কর্ণাটকের ‘হানি ট্র্যাপ’ বিতর্ক, কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ লড়াইকেই কি প্রকট করে তুলছে?
কর্ণাটকের কংগ্রেস সরকারে নতুন করে 'হানি ট্র্যাপ' বিতর্ক তীব্র আকার ধারণ করেছে। রাজ্যের সমবায় মন্ত্রীকে এন রাজন্না বিধানসভায় অভিযোগ করেন যে তিনি ও আরও ৪৭ জনকে একটি পরিকল্পিত চক্রান্তের শিকার করা হচ্ছে। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিধানসভায় উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে ১৮ জন বিজেপি বিধায়ককে বরখাস্ত করা হয়েছে।
প্রথমে ঘটনাটি বিজেপি-কংগ্রেস রাজনৈতিক সংঘাত বলে মনে হলেও, পর্যবেক্ষকরা বলছেন যে এটি কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্বেরই একটি অংশ। রাজন্না দীর্ঘদিন ধরে মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। কিন্তু তিনি উপ-মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি ডি কে শিবকুমারের কট্টর সমালোচক। তিনি শিবকুমারের একাধিক পদ ধরে রাখার বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে কংগ্রেসের জাতীয় নেতৃত্বের কাছেও প্রশ্ন তুলেছেন।

রাজন্নার অভিযোগের ফলে কংগ্রেসের ভেতরকার বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন যে কিছু রাজনৈতিক নেতা তার ও অন্য নেতাদের রাজনৈতিকভাবে আটকাতে এই ষড়যন্ত্র চালিয়েছে। রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে যে, রাজন্নার অভিযোগের মাধ্যমে শিবকুমারকে পরোক্ষভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে, কারণ ২০২১ সালে বিজেপি মন্ত্রী রমেশ জারকিহোলির বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছিল।
রাজন্নার অভিযোগের জবাবে এদিন শিবকুমার বলেন, "শুধুমাত্র সংবেদনশীল ব্যক্তিরাই হানি ট্র্যাপের শিকার হয়"। তিনি আরও বলেন, "আপনি যদি হ্যালো বলেন, তারা হ্যালো বলবে। কিন্তু আপনি যদি সাড়া না দেন, তবে তারা কিছু করতে পারবে না"।
এদিকে, কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা সতীশ জারকিহোলি দাবি করেছেন যে এটি শুধু কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে নয়, বরং যেসব নেতা কংগ্রেসের অভ্যন্তরে শক্তিশালী অবস্থানে আছেন তাদেরই লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। বিজেপি এই বিতর্ককে কংগ্রেসের ভিতরে চলা ক্ষমতার লড়াইয়ের অংশ বলে আখ্যা দিয়েছে।
এদিকে, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। যদিও এটি "শুধু সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ" বলে দাবি করা হয়েছে, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে দলের অভ্যন্তরীণ সংকট সমাধানের জন্য হাইকমান্ড ইতিমধ্যে পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছে।
'হানি ট্র্যাপ' বিতর্ক কর্ণাটকের রাজনীতিতে কেবল কংগ্রেস-বিজেপি সংঘাতই নয়, কংগ্রেসের ভেতরকার ক্ষমতার লড়াইকে আরও প্রকট করে তুলেছে। এখন দেখার বিষয়, কংগ্রেস হাইকমান্ড কীভাবে এই সংকট মোকাবিলা করে এবং শিবকুমার ও সিদ্দারামাইয়ার মধ্যে চলা অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব কোন দিকে মোড় নেয়।












Click it and Unblock the Notifications