কর্ণাটকে কংগ্রেসের নেতৃত্ব সঙ্কটের ফয়সালা হবে এবার দিল্লিতেই
কর্ণাটকের রাজনীতিতে মুখ্যমন্ত্রীর পদ নিয়ে টানাপোড়েন এখন তুঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমারের মধ্যে চলমান এই ক্ষমতার লড়াইয়ে সপ্তাহব্যাপী বৈঠক এবং রহস্যময় পোস্টের পর, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সময় প্রায় এসে গিয়েছে। সবার চোখ এখন কংগ্রেস হাইকমান্ডের দিকে।
কর্ণাটকের রাজনীতিতে এখন ঠিক ডেইলি সোপের মতো রোমাঞ্চ, নাটকীয়তার পরিস্থিতি। সিদ্দারামাইয়া এবং তাঁর প্রতিপক্ষ ডিকে শিবকুমার, উভয়ই নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে অনড়। এই অচলাবস্থার অবসান ঘটাতে এখন সবকিছু দিল্লির কংগ্রেস হাইকমান্ডের উপর নির্ভর করছে।

ভোক্কালিগা সম্প্রদায়ের প্রভাবশালী নেতা শিবকুমার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তাঁর ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে, অন্যদিকে ওবিসি নেতা সিদ্দারামাইয়া ২০২৮ সাল পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকার বিষয়ে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এই রাজনৈতিক নাটকটি এমন এক সময়ে ঘটছে যখন সিদ্দারামাইয়া সরকার তার পাঁচ বছরের মেয়াদের অর্ধেক সম্পন্ন করেছে।
এই সপ্তাহের শুরু থেকেই সিদ্দারামাইয়া এবং শিবকুমার উভয় পক্ষই তীব্র লবিং শুরু করেছে। উপ-মুখ্যমন্ত্রীর অনুগত প্রায় ১০ জন বিধায়ক তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করার জন্য দিল্লিতে গিয়েছেন। গুজব অনুযায়ী, কংগ্রেস নেতৃত্ব শিবকুমারকে সরকারের দ্বিতীয়ার্ধে মুখ্যমন্ত্রী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, যা এই বিরোধের মূল কারণ।
কর্ণাটকের এই রাজনৈতিক নাটকের সমাধান এখন দিল্লিতে হবে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ঘোষণা করেছেন যে, তিনি রাহুল গান্ধী, সিদ্দারামাইয়া এবং শিবকুমারসহ সিনিয়র নেতাদের নিয়ে একটি বৈঠক করবেন। খাড়গে বলেন, "পুরো হাইকমান্ড দল আলোচনা করে এই বিভ্রান্তির অবসান ঘটাবে।"
তবে বৃহস্পতিবার নতুন করে একটি মোড় আসে। সিদ্দারামাইয়ার ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জি পরমেশ্বর জানান, হাইকমান্ড সিদ্ধান্ত নিলে শিবকুমারকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মেনে নিতে তার কোনও আপত্তি নেই। এর কিছুক্ষণ পরেই, সিদ্দারামাইয়ার আর এক সহযোগী জমির আহমেদ খান জোর দিয়ে বলেন যে, ২০২৮ সাল পর্যন্ত শীর্ষ পদ খালি নেই।
অন্যদিকে, শিবকুমার প্রথমে এক্স-এ একটি রহস্যময় পোস্ট করেন। সেখানে লেখা ছিল, "কথার শক্তিই বিশ্বের শক্তি। পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় শক্তি হল নিজের কথা রাখা।" পরে অবশ্য তিনি এমন কিছু লেখার কথা অস্বীকার করেন।
রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি শিবকুমার এর আগে বলেছিলেন যে, দলে মাত্র ৫-৬ জন ব্যক্তি ক্ষমতা ভাগাভাগির "গোপন চুক্তি" সম্পর্কে জানেন। তিনি বলেন, "আমি নিজেকে মুখ্যমন্ত্রী করার জন্য বলিনি। এটা আমাদের পাঁচ-ছয় জনের মধ্যে একটি গোপন চুক্তি।"
আশ্চর্যজনকভাবে, শিবকুমার যখন সপ্তাহান্তে বেঙ্গালুরুতে ছিলেন, তখন তিনি কংগ্রেস সভাপতি খাড়গের সঙ্গে দেখা করেননি। খাড়গে সিদ্দারামাইয়ার সঙ্গে এক ঘণ্টা বৈঠক করেন। সূত্র জানায়, শিবকুমার রাহুল গান্ধীর সঙ্গেও কথা বলতে পারেননি।
এই ক্ষমতার দ্বন্দ্বের মধ্যেও উভয় নেতা জানিয়েছেন যে, তারা কংগ্রেস হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত মেনে চলবেন। তারা আরও নিশ্চিত করেছেন যে, ১৪০ জন কংগ্রেস বিধায়ক ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন এবং বিজেপি-র আগাম নির্বাচনের দাবিকে উড়িয়ে দিয়েছেন।
সিদ্দারামাইয়া তাঁর অনুগত বিধায়কদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করছেন এবং মন্ত্রিসভায় রদবদলের জন্য চাপ দিচ্ছেন, যা তার অবস্থান সুসংহত করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। শিবকুমার চান দল প্রথমে নেতৃত্ব পরিবর্তনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিক।
কর্ণাটকে কংগ্রেস সরকারের এই নেতৃত্ব সংকটের মূলে রয়েছে "আড়াই বছরের ফর্মুলা"। সম্প্রতি রাজস্থান এবং ছত্তিশগড়েও দলটি এই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল এবং উভয় নির্বাচনেই ক্ষমতা হারায়। কর্ণাটক নিয়ে ১ ডিসেম্বরের আগে একটি সিদ্ধান্ত আশা করা হচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications