Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

পরমাণু বিজ্ঞানীদের একের পর এক রহস্যজনক মৃত্যু, উদাসীন সরকার, গণমাধ্যম

পরমাণু বিজ্ঞানীদের একের পর এক রহস্যজনক মৃত্যু, উদাসীন সরকার, গণমাধ্যম
২৮ নভেম্বর : আরুষি, তেজপাল, ধনঞ্জয়ের নিয়ে মিডিয়ার হুড়োহুড়ি। এর মাঝে কেউ খবরও রাখেনি প্রায় এক দশক ধরে কীভাবে একের পর এক আত্মহত্যা, রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে ভারতীয় বিজ্ঞানীদের। তা নিয়ে মিডিয়ার হাতে গোনা কিছু ছোটখাটো চোখে না পড়ার মতো 'কভারেজ' ছাড়া কিছুই জোটেনি। বরং আমাদের দেশে সেই সমস্ত মামলাগুলোকে নয় ধামাচাপা দিয়েছে খোদ আইনের রক্ষক পুলিশ, আর নয়তো এধরণের ঘটনায় জড়িত জনস্বার্থকে লঘু করে দেখানো হয়েছে। এ নিয়ে মিডিয়ার মাতামাতি তো চোখে পড়েনি এক রত্তিও।

গত মাসে কে কে যোশ ও অভিষেক শিবম উচ্চপদমর্যাদার দুই ইঞ্জিনিয়ারের মৃতদেহ রেললাইন থেকে উদ্ধার করা হয়। এঁরা ভারতের প্রথম পরমাণু চালিত ডুবোজাহাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে তদন্তে উঠে আসে শরীরে বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হয়েছে দুজনেরই। কিন্তু প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানাল এটা নিয়মমাফিক দুর্ঘটনাই। তাই আর এগোল না তদন্ত। এগিয়ে এল না সত্যান্বেষী মিডিয়াও।

গোটা বিষয়ে একবারও সুর চড়া করেনি সরকার,হয়নি কোনও রাজনৈতিক তরজা, চুপ কেন সব মহল?

শুধু এই দুই ইঞ্জিনিয়ারই বা কেন? ২০০৯ সালে পরমাণু বিজ্ঞানী লোকনাথ মহালিঙ্গম এর রহস্যজনক মৃত্যুকে আত্মহত্যার তকমা লাগিয়ে তদন্ত শেষ করে দেওয়া হল। সেখানেও মিডিয়ার কোনও মাথাব্যাথা চোখে পড়ল না।

২০০৯ সালে মহালিঙ্গমের দেহ যে জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল, পাঁচ বছর আগে ভারতের নিউক্লিয়ার পাওয়ার কর্পোরেশন (এনসিপি)-এ কর্মীকে সেই জঙ্গল থেকেই অপহরণের চেষ্টা চালায়, কিন্তু কোনও মতে পালিয়ে গিয়ে তিনি প্রাণে বাঁচেন। তবে রবি মুলে নামের অন্য এক এনসিপি কর্মীকে এর সপ্তাহ খানেক আগেই খুন করা হয়। পুলিশ এ ঘটনার তদন্তে অগ্রগতি আনতে ব্যর্থ হয়। ধামা পড়ে যায় মামলাটি।

এর পর ২০১১ সালে এপ্রিলে প্রাক্তন বিজ্ঞানী ঊমা রাওয়ের রহস্যজনক মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এবারেও তদন্তকারীরা ঘোষণা করেন আত্মহত্যা করেছেন রাও। যদিও প্রাক্তন বিজ্ঞানীর পরিবার তদন্তকারীর দাবিকে চ্যালেঞ্জ জানান। এ খবর নিয়েও মিডিয়ার কোনও উৎসাহ দেখা যায়নি।

এদের মধ্যে সবচেয়ে অবাক করা ঘটনা ছিল এম আইয়ারের ক্ষেত্রে। তাঁর খুলিতে আভ্যন্তরীন ক্ষত দেখা গিয়েছিল। তদন্তকারী এক পুলিশ অফিসার মন্তব্য করেছিলেন অদ্ভুদ কোনও পরীক্ষার ফলেই এমনটা হয়েছে। শরীরে কোনও ক্ষতচিহ্ণ নেই অথচ এম আইয়ারের খুলির ভিতর কীভাবে ক্ষত হল তা নিয়ে মাথা ঘামানোরও চেষ্টা করেনি পুলিশ। ফলাফল আরও এক বিজ্ঞানীর মৃত্যু রহস্য রয়ে গেল অন্ধকারেই।

