বিহারে ভোটে মহাজোটে অন্তর্দ্বন্দ্ব,মিত্রদের সংঘাতে বিপাকে জোট
বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকেই গোষ্ঠীদ্বন্দ, আসন ভাগাভাগি নিয়ে টানাপোড়েন ও দল ত্যাগের ঘটনায় আরও ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়েছে মহাজোট। ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা তথা জেএমএমের দলত্যাগের পর, প্রধান শরিক দল আরজেডি ও কংগ্রেসে এখন চলছে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মরিয়া চেষ্টা। একাধিক আসনে দুই দলের প্রার্থীরা মুখোমুখি লড়াইয়ে নামায় ক্ষোভ ও বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে জোটের অভ্যন্তরে।
সোমবার দ্বিতীয় দফার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর জানা যায়, ২৪৩ সদস্যের বিহার বিধানসভার মধ্যে ১২১টি আসনে মোট ১,৩১৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। এদিনই ৬১টি মনোনয়ন প্রত্যাহার করা হয় পাশাপাশী ৩০০ এর বেশি মনোনয়ন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন।

আরজেডি, যা বিগত দুই নির্বাচনে রাজ্যের সবচেয়ে বড় দল হিসেবে উঠে এসেছে জোটের নেতৃত্বে। তবে তাদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশিত হয়,মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ পর্যায়ে যখন অধিকাংশ প্রার্থী ইতিমধ্যেই প্রতীক পেয়ে গেছেন।যদিও আরজেডি, কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি রাজেশ কুমার রামের বিরুদ্ধে কুটুম্বা কেন্দ্রে প্রার্থী না দিয়ে সরাসরি সংঘর্ষ এড়ানোর চেষ্টা করেছে, কিন্তু লালগঞ্জ, বৈশালি ও কাহালগাঁও এ দুই দলের প্রার্থী মুখোমুখি দাঁড়াচ্ছেন।
আরজেডির পাশাপাশি বিকাশশীল ইনসান পার্টি তথা ভিআইপি ও বিজেপির মধ্যেও টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। তারাপুরে ভিআইপি প্রার্থী সকলদেও বিন্দ দলীয় সমর্থন না পাওয়ায় মনোনয়ন প্রত্যাহার করে বিজেপিতে যোগ দেন উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর উপস্থিতিতে। গৌরা বোরামে আবার অন্য নাটক, আরজেডি সভাপতি লালুপ্রসাদ যাদব নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে জানান, দল সেখানে মুকেশ সাহনির ভাই সান্তোষকে সমর্থন করছে। কিন্তু তবুও আরজেডির প্রতীকে আফজল আলি মনোনয়ন দাখিল করেন ও প্রার্থী পদ ছাড়তে রাজি হননি। ফলে দারভাঙায় আরজেডির কর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি।
জোটের ভিতরে সংঘর্ষ এখানেই থেমে নেই। বাচহওয়ারা, রাজাপাকর ও রোসেরায় কংগ্রেস ও সিপিআই উভয়েই প্রার্থী দিয়েছে। রাজাপাকরে কংগ্রেস বিধায়ক প্রতিমা কুমারী দাস এবার নিজের আসন রক্ষার লড়াইয়ে নামছেন।
এই নির্বাচনে কংগ্রেস ৬১টি আসনে লড়ছে ২০২০ সালের তুলনায় ৫ টি কম। গতবারের দুর্বল পারফরম্যান্স ১৯টি আসনে জয় ছিল জোটের পরাজয়ের অন্যতম কারণ।
আরজেডির মধ্যেও বিদ্রোহের আগুন পারিহার আসনে মহিলা শাখার সভানেত্রী রিতু জয়সওয়াল স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। অভিযোগ, প্রার্থী পদ দেওয়া হয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন সভাপতি রামচন্দ্র পুরভের পুত্রবধূকে, যাঁকে তিনি আগের নির্বাচনে নিজের পরাজয়ের জন্য দায়ী মনে করেন।
অন্যদিকে, কংগ্রেস নেত্রী রঞ্জিত রঞ্জনের স্বামী তথা পুরনিয়ার স্বতন্ত্র সাংসদ পাপ্পু যাদবকেও কেন্দ্র করে বিতর্ক বাড়ছে। তাঁর অনুগামীরা একাধিক জায়গায় মনোনয়ন পেয়েছেন, যেখানে জয়ের সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম।
ভিআইপি এবার বড় ছাড় দিয়েছে,আগে ৪০ থেকে ৫০ আসনের দাবি করলেও, এখন ১৬টি আসনে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে, ২০২০ সালে মহাজোটের মধ্যে সবচেয়ে ভালো ফল করা সিপিআই তথা এমএল লিবারেশন এবার মাত্র ২০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
সিপিআই ও সিপিএম যথাক্রমে ৯ ও ৪টি আসনে লড়ছে। সব মিলিয়ে, আসন ভাগাভাগি নিয়ে অস্বস্তি, দলীয় বিদ্রোহ ও মিত্রদের মধ্যে অনাস্থা, সবকিছু মিলিয়ে চলতি বছরের বিহারের ভোটের আগে মহাজোট বন্ধনের ঐক্য যে বড়সড় পরীক্ষার মুখে, তা বলাই যায়।












Click it and Unblock the Notifications