জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কা! এবার থেকে পেট্রোল পাম্পে পাওয়া যাবে কেরোসিন, কত দিনের জন্য? বড়সড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রভাব এবার বিশ্ব জ্বালানি বাজারে পড়তে শুরু করেছে। ইরান এবং আমেরিকার সংঘাতের কারণে ভবিষ্যতে জ্বালানির ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আর সেই কারণে যে থেকেই সতর্ক পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। সাধারণ মানুষের সমস্যা কমানোর জন্য কেরোসিন সরবরাহে বড়সড় ছাড় ঘোষণা করা হয়েছে।

গতকাল (রবিবার) পেট্রোলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের তরফ থেকে একটি গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সেই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, কেরোসিন তেল পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম (PDS)-এর মাধ্যমে আবার সরবরাহ শুরু করা হবে। ফলে দেশের একাধিক প্রান্তে সাধারণ মানুষ খুব সহজেই এই জ্বালানি পেয়ে যেতে পারবেন।
সরকার জানিয়ে দিয়েছে যে, প্রত্যেকটি জেলায় সবচেয়ে বেশি দুটি পেট্রোল পাম্পে কেরোসিন মজুত রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে, রিটেল চ্যানেলের মাধ্যমে পাবলিক সেক্টরের তেল সংস্থাগুলিকে সরাসরি কেরোসিন বিতরণের ছাড় দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও তাড়াতাড়ি এবং সহজ করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আর এই সিদ্ধান্তটি আপাতত ৬০ দিনের জন্য কার্যকর থাকবে। এই ৬০ দিনের মধ্যে সাধারণ মানুষেরা পেট্রোল পাম্প থেকেই কেরোসিন সংগ্রহ করতে পারবেন। সবথেকে বড় বিষয় হল যে, ডিলার অথবা এজেন্টদের আর আলাদা করে লাইসেন্স নিতে হবে না, যা এতদিন পর্যন্ত বাধ্যতামূলক ছিল। কেরোসিন পরিবহণের ক্ষেত্রেও নিয়ম অনেকটা শিথিল করা হয়েছে। জানানো হয়েছে যে, ট্যাঙ্কার চালানোর জন্য অতিরিক্ত লাইসেন্সের প্রয়োজন হবে না। ফলে দ্রুত বিভিন্ন জায়গায় জ্বালানি পৌঁছে দেওয়া সহজ হয়ে যাবে।
সরকার স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে, এই কেরোসিন শুধুমাত্র রান্না এবং আলো জ্বালানোর মতো গৃহস্থালির কাজে ব্যবহার করা যাবে। অন্য কোনোরকম কাজে এর ব্যবহার অনুমোদিত নয়। এছাড়াও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, প্রত্যেকটি রিটেল পাম্পে সর্বোচ্চ ২৫০০ লিটার পর্যন্ত কেরোসিন মজুত রাখা যাবে। তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে কেন্দ্রের নির্দেশিকা কঠিন ভাবে মেনে চলার কথাও বলা হয়েছে।
কেন্দ্র জানিয়ে দিয়েছে যে, বিশেষ পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য পেট্রোলিয়াম আইন ১৯৩৪ ও ২০০২-এর অধীনে এই ধরনের ছাড় দেওয়া যায়। এই সিদ্ধান্ত বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে জ্বালানির দাম যদি আরও বেড়ে যায় অথবা সরবরাহ করার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়, তাহলে এই পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের জন্য এক বড় স্বস্তি এনে দিতে পারে।












Click it and Unblock the Notifications