ডিভিসির জল ছাড়া প্রসঙ্গে মমতার অভিযোগ ভিত্তিহীন, তথ্য সামনে এনে বড় দাবি জল শক্তি মন্ত্রীর
বিজয়া দশমী মিটতে না মিটতেই ডিভিসির জল ছাড়া নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। বিজেপিকে বাংলা-বিরোধী বলে উল্লেখ করে জল ছেড়ে মানুষকে বিপদে ফেলার জন্য কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে কাঠগড়ায় তোলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
যদিও বিজেপি দাবি করেছিল, মুখ্যমন্ত্রীর এই দাবি ভিত্তিহীন। এবার একই দাবি করল কেন্দ্রীয় জল শক্তি মন্ত্রক।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'একতরফা ও ইচ্ছাকৃত' জল ছাড়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জল শক্তি মন্ত্রী সি আর পাতিল। দুর্গাপুজার সময় দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (ডিভিসি)-এর জল ছেড়ে রাজ্যের কিছু অংশ প্লাবিত করার অভিযোগের জবাবে পাতিল বলেছেন, প্রকৃত জলের পরিমাণ অভিযোগের অর্ধেকেরও কম ছিল।
দামোদর ভ্যালি রিজার্ভার রেগুলেশন কমিটি (ডিভিআরআরসি) থেকে প্রাপ্ত তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে পাতিল জানান, মোট ৭০,০০০ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। এর মধ্যে মাইথন জলাধার থেকে ৪২,৫০০ কিউসেক এবং পাঞ্চেত জলাধার থেকে ২৭,৫০০ কিউসেক জল ছাড়া হয়।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "পশ্চিমবঙ্গের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী টুইটে যে দেড় লক্ষ কিউসেক জল ছাড়ার অভিযোগ করেছেন, বাস্তবে তা হয়নি।" এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন যে, ডিভিসি "উৎসবের সময় আমাদের পশ্চিমবঙ্গকে প্লাবিত করার জন্য" ১.৫ লক্ষ কিউসেকের বেশি জল ছেড়েছে। তিনি এটিকে উৎসবের মরশুমে কোটি কোটি মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টির একটি "ইচ্ছাকৃত কৌশল" বলে অভিহিত করেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই জল ছাড়াকে "লজ্জাজনক, অসহনীয় এবং অগ্রহণযোগ্য" বলে আখ্যা দেন এবং এর প্রতিবাদ জানান। অভিযোগের জবাবে পাতিল বলেন, ডিভিআরআরসি জলাধার পরিচালনার ক্ষেত্রে 'একটি সুসংগঠিত এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি' অনুসরণ করে, যা দামোদর ভ্যালি রিজার্ভার রেগুলেশন ম্যানুয়াল দ্বারা পরিচালিত।
মন্ত্রী আরও যোগ করেন যে জল ছাড়ার আগে কমিটি রাজ্যের সেচ ও জলপথ অধিদফতরের মতামত চেয়েছিল। কিন্তু কোনও মন্তব্য বা ইনপুট পাওয়া যায়নি। তিনি জানান, হুগলি জেলার হরিণখোলায় জলের স্তর সতর্কীকরণ সীমার নীচে থাকায় নিম্ন দামোদর এলাকার পরিস্থিতি "স্বাভাবিক" রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications