নির্বাচন কমিশনের জবাবেও হরিয়ানা সরকারকে কাঠগড়ায় তুললেন কেজরিওয়াল, বললেন ভোটকে প্রভাবিত করতে চাইছে
ভোটের বাকি আর মাত্র ৫ দিন। আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি রয়েছে দিল্লি বিধানসভা নির্বাচন। অথচ তার আগে দিল্লি উত্তেজিত যমুনার বিষাক্ত জলকে কেন্দ্র করে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে কেজরিওয়ালের মন্তব্যে। যার জন্যে নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত তাঁকে সতর্ক করেছে। অথচ তারপরও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল নির্বাচন কমিশনের নোটিশের জবাবে বিজেপি-শাসিত হরিয়ানার বিরুদ্ধে "যমুনার জল বিষাক্ত করার" ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেছেন।
কেজরিওয়ালের অভিযোগ, "যমুনার জল বিষাক্ত, দিল্লিকে তৃষ্ণার্ত রাখতে চায় হরিয়ানা"। তিনি দাবি করেছেন, "২৬-২৭ জানুয়ারির মধ্যে যমুনায় অ্যামোনিয়ার মাত্রা ৭ পিপিএম-এ পৌঁছে গিয়েছিল, যা সাধারণত ০.৫ পিপিএম হওয়া উচিত। এই মাত্রা ইচ্ছাকৃতভাবে বাড়ানো হয়েছে, যাতে দিল্লির পানীয় জল বিপজ্জনক হয়ে ওঠে"।

তিনি এটিকে "রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র" বলে অভিহিত করেছেন এবং দাবি করেছেন যে বিজেপি নেতৃত্বাধীন হরিয়ানা সরকার নির্বাচনের আগে দিল্লিকে অশান্ত করতে চায়। "তারা হয় দিল্লির মানুষের স্বাস্থ্য নষ্ট করতে চায়, নয়তো কৃত্রিম জলসংকট তৈরি করতে চায়", বলে বিস্ফোরক দাবি করেছেন কেজরিওয়াল।
নির্বাচন কমিশন কেজরিওয়ালের "যমুনার জলে বিষ মেশানো" অভিযোগের জন্য তাকে নোটিশ পাঠায় এবং তার মন্তব্যের ব্যাখ্যা দাবি করে। কেজরিওয়াল কমিশনের কাছে তার জবাবে বলেন, "যমুনার জলে উচ্চমাত্রার অ্যামোনিয়া উপস্থিত থাকা মানেই তা বিষাক্ত। দিল্লি জল বোর্ড ও বিশেষজ্ঞরা এই বিষক্রিয়ার প্রমাণ পেয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন বিজেপির প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। নির্বাচন কমিশন যদি বিজেপির পক্ষ নেয়, তাহলে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত আসবে"।
অবশ্য এক্ষেত্রে কেজরিওয়ালের করা মন্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেয় নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশন এই প্রসঙ্গে জানিয়েছে, "তারা কেজরিওয়ালের অভিযোগের সব তথ্য খতিয়ে দেখছে। কেজরিওয়াল নির্বাচন কমিশনের প্রতি "অনাদরসূচক মন্তব্য" করেছেন, যা গ্রহণযোগ্য নয়"।
হরিয়ানা সরকার দিল্লির জল বিষাক্ত করছে, এই প্রসঙ্গে চুপ থাকেনি এরাজ্যও। হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী নয়াব সিং সাইনি তীব্র প্রতিবাদ করেছেন এই বিষয়টির। এমনকি তিনি নিজে যমুনার জল পান করিয়ে দেখিয়েছেন যে সেই জল বিষাক্ত নয়। এবার হরিয়ানার বিজেপি সরকার কেজরিওয়ালের অভিযোগকে "ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক চক্রান্ত" বলে আখ্যা দিয়েছে। হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী নয়াব সিং সাইনি এই প্রসঙ্গে বলেছেন, "দিল্লির জল সমস্যার জন্য দায়ী তাদের নিজস্ব অব্যবস্থাপনা, হরিয়ানার কোনো দোষ নেই। আমরা কোনো জল সংকট তৈরি করিনি, বরং যথেষ্ট পরিমাণ জল সরবরাহ করেছি। কেজরিওয়াল ইচ্ছাকৃতভাবে নির্বাচনী সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন"।
প্রসঙ্গত, দিল্লির জনসংখ্যার বিশাল অংশ যমুনার জল ব্যবহারে নির্ভরশীল। অথচ গত কয়েক বছর ধরেই দেখা গিয়েছে দিল্লিতে যমুনার জল কীভাবে দূষিত হয়েছে। এমনকি বিষাক্ত ফ্যানায় ঢাকা পড়েছে যমুনা। যা নিয়ে আপ বিরোধীরা বহুবার সুর চড়িয়েছেন। আর এবারের ভোটও কার্যত এই একটা ফ্যাক্টরের ওপরই দাঁড়িয়ে। যা চাপ বাড়িয়েছে কেজরিওয়ালেরও। এখন দেখার বিষয় দিল্লিবাসী কোন বিষয়ের ওপর জোর দিচ্ছে? বিষাক্ত যমুনার ওপর নাকি আপ সরকারের দেওয়া বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের ওপর? উত্তর মিলবে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি, ফলাফলের দিনই।












Click it and Unblock the Notifications