কেরল বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: সমীক্ষায় ইউডিএফের এগিয়ে থাকার পূর্বাভাস, হারার ইঙ্গিত এলডিএফের
কেরলের আসন্ন ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রকাশিত সি ভোটারের মেগা সমীক্ষা ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ)-এর পক্ষে সুস্পষ্ট অগ্রগতির পূর্বাভাস দিচ্ছে। এটি ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন, যখন লেফট ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এলডিএফ) এক ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেছিল।
সমীক্ষার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ইউডিএফ এবার ৬৯-৮১টি আসনে জয়ী হতে পারে, যেখানে এলডিএফ ৫৬-৬৯টি আসনে নেমে আসার সম্ভাবনা। বিজেপি নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ) ১-৫টি আসন পর্যন্ত পেতে পারে। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের নির্বাচনে এলডিএফ ১৪০টির মধ্যে ৯৯টি আসনে জিতে টানা দ্বিতীয়বার সরকার গঠন করে, ইউডিএফ ৪১টি এবং এনডিএ কোনও আসন জয় করতে পারেনি।

গত ১ ডিসেম্বর থেকে ২৬ মার্চের মধ্যে ৮৯,৬৯৩ জন অংশগ্রহণকারীর প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে এই ব্যাপক সমীক্ষাটি পরিচালিত হয়েছে। এটি কেরলের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এলডিএফ-এর ভোট ক্ষয়, ইউডিএফ-এর ব্যাপক পুনরুদ্ধার এবং এনডিএ-এর ক্রমবর্ধমান অগ্রগতির চিত্র স্পষ্ট করে, যা একটি প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতি তুলে ধরে।
২০২১ সালে বেশিরভাগ জেলায় ব্যাপক জয় পেলেও, এলডিএফ দক্ষিণ কেরলে কিছুটা নেতৃত্ব ধরে রেখেছে। তিরুবনন্তপুরম (৮-১০) এবং আলেপ্পিতে (৬-৮) তাদের জয়ের পূর্বাভাস থাকলেও, পথনমথিট্টায় এলডিএফ তীব্র ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে, যেখানে ইউডিএফ এখন ৩-৫টি আসনে এগিয়ে।
২০২১ সালে এলডিএফ-এর আধিপত্য থাকা মধ্য কেরল এখন ইউডিএফ-এর দিকে প্রবলভাবে ঝুঁকেছে। ইউডিএফ এরনাকুলাম, কোট্টায়ম এবং ইদুক্কি জুড়ে আসন জিতে ৫৩টির মধ্যে প্রায় ৩৩টি লাভ করবে বলে অনুমান। এই অঞ্চলে ইউডিএফ প্রায় ৩৩, এলডিএফ প্রায় ২৪ এবং এনডিএ ১টি আসন পেতে পারে।
উত্তর কেরলে এলডিএফ কান্নুর এবং কাসারগড়ের মতো ঐতিহ্যবাহী শক্ত ঘাঁটি ধরে রাখলেও, ইউডিএফ মালপ্পুরম (১৪-১৬) এবং ওয়ানাড (২-৩) জেলায় তাদের আধিপত্য সুসংহত করছে, যা ২০২১ সালের থেকে একটি বিভক্ত রায়ের দিকে ইঙ্গিত করছে।
এই সমীক্ষা একটি সুস্পষ্ট প্রবণতা তুলে ধরেছে। ২০২১ সালে এলডিএফ-এর আধিপত্য এখন চাপের মুখে, ক্ষমতা-বিরোধী মনোভাব এবং বিভিন্ন অঞ্চলে ভোট ক্ষয় স্পষ্ট। এই পরিবর্তনের ফলে ইউডিএফ বিশেষত মধ্য ও উত্তর কেরলে উপকৃত হচ্ছে। এনডিএ ক্রমশ আরও প্রাসঙ্গিক তৃতীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে, বিশেষ করে কিছু নির্দিষ্ট শহুরে নির্বাচনী এলাকায়।
অনেক নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থী-কেন্দ্রিক হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের কারণে, ২০২৬ সালের নির্বাচন বিগত নির্বাচনের চেয়ে অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক হতে চলেছে। মূল যুদ্ধক্ষেত্রগুলিতে ফলাফল সামান্য ব্যবধানের ওপর নির্ভরশীল থাকবে।
মনোরমা নিউজ সি-ভোটার সমীক্ষাটি কেরলের অন্যতম বৃহৎ প্রাক-নির্বাচনী জনমত সমীক্ষা, যেখানে ৮৯,৬৯৩ জন প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। এই সমীক্ষা ১৪০টি বিধানসভা কেন্দ্র, অঞ্চল এবং জনসংখ্যাগত গোষ্ঠীর সঠিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেছে। সমীক্ষার ফলাফল তিনটি অংশে প্রকাশিত হয়েছে।
জনমত সমীক্ষার জন্য নমুনা ১৪ থেকে ২৬ মার্চের মধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছিল। এছাড়াও, ১ ডিসেম্বর থেকে ২০ মার্চের মধ্যে ট্র্যাকার এবং স্ন্যাপ পোল পরিচালিত হয়। ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন ফর পাবলিক অপিনিয়ন রিসার্চ (WAPOR) এবং প্রেস কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া-এর নির্দেশিকা মেনেই এই সমীক্ষা চালানো হয়েছে।
-
ইরানে নিখোঁজ মার্কিন পাইলট উদ্ধার, 'আমরা উদ্ধার করেছি', সগর্বে ঘোষণা ডোনাল্ড ট্রাম্পের -
'৪মের পরে তৃণমূলের সব পাপের হিসাব হবে', কোচবিহারের জনসভা থেকে অলআউট আক্রমণে প্রধানমন্ত্রী মোদী -
উত্তরের কোচবিহার দিয়ে নতুন করে বাংলায় ভোটপ্রচার শুরু প্রধানমন্ত্রী মোদীর -
ঋষভ পন্থের ব্যাটে প্রথম জয় পেল লখনউ, ফের হারল হায়দরাবাদ -
ইডেনে প্রবল বৃষ্টিতে ভেস্তে গেল পাঞ্জাব ম্যাচ, বরুণ দেবের কৃপায় পয়েন্টের খাতা খুলল কেকেআর -
আর্টেমিস অভিযানে যাওয়া মহাকাশচারীরা যোগাযোগ হারাবেন পৃথিবীর সঙ্গে!











Click it and Unblock the Notifications