পরমাণু বিজ্ঞানীদের এই একের পর এক রহস্য মৃত্যুর ঘটনা অন্য কোনও দেশে ঘটলে যথার্থ তদন্তের দাবিতে মিডিয়া ঝড় তুলবে। তবে ভারতে কেন তা সম্ভব নয়?
এই ধরণের ঘটনায় রহস্য উন্মোচনে ব্যর্থ হলেই অমীমাংসিত হত্যা বলেই খালাস পুলিশ। কিন্তু তার পর কী? কেন উচ্চপর্যায়ের তদন্ত করা হয় না। কেন গোয়েন্দা সংস্থার সাহায্য নেওয়া হয় না। পরমাণু বিজ্ঞানী বা বিশিষ্ট গবেষকদের জীবনের মূল্য কী এতটাই নগন্য?

মুম্বই বন্দরে আইএনএস সিন্ধুরক্ষক বিস্ফোরণের ঘটনা ইচ্ছাকৃত বলে জানিয়েছে বেনামী এক গোয়েন্দা সূত্র। আবার কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন ইসরো অন্তর্ঘাতের পিছনে রয়েছে সিআইএ। ভারতের বিভিন্ন পরমাণু প্রকল্পে কর্মরত বিজ্ঞানীরা স্বভাবতই আতঙ্কে রয়েছেন। কারণ অনেকের মতো তাদেরও ধারণা ভারতের পরমাণু ও কৌশলগত কর্মক্ষমতাকে ধ্বংস করার খেলা চলছে। হয়তো তাদের পরিণতিও ঠিক এমনটাই হবে। কিন্তু তবু উদাসীন সরকার, প্রশাসন ও তথাকথিত নিরপেক্ষ ভারতীয় মিডিয়া।

অথচ ধর্ষক ধনঞ্জয়ের 'অমানবিক' ফাঁসি রুখতে সচেষ্ট হয়ে উঠেছিল এই মৌন মিডিয়ারই একাংশ। ধনঞ্জয় জেলে কী খাচ্ছে, সাবান মেখে চান করছে না শ্যাম্পু করে, তা নিয়ে সারাদিনই সব চ্যানেলে চলত কচকচানি। প্রায় এক দশক জেলে থাকার পর কেন ধনঞ্জয়ের আবার ফাঁসির আদেশ এই নিয়ে উত্তাল হয়ে উঠেছিল ভারতের একাধিক মহল। তবু ভুললে চলবে না এই মিডিয়াই দিল্লি গণধর্যণ কাণ্ড জনতম তৈরিতে প্রধান ভূমিকা নিয়েছিল। মিডিয়ার সে ক্ষমতা রয়েছে। তবে এক্ষেত্রে কেন এত উদাসীন সংবাদ মাধ্যম।

উল্লেখ্য ইজরায়েল-এ পাঁচ পরমাণু বিজ্ঞানী সম্প্রদায়ের উপর আঘাত হানার চেষ্টা করা হয়েছিল। গাড়ি বোমার সাহায্যে মৃত্যুমুখী করা হয়েছিল তাঁদের। কিন্তু এই ঘটনায় সবর হয়েছিল ইজরায়েল সরকার। অভিযোগ তুলেছিল মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধেও। কিন্তু ভারতের ক্ষেত্রে চিত্রটা উল্টো। এই গোটা বিষয়ে একবারও সুর চড়া করতে শোনা যায়নি সরকারকে। অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী দেশের উপর অভিযোগ তুললে পাছে দেশের উপর চাপ আসে তাই চুপ থাকাই শ্রেয় মনে করছে ভারত সরকার।

সম্প্রতি ভারতরত্ন পাওয়া বিজ্ঞানী জানিয়েছেন গবেষণাই ভারতের উন্নয়নের ভিত্তি। কিন্তু বৈজ্ঞানিকদের এই মর্মান্তিক পরিণতি দেখে কতজনই বা আগ্রহী হবে এগোতে? তবে কী সরকার ও মিডিয়ার উদাসীনতায় ভারতের উন্নয়নের ভিতটাই নড়বড়ে হয়ে যাবে।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+