ট্রাম্পের শুল্ক নীতি স্থগিত হতেই ভারত প্রস্তুতি সারছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করতে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের একাধিক দেশের উপর সাময়িকভাবে শুল্ক স্থগিত রাখার পর, ভারত দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করতে চায়। বৃহস্পতিবার, এক সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে।
ফেব্রুয়ারি মাসেই নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটন একটি প্রাথমিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কাজ শুরু করার সিদ্ধান্তে উপনীত হয়, যার লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য সম্পর্ক গড়ে তোলা। আর এবার ফের একবার সেই বিষয়টিই জোরালো হল।

এক সরকারি কর্মকর্তা জানান, এই সিদ্ধান্ত বিশেষ করে ভারতীয় চিংড়ি রপ্তানিকারকদের জন্য স্বস্তি। কারণ, তারা ইকুয়েডরের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় শুল্কের কারণে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছিলেন। শুধু তাই নয়, শুল্কে ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য খাতগুলির মধ্যে রয়েছে প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের ইলেকট্রনিক্স এবং ৯ বিলিয়ন ডলারের রত্ন ও অলংকার শিল্প।
বুধবার, ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে তিনি চিন থেকে আমদানির উপর ১২৫% শুল্ক বৃদ্ধি করবেন, যেখানে ভারতের উপর মার্কিন পারস্পরিক শুল্কের হার ১০%। তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি সেই শুল্কের উপর ৯০ দিনের বিরতি ঘোষণা করেন। এই বিরতির ফলে ভারতীয় আলোচকরা সময় পাচ্ছেন চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে।
ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশনের মহাপরিচালক অজয় সাহাই বলেন, "ভারত এখন সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারীদের মধ্যে একটি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রেখে চিনের বিকল্প খোঁজে, তাহলে ভারত আদর্শ অংশীদার"।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের শুল্ক বৃদ্ধির হুমকি সত্ত্বেও চিনের শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। হংকংয়ে তালিকাভুক্ত চিনের স্টক সূচক ১.৮% বৃদ্ধি পায় এবং মূল ভূখণ্ডের CSI 300 সূচক বাড়ে ১.৩%।
ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেন, ভারত ও আমেরিকার প্রস্তুতকারকরা বছরের পর বছর ধরে চিনের অন্যায্য বাণিজ্য অনুশীলনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই ভারত এখন আমদানির উপর নজরদারি বাড়াতে চায়, যাতে চিনের ডাম্পিং প্রতিরোধ করা যায়।
মার্কিন বাজারে প্রবেশাধিকার রক্ষায় ভারতের এই কূটনৈতিক তৎপরতা এবং ট্রাম্পের শুল্ক স্থগিতের সিদ্ধান্ত দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। আগামী কয়েক সপ্তাহই ঠিক করবে, এই আলোচনার ভিত্তিতে একটি স্থায়ী চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে কি না।












Click it and Unblock the Notifications