ভারতের আত্মরক্ষার অধিকার প্রশ্নাতীত, সন্ত্রাসে মদতদাতা প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে কড়া বার্তা জয়শঙ্করের
ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতে আত্মরক্ষার প্রশ্নে কোনও আপস নেই এই বার্তাই ফের স্পষ্ট করলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। আইআইটি মাদ্রাজে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি সরাসরি পাকিস্তানের দিকে আঙুল তুলে বলেন, ভারতের এক 'খারাপ প্রতিবেশী' রয়েছে, যে দীর্ঘদিন ধরেই সন্ত্রাসবাদকে আশ্রয় ও প্রশ্রয় দিয়ে চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের নাগরিক ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ভারত যে কোনও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সম্পূর্ণ অধিকারী।
জয়শঙ্করের কথায়, সন্ত্রাসের মোকাবিলায় ভারত কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, সে সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে নয়া দিল্লির। এ বিষয়ে বাইরের কোনও উপদেশ বা চাপ মেনে নেওয়া হবে না। "আমরা কী করব বা কী করব না, তা অন্য কেউ ঠিক করে দেবে এটা কখনওই মেনে নেওয়া যায় না," স্পষ্ট ভাষায় জানান তিনি।

বিদেশমন্ত্রী আরও বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু ভারতের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও গুরুতর, কারণ এখানে সন্ত্রাসবাদকে রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করা হচ্ছে। কোনও দেশ যদি সচেতনভাবে ও নির্লজ্জভাবে সন্ত্রাস চালিয়ে যায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করা ভারতের ন্যায্য অধিকার এই অবস্থানেই অনড় নয়া দিল্লি।
সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসের প্রসঙ্গ টেনে জলবণ্টন চুক্তির কথাও উল্লেখ করেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, বহু বছর আগে জল ভাগাভাগির চুক্তি হয়েছিল পারস্পরিক সদ্ভাবের ভিত্তিতে। কিন্তু যখন সেই সম্পর্কের ভিত নষ্ট হয় সন্ত্রাসের কারণে, তখন সেই সদ্ভাবের সুফল দাবি করাও যুক্তিযুক্ত নয়। "একদিকে জল চাইবেন, আর অন্যদিকে সন্ত্রাস চালিয়ে যাবেন এই দুই একসঙ্গে চলতে পারে না," মন্তব্য তাঁর।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে পাকিস্তান সমর্থিত জঙ্গি হামলায় একাধিক পর্যটকের মৃত্যু ঘটে। সেই ঘটনার পর ভারত ও পাক সম্পর্ক আরও তলানিতে ঠেকে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে একাধিক কড়া পদক্ষেপের পাশাপাশি সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত, যা দু'দেশের সম্পর্ককে নতুন করে উত্তপ্ত করে তোলে।












Click it and Unblock the Notifications