দেশব্যাপী তীব্র অনাহার-অপুষ্টিতে ধুঁকছে শিশুরা, স্বাস্থ্য মন্ত্রকের রিপোর্টে বাড়ছে উদ্বেগ
দেশব্যাপী তীব্র অনাহার-অপুষ্টিতে ধুঁকছে শিশুরা, স্বাস্থ্য মন্ত্রকের রিপোর্টে বাড়ছে উদ্বেগ
শৌচাগার হোক বা জ্বালানি, খাদ্য সুরক্ষা হোক বা পানীয় জল, সকল ক্ষেত্রকে সরকারি প্রকল্পের আওতায় আনার পরেও ক্রমেই ভারতের কঙ্কালসার রূপটি প্রকট। এমতাবস্থায় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের রিপোর্ট সামনে আসতেই আরও বাড়ছে উদ্বেগ। গত ১২ই ডিসেম্বরেই কেন্দ্রের পরিবার স্বাস্থ্য সমীক্ষা বা এনএফএইচএস-র প্রথম দফার রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। যাতে দেখা যাচ্ছে শুধু করোনাকালেই নয়, বিগত কয়েক বছর ধরেই ভারতে ক্রমেই বাড়ছে অপুষ্ট শিশুর সংখ্যা।

১৭টি রাজ্যের উপর সমীক্ষা
এদিকে পূর্ববর্তী পরিকল্পনা অনুযায়ী সমীক্ষা তালিকায় বেশ কিছু রাজ্যের নাম থাকলেও করোনা সঙ্কটের জেরে বেশ কিছু রাজ্য বাদ পড়ে যায়। বর্তমানে মহারাষ্ট্র, বিহার, পশ্চিমবঙ্গের ন্যায় ১৭টি রাজ্য ও ৫টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে সমীক্ষার আওতায় আনা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। কিন্তু করোনার বাড়বাড়ন্তের দরুণ পাঞ্জাব ও উত্তরপ্রদেশের মত কিছু রাজ্য বাদ পড়েছে।

বিশ্ব ক্ষুধা সূচকের মাপকাঠি মেনে চলেছে সমীক্ষা
বিশ্ব ক্ষুধা সূচকের মাপকাঠি মেনে এই সমীক্ষার ক্ষেত্রেও ৫ বছরের নীচের বাচ্চাদের মূলত চারটি সূচকের ভিত্তিতে বাগ করে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এমতাবস্থায় বর্তমানে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যাচ্ছে ভারতের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় কেরল, বিহার, অসম এবং জম্মু-কাশ্মীরের বাচ্চাদের অপুষ্টির কারণেই মূলত উচ্চতার নিরিখে ওজনে বড়সড় তারতম্য ধরা পড়েছে।

কমছে শিশুদের স্বাভাবিক উচ্চতা বৃদ্ধিও
এনএফএইচএসের রিপোর্ট আরও বলছে মহারাষ্ট্র, গুজরাট, পশ্চিমবঙ্গ, তেলেঙ্গানা, অসম ও কেরলের শিশুরাও অপুষ্টির কারণে তীব্র দুরাবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এমনকী ফলস্বরূপ ধাক্কা খাচ্ছে শিশুদের বয়সজনিত স্বাভাবিক বৃদ্ধিও। এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে আন্তর্জাতিক খাদ্য নিয়মাবলী গবেষণা সংস্থার গবেষক পূর্ণিমা মেনন জানিয়েছেন, " চলমান অর্থনীতিতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্তা সুনিশ্চিত করতে পারলে বিশ্বের কোনো দেশে অন্তত শিশুদের উচ্চতা কমে না, যদিও অন্যান্য সূচকে হেরফের দেখা যায়। কিন্তু ভারতে যেভাবে শিশুদের মধ্যে এই সমস্যা বাড়ছে, তা রীতিমতো উদ্বেগজনক!"

স্বস্তি দিচ্ছে শিশুমৃত্যুর হার
ভারতে সাধারণত শিশুমৃত্যুর হার গণনা ক্ষেত্রে ১ বছরের নীচের শিশুদেরই তালিকায় ধরা হয়। সেই ক্ষেত্রে প্রতি ১০০০ জন সদ্যজাত পিছু মৃত্যুর হিসাবেই কষা হয় হিসেব-নিকেশ। আর ক্ষেত্রেই খানিক স্বস্তি দিচ্ছে কেন্দ্রের এই সাড়া জাগানো রিপোর্ট। সদ্য প্রকাশি এই রিপোর্ট বলছে শিশুমৃত্যুর হারে ৫ বছরের নীচের বাচ্চাদের মৃত্যুহার ২০১৫-১৬-এর রিপোর্টের তুলনায় মোটামুটি একই জায়গায় থমকে রয়েছে। যদিও ভারতে শিশুমৃত্যুর ৬০ শতাংশের পিছনে নেপথ্য কারণ হিসাবে অনাহারকেই দুষছেন পূর্ণিমা মেনন। পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক আশীষ গুপ্তার কথায়, "আগের দুটি এনএফএইচএস রিপোর্টে উন্নতি দেখা গেলেও এবারের অবনমন সবকিছুকে ছাপিয়ে গেছে।"












Click it and Unblock the Notifications