নিয়ম অমান্য আর দুর্বল পরিকল্পনা, এই কারণেই কি ইন্ডিগোর উড়ান বিপর্যয়? তদন্তে কেন্দ্র
দেশের বৃহত্তম বিমান সংস্থা ইন্ডিগোর ধারাবাহিক উড়ান বিপর্যয়কে কেন্দ্র করে এবার কড়া অবস্থান নিল কেন্দ্র। ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বের নজিরবিহীন পরিস্থিতি কেন তৈরি হলো, তা খতিয়ে দেখতে তদন্তের নির্দেশ দিল বিমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন (ডিজিসিএ)। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে নিয়ম ভাঙা, দুর্বল পরিকল্পনা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতাই এই সংকটের মূল কারণ।
ডিজিসিএ জানিয়েছে, সংশোধিত ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশনস (এফডিটিএল) বা উড়ান ডিউটি সময়সীমা সংক্রান্ত নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগেই প্রস্তুতির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলিকে। কিন্তু বারবার সতর্কবার্তা ও নির্দেশনা জারি করা সত্ত্বেও ইন্ডিগো সেই অনুযায়ী নিজেদের প্রস্তুত করতে ব্যর্থ হয়।

নিয়ন্ত্রকের দাবি, নতুন এফডিটিএলের দ্বিতীয় ধাপ সংক্রান্ত বিধি অনেক আগেই জানানো হলেও, ইন্ডিগো ঠিকমতো ক্রু উপলব্ধতার হিসেব করতে পারেনি। না হয়েছে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ, না হয়েছে রোস্টারের সঠিক পুনর্বিন্যাস। ফলস্বরূপ, নভেম্বর ২০২৫ এর শেষ দিক থেকে গোটা নেটওয়ার্ক জুড়ে শুরু হয় ফ্লাইট বাতিল ও দেরির সুনামি।
বিপর্যয় চরমে পৌঁছনোর পর ডাকা একটি পর্যালোচনা বৈঠকে ইন্ডিগো নিজেই স্বীকার করে, নতুন নিয়মে প্রকৃত কতজন ক্রু লাগবে তা তারা আগাম বুঝতে পারেনি। ডিজিসিএ র ভাষায়, সংস্থাটি "গুরুতর পরিকল্পনা ও মূল্যায়নের ঘাটতি" দেখিয়েছে এফডিটিএলের দ্বিতীয় ধাপ কার্যকর করার ক্ষেত্রে।
এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়ে যাত্রীদের ওপর। একের পর এক ফ্লাইট বাতিল, দীর্ঘ বিলম্ব ও বিশৃঙ্খল সময়সূচি কার্যত ভেঙে ফেলে ইন্ডিগোর নেটওয়ার্ক কাঠামো। ডিজিসিএ মনে করছে, পুরো ঘটনাক্রমে ইন্ডিগোর অভ্যন্তরীণ নজরদারি, প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও নিয়ম মানার সদইচ্ছা নিয়েই বড় প্রশ্ন উঠছে।
বিপর্যয়ের ব্যাপকতা বিবেচনা করে এবার চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই কমিটি খতিয়ে দেখবে কোথায় গাফিলতি হয়েছে, কীভাবে পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে ও নিয়ন্ত্রক দায়িত্ব পালনে ইন্ডিগো কতটা ব্যর্থ হয়েছে।
অন্যদিকে, যাত্রী স্বার্থ রক্ষার বার্তা দিয়ে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী রাম মোহন নাইডু বলেন,
"মানুষই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত জরিমানার অঙ্ক নিয়ে কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে যাত্রীদের আশ্বাস দিচ্ছি দায়িত্ব ঠিক করা হবে, ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
তিনি আরও জানান, সরকারের প্রতিক্রিয়া নিয়ে যে প্রশ্ন উঠছে, তা ভিত্তিহীন।
"মোদী সরকার পালিয়ে যায় না। প্রথম দিন থেকেই পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হয়েছে ও সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে," বলে স্পষ্ট মন্তব্য মন্ত্রীর।
সব মিলিয়ে, দেশের আকাশে সবচেয়ে বড় বিমান সংস্থার এই প্রশাসনিক হোঁচট শুধু পরিষেবার ব্যর্থতাই নয় বরং নিয়ম মানা ও পরিকল্পনার গুরুত্ব নতুন করে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল বলে মনে করছে বিমান মহল।












Click it and Unblock the Notifications