ভারত ও আমেরিকা চুক্তি নতুন সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু, কৃষকদের ক্ষতি দাবি তুলে বিজেপির বিরুদ্ধে কংগ্রেসের আক্রমণ
ভারত ও আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তিকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা তুঙ্গে। বিরোধীদের অভিযোগ এই চুক্তির ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন দেশের কৃষকরা। তবে সেই আশঙ্কায় স্পষ্ট বিরাম টানল কেন্দ্র। শীর্ষ সরকারি সূত্রের সাফ কথা এই চুক্তিতে ভারতীয় কৃষকদের স্বার্থে কোনও আপস নেই।
সরকারি সূত্র জানাচ্ছে, দেশের খাদ্য সুরক্ষার মেরুদণ্ড হিসেবে থাকা ফসল ও পণ্য ধান, গম, ভুট্টা, সয়াবিন, চিনি ও দুগ্ধজাত দ্রব্য এই চুক্তির আওতার বাইরেই রাখা হয়েছে। এগুলি ছিল 'নন নেগোশিয়েবল', অর্থাৎ আলোচনার টেবিলেই ওঠেনি।

কেন্দ্রের দাবি, ভারতের কৃষি উৎপাদনের সিংহভাগই এই চুক্তির প্রভাব থেকে পুরোপুরি মুক্ত। তাহলে আমেরিকা থেকে কী আমদানি হতে পারে? সরকারি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সেগুলি হবে সীমিত ও বিশেষায়িত পণ্য যেগুলি দেশে বড় আকারে উৎপাদিত হয় না ও সাধারণ ভোক্তার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় নেই।
বিশেষ করে প্রিমিয়াম শুকনো ফল আমেরিকান বাদাম, কাজু, পেকান, আখরোট বা পিস্তাচিও এই তালিকায় থাকতে পারে। অর্থাৎ, বাজার ভরিয়ে সস্তা বিদেশি খাদ্য ঢুকে পড়ার কোনও প্রশ্নই নেই। কৃষকের রুজিরুটিতে আঘাতের আশঙ্কাও নাকচ করছে সরকার।
এই অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত বিরোধীদের বক্তব্যের। কংগ্রেসের অভিযোগ, মোদী সরকার নাকি আমেরিকার চাপে পড়ে কৃষকদের স্বার্থ বিকিয়ে দিচ্ছে যদিও চুক্তির খুঁটিনাটি এখনও পুরোপুরি প্রকাশ্যে আসেনি।
রাজনৈতিক মহলে তুলনা টানা হচ্ছে মনমোহন সিংহ আমলের ভারত ও আমেরিকা পরমাণু চুক্তির সঙ্গে। সেই সময়ে বিরোধী দলে থেকেও বিজেপি জাতীয় স্বার্থের কথা ভেবে সরকারকে সমর্থন করেছিল। কিন্তু বর্তমান রাজনীতিতে সেই বাস্তববাদী মনোভাবের অভাবই চোখে পড়ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
এদিকে, মার্কিন কৃষিমন্ত্রী ব্রুক রোলিন্স সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, এই চুক্তি আমেরিকার কৃষকদের জন্য নতুন বাজার খুলে দেবে ও ভারত ও আমেরিকার কৃষি বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সাহায্য করবে। অন্যদিকে, বাণিজ্য মন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের বক্তব্য এই চুক্তির ফলে উভয় দেশের শিল্প ও ব্যবসা উপকৃত হবে, ভারতের রপ্তানিও আরও প্রতিযোগিতামূলক হবে।
সরকারি সূত্রে খবর, আগামী মার্চেই এই বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্তভাবে সই হতে পারে। তার আগেই কয়েক দিনের মধ্যে ভারত ও আমেরিকার যৌথ বিবৃতি প্রকাশ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কৃষকদের আশ্বস্ত করতে সরাসরি মাঠে নেমেছেন কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। দিল্লিতে সাংবাদিকদের তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন দেশের শস্য, ফল, মিলেটস ও দুগ্ধ খাত সম্পূর্ণ সুরক্ষিত। ছোট হোক বা বড়, সব কৃষকের স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছে। বিদেশি পণ্যের হঠাৎ ঢল নামার কোনও আশঙ্কা নেই।
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারির এক মন্তব্য ঘিরে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, তাও খারিজ করেছেন তিনি। সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রীর ব্যাখ্যার কথা উল্লেখ করে শিবরাজ জানান.দেশীয় কৃষকদের উপর কোনও চাপ সৃষ্টি করে বাজার খোলা হয়নি।
সব মিলিয়ে স্পষ্ট বার্তা ভারত আপস করেনি। কৃষকের স্বার্থ অটুট। খাদ্য সুরক্ষা সুরক্ষিত। কূটনীতি ও জাতীয় স্বার্থের ভারসাম্য রেখেই এগিয়েছে এই চুক্তি।












Click it and Unblock the Notifications