মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা প্রত্যাহার! লোকসভা নির্বাচনের আগে জয় অনন্ত দেহাদ্রাই দিলেন 'বড়' শর্ত
ডিসেম্বরে সাংসদ পদ খোয়ানোর পরে বর্তমানে কৃষ্ণনগরে প্রচারে ব্যস্ত তৃণমূল নেত্রী মহুয়া মৈত্র। অন্যদিকে তাঁর বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টে করা মানহানির মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন আইনজীবী জয় অনন্ত দেহাদ্রাই। তবে তার জন্য তিনি শর্ত দিয়েছেন মহুয়া মৈত্রকে।
বৃহস্পতিবার শুনানিতে উপস্থিত দেহাদ্রাইয়ের আইনজীবী বলেন, তাঁর মক্কেল মামলা প্রত্যাহারে তৈরি যদি মহুয়া মৈত্র বিবৃতি দিয়ে বলেন, তিনি তাঁর ( জয় অনন্ত দেহরাই) বিরুদ্ধে এমন বিবৃতি দেবে না, যা স্পষ্টত মিথ্যা।

- দেহাদ্রাইয়ের মামলা প্রত্যাহার
এক সর্ব ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি জালান বলেছেন, দেহাদ্রাইয়ের অবস্থান ইতিবাচক, কারণ উভয়পক্ষই যদি একে অপরের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত অভিযোগ না করার বিষয়ে সমঝোতায় আসে...। যদি এই বিরোধকে পাবলিক ডোমেনের বাইরে নিয়ে বিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষের সামনে বা ব্যক্তিগতভাবে চালানো সম্ভব হয়, তবে এটি মনে হয়...। সেই সময় দেহরাইয়ের আইনজীবী বলেন, তিনি নিঃশর্তভাবে মামলাটি প্রত্যাহার করছেন। সেই সময় আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে।
- অবস্থান পরে জানাবেন মহুয়ার আইনজীবী
দেহাদ্রাই অভিযোগ করেছেন, পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন সাংসদ তাঁর বিরুদ্ধে মানহানিকর মন্তব্য করেছেন এবং সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তিনি (জয় অনন্ত দেহাদ্রাই) বেকার এবং তাঁর থেকে প্রত্যাখ্যাত। প্রতিক্রিয়া মহুয়া মৈত্রের আইনজীবী বলেছেন, এব্যাপারে মক্কেলের কথা তিনি পরে জানাবেন।
- মানহানির মামলায় কী ছিল?
প্রসঙ্গত জয় অনন্ত দেহাদ্রাই মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে মানহানিকর অভিযোগ করা থেকে বিরত রাখার নির্দেশনা চেয়েছিলেন। দুই কোটি টাকার মানহানির মামলায় দেহাদ্রাই কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমের বিরুদ্ধে তাঁকে নিয়ে মানহানিকর বিষয় বস্তু সরিয়ে নিয়ে এবং সেই ধরনের বিষয় প্রকাশ না করতে আদেশ চেয়েছিলেন। তাঁর আবেদন ছিল এক্স হ্যান্ডের এবং গুগলের বিরুদ্ধেও।
- সাংসদ পদ যায় মহুয়ার
মূলত দেহাদ্রাইয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে গত ডিসেম্বরে মহুয়া মৈত্রের সাংসদ পদ বাতিল হয়। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, ব্যবসায়ী দর্শন হিরানন্দানির কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছিলেন। ঝাড়খণ্ডের বিজেপি সাংসদ বিষয়টি নিয়ে লোকসভার অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ করেন।
সেই সময় মহুয়া মৈত্র দেহরাই এবং দুবের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন। যদিও আদালত তৃণমূল নেত্রীর আবেদন খারিজ করে দেয় এবং বলে মহুয়া মৈত্র হিরানন্দানিকে সংসদের মেল আইডি শেয়ার করেছেন এবং তাঁর কাছ থেকে উপহার পেয়েছেন, এই অভিযোগ মিথ্যা নয়।
গত চার এপ্রিল জয় অনন্ত দেহাদ্রাইয়ের মামলার শুনানি শেষের সময় হাইকোর্ট বলেছিল, তাঁর বিরুদ্ধে কোনও নিষেধাজ্ঞা না থাকায় তাঁর মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও তিনি মহুয়া মৈত্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ রাখতে পারবেন না। অন্যদিকে বিচারপতি মহুয়া মৈত্রকে সতর্ক করে বলেছিলেন, তিনি দেহাদ্রাইয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা বিবৃতি দিতে কিংবা তাঁকে পাগল বলতে পারবেন না।












Click it and Unblock the Notifications