সরকারের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান কিষাণ মোর্চার! কৃষকদের সঙ্গে কেন্দ্রের চতুর্থদফার আলোচনা ব্যর্থ
রবিবার গভীর রাতে কেন্দ্রের সঙ্গে কৃষক সংগঠনগুলির চতুর্থ দফার আলোচনা শেষ হয়েছিল। সেই আলোচনায় সরকারের তরফ থেকে বেশ কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কৃষক সংগঠনগুলি জানিয়েছিল, এব্যাপারে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে তারা পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবেন। এব্যাপারে সোমবার বিকেলে কৃষক সংগঠনগুলির অবস্থান সামনে এসেছে। ইউনাইডেট কিষাণ মোর্চার তরফে বলা হয়েছে তারা কেন্দ্রীয় সরকারের ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছে।
কৃষক সংগঠনগুলির তরফে বলা হয়েছে, তারা মিডিয়া রিপোর্টের ভিত্তিতে জানতে পেরেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার A2+FL+50%-এর ভিত্তিতে একটি অধ্যাদেশ আনার পরিকল্পনা করছে। তারা জানিয়েছে C2+50%-এর নিচে কিছু গ্রহণ করা হবে না।

সরকারের দেওয়া প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, ভুট্টা, তুলো, অড়হর, মসুর ও উরদ-সহ পাঁচটি ফসল কেনার জন্য ন্যাশনাল কনজিউমার কোঅপারেটিভ ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া লিমিটেড, ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল কোঅপারেটিভ মার্কেটিং ফেডারেশন পাঁচ বছরের চুক্তি করবে। এদিন কিষাণ মোর্চা বলেছে তারা শুধুমাত্র C2+50%-এর ভিত্তিতে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের গ্যারান্টি চায়। কিষাণ মোর্চা বলেছে, বিজেপি নিজেই ২০১৪ সালের নির্বাচনী ইস্তেহারে ওই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। যদি মোদী সরকার যে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে না পারে, তাহলে তা জনগণকে জানানো উচিত বলে মন্তব্য করেছে কিষাণ মোর্চা।
কিষাণ মোর্চা আরও বলেছে, স্বামীনাথন কমিশন ২০০৬ সালে তাদের রিপোর্টে কেন্দ্রীয় সরকারকে C2+50%-এর ভিত্তিতে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল। সেই সময় কমিশন সব ফসলের জন্য এমএসপির গ্যারান্টি দিতে বলেছিল। তাহলে কৃষকরা তাদের ফসল নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করতে পারবে এবং লোকসানের মুখে পড়বে না বলেও উল্লেখ করা হয়েছিল।
কৃষকদের তরফে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের কাছে ঋণ মকুব, বিদ্যুতের বেসরকারিকরণ না করা, সরকারি ফসল বিমা প্রকল্প, ষাট বছরের বেশি বয়সী কৃষকদের দশ হাজার টাকা করে মাসিক পেনশনের দাবি করা ছাড়াও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্র টেনিকে বরখাস্ত করার দাবি করা হয়েছে।
কিষাণ মোর্চার তরপে দেওয়া বিবৃতিতে কৃষকদের সংগ্রামকে তীব্র করার কথা বলা হয়েছে। মোদী সরকারের বিরুদ্ধে কর্পোরেট দুর্নীতির অভিযোগ করা হয়েছে। কিষাণ মোর্চা জানিয়েছে, তাদের পরবর্তী সভা হবে ২১-২২ ফেব্রুয়ারি। সেখানেই পরবর্তী কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হবে।
কৃষক নেতা গুরনাম সিং চাদুনি সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় রয়েছে। সরকারের কাছে তিনি তৈলবীজ ও বাজরাকেও ন্যূনতম সহামূল্যের অধীনে আনার দাবি করেছেন। যতক্ষণ না পর্যন্ত কৃষকদের দাবির বাস্তবায়ন হচ্ছে, ততক্ষণ হরিয়ানার কৃষ্কদের আন্দোলন তলবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, কৃষকদের সঙ্গে চতুর্থ দফার আলোচনা শুরু হয়েছিল রবিবার রাত সোয়া আটটা নাগাদ। যা শেষ হয় রাত একটার দিকে। এই আলোচনায় অংশ নিয়ে ছিলেন, কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণমন্ত্রী অর্জুন মুন্ডা, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই। সেখানে ছিলেন পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানও। চণ্ডীগড়ের মহাত্মা গান্ধী স্টে ইনস্টিটিউট অফ পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে এই বৈঠক হয়। এর আগে গত আট, বারো ও পনেরো ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও কৃষক নেতারা বৈঠকে বসেছিলেন।












Click it and Unblock the Notifications