ভারত সফরে আসছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন, কোন কোন বিষয় আলোচনায় থাকছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে
ইউক্রেন সংঘাত পরবর্তী সময়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রথম ভারত সফর বৃহস্পতি ও শুক্রবার অর্থাৎ ৪-৫ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই সফরে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে শীর্ষ সম্মেলন, একটি ব্যবসায়িক ফোরাম এবং রাষ্ট্রীয় ভোজসভা থাকছে। সূত্র অনুযায়ী, ভারত ও রাশিয়া বাণিজ্য, স্বাস্থ্য, কৃষি, মিডিয়া ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে চুক্তি সই করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই সফর ভারত-রাশিয়া স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপের ২৫তম বর্ষ উদযাপন করবে। দুই দেশের ২৩তম দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন হবে। পুতিনের এই সফর ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার 'বিশেষ সামরিক অভিযান' শুরুর পর প্রথম। তিনি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পৌঁছবেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর সরকারি বাসভবনে ব্যক্তিগত নৈশভোজের আয়োজন করবেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের জন্য।

পরের দিন সকালে রাষ্ট্রপতি ভবনে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে। পুতিন রাজঘাটে শ্রদ্ধা জানিয়ে হায়দরাবাদ হাউসে মোদীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসবেন। শীর্ষ সম্মেলনের পর বড় ঘোষণা, সমঝোতা স্মারক সাক্ষর ও যৌথ মিডিয়া বিবৃতি প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে সাতজন রুশ মন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের গভর্নর এলভিরা নাবিউলিনা আসছেন। প্রতিনিধিদলে রয়েছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আন্দ্রে বিলৌসভ, অর্থমন্ত্রী আন্তন সিলুয়ানভ, কৃষিমন্ত্রী ওকসানা লুট, অর্থনৈতিক উন্নয়ন মন্ত্রী ম্যাক্সিম রেশেতনিকোভ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মিখাইল মুরাশকো, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভ্লাদিমির কলোকোলৎসেভ এবং পরিবহণ মন্ত্রী রোমান নিকিতিন।
রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির সহকারি ইউরি উশাকভ জানান, দ্বিপাক্ষিক রাজনৈতিক আলোচনা 'নিয়মিত ও গোপনীয়'। এই বছর উভয় নেতা ১ সেপ্টেম্বর তিয়ানজিনে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (SCO) বৈঠকে দেখা করেন এবং পাঁচটি টেলিফোনিক কথোপকথন করেন।
উভয় পক্ষই শীর্ষ সম্মেলনে নিরাপত্তা, অর্থনীতি, অর্থ, পরিবহণ, প্রযুক্তি, শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করবে বলে আশা করছে।
উশাকভ আরও উল্লেখ করেন, উভয় নেতা ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা করবেন। ২০২৪ সালে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১২% বৃদ্ধি পেয়ে ৬৩.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। রাশিয়া ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি নিরসনে প্রস্তুত এবং বহিরাগত চাপ থেকে লেনদেন সুরক্ষার প্রক্রিয়া প্রস্তাব করেছে।
২০৩০ সাল পর্যন্ত রুশ-ভারতীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতার কৌশলগত ক্ষেত্রগুলির উন্নয়নের কর্মসূচি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাশা। এর সাথে বাণিজ্য, জ্বালানি, কৃষি, স্বাস্থ্য ও মিডিয়ার উপর ক্ষেত্রভিত্তিক চুক্তিও স্বাক্ষর হবে।
শুক্রবার বিকেলে, মোদী ও পুতিন ভারত মণ্ডপমে ভারত-রাশিয়া ব্যবসায়িক ফোরামে যৌথভাবে ভাষণ দেবেন। এখানে বিনিয়োগের সুযোগ, উৎপাদন অংশীদারিত্ব এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা তুলে ধরা হবে।
উশাকভ জনগণের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংযোগের কথা উল্লেখ করে জানান, ২০২৪ সালে ৮০,০০০ এরও বেশি রুশ নাগরিক ভারত ভ্রমণ করেছেন, যেখানে ৪০,০০০ এর বেশি ভারতীয় রাশিয়া সফর করেছেন। তিনি জানান, পর্যটন ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের যথেষ্ট সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে।
আলোচনায় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বিশেষভাবে গুরুত্ব পাবে। ভারত ও রাশিয়া উন্নত ব্রাহমোস ভ্যারিয়েন্টগুলির উন্নয়ন পর্যালোচনা করবে, যার মধ্যে রয়েছে হালকা এয়ার-লঞ্চড মডেল ব্রাহমোস-এনজি এবং বর্ধিত পাল্লার সংস্করণ।
এছাড়াও, হাইপারসনিক প্রকল্প, দূরপাল্লার এয়ার-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র এবং ভারতের অতিরিক্ত এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে। ফ্ল্যাগশিপ ব্রাহমোস 'অপারেশন সিন্দূর'-এর সময় সফলভাবে মোতায়েন করা হয়েছিল এবং ভারত ফিলিপাইনসের কাছে এই ব্যবস্থা রপ্তানি শুরু করেছে।
উভয় নেতা জাতিসংঘ, এসসিও, জি২০ এবং ব্রিকস-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ফোরামে সহযোগিতা নিয়ে মতবিনিময় করবেন। রাশিয়া ভারতকে সহযোগিতা করতে আগ্রহী, কারণ ভারত ২০২৬ সালে ব্রিকস-এর চেয়ারম্যান পদ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্ট দ্রৌপদী মুর্মু পুতিনের সম্মানে রাষ্ট্রীয় ভোজসভার আয়োজন করবেন। রুশ নেতা প্রায় ৩০ ঘণ্টা ভারতে অবস্থানের পর ওইদিন গভীর রাতে রাশিয়া উড়ে যাবেন।












Click it and Unblock the Notifications