Champai Soren: হেমন্তের মাস্টারস্ট্রোক না অন্য পরিকল্পনা! চম্পাইকে মুখ্যমন্ত্রী পদে বসানোর নেপথ্য কোন কারণ
ভাই, ভাই-বউ-স্ত্রী কেউ নয়। নিজের পদে একেবারে অন্য ব্যক্তিকে বসিয়েছেন ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছেন চম্পাই সোরেন। প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা। ঝাড়খণ্ড মুক্তিমোর্চার প্রতিষ্ঠার সময় থেকে তিনি দলের সঙ্গে রয়েছেন।
জমি দুর্নীতি কাণ্ডে গ্রেফতারির এক ঘণ্টার মধ্যেই ঝাড়খণ্ডের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে চম্পাই সোরেনের নাম ঘোষণা করেন হেমন্ত সোরেন। প্রথমে শোনা যাচ্ছিল নিজের স্ত্রী কল্পনা সোরেনকে মুখ্যমন্ত্রী পদে বসাতে চাইছেন হেমন্ত সোরেন। বিজেপি নেতা নিশিকান্ত দুবে এমনই দাবি করেছিলেন। সেকারণে নাকি কল্পনা সোরেন বিধায়ক না হওয়া সত্ত্বেও দলীয় বিধায়কদের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

আবার নিশিকান্ত দুবে এমনও দাবি করেছিলেন যে কল্পনা মুখ্যমন্ত্রী পদে বসুন সেটা চাইছেন না তাঁর ভাই এবং ভাইয়ের স্ত্রী। যদিও নিশিকান্ত দুবের সেই দাবি নস্যাৎ করে দিয়েছিলেন হেমন্ত সোরেনের ভাই। তিনি পাল্টা বিজেপিকে নিশানা করে বলেছিলেন বিজেপি নিজেরাই জল্পনা করে নিজেদের মধ্যে দলাদলি করছে। সোরেন পরিবারের কোনও অশান্তি বা ভাঙন ধরেনি।
তারপরেই ইডির গ্রেফতারির কয়েকঘণ্টার মধ্যে চম্পাই সোরেনের নাম মুখ্যমন্ত্রী পদে ঘোষণা করে সকলকে চমকে দিয়েছেন হেমন্ত সোরেন। এক কথায় রাজনৈতিক দিক দিয়ে হেমন্ত সোরেনের এই পদক্ষেপকে মাস্টারস্ট্রোক বলা হচ্ছে। কারণ চম্পাই সোরেন দলের একেবারে শুরুর দিকের নেতা। ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা দলটি প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই তিনি দলের সঙ্গে রয়েছেন। হেমন্ত সোরেনের বাবা শিবু সোরেনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছেন তিনি।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে দলের প্রবীণ নেতা বলেই কি তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী পদে বেছে নিয়েছিলেন হেমন্ত সোরেন। সূত্রের খবর সোরেন পরিবারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং বিশ্বাসি এই চম্পাই সোরেন। দলের শুরু থেকেই যেহেতু তিনি শিবু সোরেনের সঙ্গে ছিলেন সেকারণে হেমন্ত সোরেনের সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং অত্যন্ত আস্থাভাজন নেতা। তাই প্রয়োজনে যদি পদ ফিরিয়ে নিতে হয় তাহলে সেই কাজ সহজ হবে। সেই সব ভেবে চিন্তেই তিনি এই পদক্ষেপ করেছেন বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে আরেকটি কারণও রয়েছে ঝাড়খণ্ডের বিজেপি প্রভাবিত এলাকা থেকে জয়ী হয়ে এসেছেন এই চম্পাই সোরেন।
কাজেই বিজেপির দাপটের মধ্যেও যে নিজের গড় ধরে রাখার মতো ক্ষমতা রাখে তার প্রভাব দলে থাকবে তাতে কোনও সন্দেহ নেই। সঙ্গে চম্পাই সোরেনকে প্রার্থী করার জেরের দলের অন্য নেতারাও বিদ্রোহ করতে পারবেন না। কারণ দলের অন্যতম প্রবীণ নেতা চম্পাই সোরেন। সব দিক বিবেচনা করেই একেবারে মোক্ষম চাল চেলেছেন হেমন্ত সোরেন। হেমন্তের এই চালে বিজেপিও বেশ থমকে গিয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications