Jharkhand Assembly Election 2024: বাড়ি থেকে দূরে, ঝাড়খণ্ডের পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে চর্চা ভোটে
আগামী ১৩ তারিখ ঝাড়খণ্ডে প্রথম দফার ভোট। শাসক - বিরোধী জোটের তরফ থেকে ঝাড়খণ্ডে উন্নয়নের বার্তা দেওয়া হচ্ছে। প্রান্তিক মানুষ, আদিবাসী, জনজাতির জীবন জীবিকা নিয়েও বার্তা দেওয়া হচ্ছে প্রচারে৷ কিন্তু সেই সব কি কানে পৌঁছাচ্ছে ঝাড়খণ্ডের পরিযায়ী শ্রমিকদের?
কেরলের এর্নাকুলাম জেলায় কাজের জন্য থাকেন নির্মাণকর্মী লখন ওরাওঁ৷ তিনি খ্রিস্টমাসের ছুটির সময় তাঁর বাড়ি ফিরবেন। তাঁর বাড়ি ঝাড়খণ্ড রাজ্যের রাজধানী রাঁচির পশ্চিমে লোহারদাগায়। তিনি নিজের রাজ্যের ভোট থেকে তাহলে কি দূরে?

লখন বলেন, " আমি এখানে প্রতিদিন ৯০০ টাকা আয় করি। বাড়ি গেলে কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫ দিনের কাজ হারাব। নভেম্বর মাসে আয় হারানোর সামর্থ আমার নেই। "লখন বলেছেন, গত ১০ বছর ধরে কেরলে আছেন তিনি।
ভারতের অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৬ - ১৭ সালের রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছিল৷ ঝাড়খণ্ডের কর্মজীবী জনসংখ্যা ২০০১ থেকে ১০ বছরে প্রায় ৫০ লক্ষ কমেছিল। পরিযায়ী শ্রমিকদের সংখ্যা ঝাড়ণ্ডে বেশি অনেকটাই। তথ্যে এও বলা হয়, প্রতি বছর ৯০ হাজারের বেশি মানুষ ধানবাদ থেকে হাওড়া যায়৷
এবার ঝাড়খণ্ডে পরিযায়ী শ্রমিকরা কত সংখ্যায় ভোট দেবেন? তাই নিয়ে চর্চা হচ্ছে। কারণ, সম্প্রতি ছটপুজো গেল৷ সেই কারণে পরিযায়ী শ্রমিকদের অনেকেরই বাড়ি ফেরার সম্ভাবনা থাকছে। তবে তারা পুজো শেষে ফের কাজে ফিরে যাবেন কী না। তাই নিয়েও প্রশ্ন আসছে। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক কে রবি কুমার জানান, এই বৃহত্তর অংশকে ভোট দেওয়ায় উৎসাহিত করা চ্যালেঞ্জ। রবি কুমার মনে করেন, এই রাজ্যের জনসংখ্যার প্রায় ১৩ থেকে ১৫ শতাংশ বাইরে বাস করে।
তথ্য বলছে ঝাড়খণ্ডের আদিবাসী অঞ্চলের পরিযায়ী শ্রমিকদের বড় অংশ খনি অঞ্চলে কাজ করেন। এছাড়াও নির্মাণ কাজের সঙ্গেও জড়িয়ে। ২০২১ - ২০২২ সালের পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রকের তথ্য হতবাক করেছে। মাথাপিছু আয়ের ক্ষেত্রে চতুর্থ সর্বনিম্ন জায়গায় ঝাড়খণ্ড। আগে রয়েছে বিহার, ইউপি ও মণিপুর।
ঝাড়খণ্ডের আদিবাসী ভোট অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য। কারণ, শেষ আদমসুমারি মতে, উপজাতি জনসংখ্যা রাজ্যের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৬ শতাংশ। ৮১ টি বিধানসভা আসন। তার মধ্যে ২৮ টি উপজাতি প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত। ২০১৯ সালে ২৫ টি আসনে জিতেছিল বিজেপি৷
কিন্তু এবার শাসক - বিরোধী দুই শিবিরই জোটে রয়েছে। প্রান্তিক এলাকাগুলির ভোট পাওয়ার ক্ষেত্রে সকলেই মরিয়া। বিজেপি, কংগ্রেস, জেএমএম সব রাজনৈতিক দলই প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। আরএসএস স্থানীয়ভাবে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচার চালাচ্ছে। বিজেপিকে ভোট দিলে উন্নয়ন হবে। সেই বার্তা মানুষকে বোঝানো চলছে।
একই লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে শাসক শিবিরও। এই পরিস্থিতিতে পরিযায়ী শ্রমিকদের ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের বড় অংশের ভোট কোন দিকে যায়। সেদিকেও জল মাপা হচ্ছে।
উপজাতি ভোটারদের মধ্যে জেএমএমের শক্তিশালী প্রভাব আছে। শিবু সোরেন ঝাড়খণ্ডের গঠনের সঙ্গে জড়িয়ে। ফলে সেই ভাবাবেগ কাজ করে সর্বত্র। জেএমএম কি তাদের দূর্গ ধরে রাখতে পারবে? সেই প্রশ্নও উঠছে৷












Click it and Unblock the Notifications