক খালি পেটেই বাড়ি ফিরলেন।
অপমানিত স্ত্রীর অগ্নি শর্মা মুর্তি দেখে তাকে আর না ঘাঁটিয়ে আবার ফেরত এলেন অফিসে। কেউ কেউ বলেন আসলে বৌ তাকে সে রাতে বাড়িতে ঢুকতেই দেয় নি, তা যাই হোক, সারা রাত খালি পেটে তো ঘুম এল না। তিনি সারা রাত শুধু চিন্তা করলেন। না না, কি করে বৌয়ের মান ভাঙ্গাবেন বা বৌকে টাইট দেবেন সে ব্যাপারে নয়, ভাবলেন তার মত প্রতিদিন কত লোক তো রোজ রাস্তা হারিয়ে ফেলে। তাহলে কি উপায়ে এটা আটকানো যায়। ভাবলেন আচ্ছা,সবার পকেটে যদি শহরের একটা ম্যাপ দেওয়া যায় কেমন হয়?
পরের দুটো দিন গেল তার টিমের সবাই কে বোঝাতে যে এটা সত্যি করা সম্ভব। সকলে যখন বিশ্বাস করলেন পরের একটা বছর সকলের প্রচুর পরিশ্রম হল সেটা তৈরী করতে আর চালু করতে। ২০০৫ সালে আমেরিকায়, ২০০৬ সালে লন্ডনে আর ২০০৮ সালে ভারতবর্ষে এল গুগল ম্যাপ।
এখন সারা পৃথিবীতে প্রতি সাতজনে একজন ব্যবহার করে এই গুগল ম্যাপ যার আবিষ্কারকর্তা এক ভারতীয়, সুন্দর পিচাই, যিনি আজ ধাপে ধাপে উঠে গুগুলের বড়কর্তা
(সিইও)। তবে আজও তিনি স্বীকার করেন যে স্ত্রী যদি সেদিন রাগ না করত তবে হয়ত এতবড় আবিষ্কারটাই হত না।












Click it and Unblock the Notifications