Pamban Bridge: রামনবমীতেই ভারতের প্রথম উল্লম্ব সেতুর উদ্বোধন! কী কী বৈশিষ্ট্য রয়েছে?
ভারতীয় রেলের মুকুটে নয়া পালক। রবিবার, ৬ই এপ্রিল রামনবমীর দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উদ্বোধন করবেন তামিলনাড়ুর সদ্য নির্মিত পামবান রেল সেতুর (Pamban Bridge)। এদিন দুপুর ১২টা নাগাদ এই সেতুর উদ্বোধন করবেন। এটি দেশের প্রথম ভার্টিক্যাল ব্রিজ। তামিলনাড়ুর রামনাথপুরম জেলার অন্তর্গত শহর মণ্ডপম থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কার (India and Sri Lanka) মাঝে অবস্থিত সমুদ্রে ঘেরা রামেশ্বরমের পামবান দ্বীপ (Pamban Island in Rameswaram) পর্যন্ত দীর্ঘ একটি রেল সেতু। যা 'পামবান সেতু' নামে পরিচিত।
মূলত, ভারতীয় ভূখণ্ডের সঙ্গে রামেশ্বরাম বা পামবান দ্বীপকে জুড়তেই তৈরি হয়েছে ২.২ কিলোমিটার বিস্তৃত এই নতুন রেলসেতু বলে জানা যায়। সমুদ্রের উপরেই তৈরি হয়েছে নতুন এই সেতু। এই সেতু নির্মাণে খরচ পড়েছে মোট ৫৩৫ কোটি টাকা। ১৯১৪ সালে নির্মিত মূল পামবান সেতুটি ভারতের প্রথম সমুদ্র সেতু, যা ভারতের মূল ভূখণ্ডের মণ্ডপম শহরকে পামবান দ্বীপ ও রামেশ্বরমের সাথে সংযুক্ত করে। ভারতীয় ভূখণ্ড এবং এই দ্বীপের মধ্যে রয়েছে একটি যানবাহন চলাচলের সেতু। যা ইন্দিরা পয়েন্ট নামে পরিচিত।

তবে ২০১৮ সাল থেকে মেরামতির কারণে সেতুটিতে রেল চলাচল বন্ধ থাকে। ফের ২০১৯ সাল থেকে এখানে রেল চলাচল শুরু হয়। নতুন পামবান সেতুটি রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড (RVNL) দ্বারা ডিজাইন করা একটি প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত কাঠামো। যা রেল মন্ত্রকের অধীনে একটি পাবলিক সেক্টর ইউনিট।
. এই সেতুর মূল বৈশিষ্ট্য:
৭২.৫ মিটার দীর্ঘ নেভিগেশনাল স্প্যানটি ১৭ মিটার পর্যন্ত উঁচু করা যেতে পারে, যাতে বৃহৎ জাহাজগুলিও চলাচল করতে পারবে। এটি একটি উল্লম্ব উত্তোলন সেতু, যা সমুদ্রে জাহাজ চলাচলের কথা মাথায় রেখে ডিজাইন করা হয়েছে। স্পেনের কিছু ব্রিজ এই প্রযুক্তিতে তৈরি। স্টেইনলেস স্টিলের উচ্চ শক্তি এবং উচ্চ-গ্রেডের প্রতিরক্ষামূলক রঙ সহ স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার জন্য ডিজাইন করা উপকরণ দিয়ে এটি তৈরি করা হয়েছে। এটি পুরনো পামবান সেতুর সমান্তরালে নির্মিত এবং এতে ১৮.৩ মিটারের ৯৯টি স্প্যান রয়েছে।
. সেতুর সুবিধা:
এই সেতুটি বেশিরভাগ অংশে ৭৫ কিমি/ঘন্টা এবং উত্তোলন অংশে ৫০ কিমি/ঘন্টা গতিতে ট্রেন চলাচল করতে সক্ষম, যা পুরনো সেতুর লিফট স্প্যানে ১০ কিমি/ঘন্টা সীমার তুলনায় ভ্রমণের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত। এছাড়াও দ্বিমুখী রেলপথ ও বিদ্যুতায়নের জন্য তৈরি এই সেতুটি দ্রুত এবং আরও দক্ষ রেল কার্যক্রমকে সমর্থন করে, যা ক্রমবর্ধমান যানবাহনের পরিমাণকে সামঞ্জস্য করতে পারে।
পাশাপাশি সেতুটিতে একটি স্বয়ংক্রিয় উল্লম্ব লিফট স্প্যান রয়েছে, যা মাত্র ৫ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে উঁচু করা যায়। এটি ম্যানুয়াল ছাড়াই নির্বিঘ্নে সামুদ্রিক চলাচল নিশ্চিত করে।
. সেতুর প্রয়োজনীয়তা:
মূল পামবান সেতু ক্রমবর্ধমান ট্র্যাফিক ও আধুনিক পরিবহনের চাহিদা মেটাতে পারেনি। তবে নতুন পামবান সেতু ভারী রেল ট্র্যাফিক এবং দ্রুত ট্রেনগুলির জন্য আরও শক্তিশালী কাঠামো প্রদান করে। এই সেতুটি পুরনো কাঠামোর সীমাবদ্ধতাগুলি মোকাবেলা করার সাথে সাথে মসৃণ সামুদ্রিক চলাচল নিশ্চিত করবে।
. নির্মাণ এবং কৌশল:
সেতুটি আধুনিক পদ্ধতি এবং স্টেইনলেস স্টিলের মতো উন্নত উপকরণ ব্যবহার করে নির্মিত হয়েছে। সামুদ্রিক পরিবেশে স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে ক্ষয়-প্রতিরোধী আবরণ প্রয়োগ করা হয়েছে। এই সেতুর লিফট স্প্যানটি অটো লঞ্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করে এবং হাইড্রোলিক জ্যাকিংয়ের মাধ্যমে স্থাপন করা হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ এর ডিসেম্বরের শেষে উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল এই সেতুর। তবে একাধিক জটিলতার কারণে উদ্বোধন হয়নি তামিলনাড়ুর আত্যাধুনিক পামবান সেতুর। ১৯১৪ সালে ব্রিটিশরা এই আশ্চর্যজনক সেতুটি তৈরি করেছিলেন। এরপর ২০২২ সাল থেকে সেতু আত্যাধুনিক করে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। সেই মতো তৈরিও হয়েছে নয়া পামবান সেতু।












Click it and Unblock the Notifications