Pahalgam: পাকিস্তানকে কাবু করতে নয়া ছক, সন্ত্রাসবাদে পুঁজির জোগান রুখতে জোড়া আর্থিক হামলার পরিকল্পনা ভারতের?
Pahalgam: পহেলগাঁওয়ের ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর, সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদের মদত রুখতে পাকিস্তানকে চরম আর্থিক চাপের মুখে ফেলার পরিকল্পনা করছে ভারত। একাধিক সূত্র মারফৎ জানা গিয়েছে, এই লক্ষ্যে ভারত দুটি প্রধান পদক্ষেপ নিতে চলেছে।
প্রথমত, নয়াদিল্লি পাকিস্তানকে ফের ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের (FATF) 'ধূসর তালিকা'য় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সক্রিয়ভাবে চেষ্টা চালাবে। মূলত, পহেলগাঁও হামলায় পাকিস্তানের মদতের জোরালো অভিযোগ ওঠার পরেই এই পদক্ষেপের সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির কার্যকলাপের জন্য তহবিলের অপব্যবহারের অভিযোগে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সহায়তা প্যাকেজ নিয়েও ভারত গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, তিন বছরের এই ঋণ সহায়তা চুক্তিটি গত বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের জুলাই মাসে চূড়ান্ত হয়েছিল।
পহেলগাঁওয়ের জঙ্গি হামলার প্রেক্ষাপটে ভারতের এই দ্বিমুখী আর্থিক কৌশল পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক স্তরে আরও কঠিন পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের জুন মাসে পাকিস্তানকে বিশ্বব্যাপী অর্থ পাচার এবং জঙ্গি অর্থায়ন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এফএটিএফের 'ধূসর তালিকায়' রাখা হয়েছিল। তবে জঙ্গিদের অর্থায়ন রোধ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর ২০২২ সালের অক্টোবরে পাকিস্তানকে সেই তালিকা থেকে সরানো হয়। ওই সময় পাকিস্তান জঙ্গি গোষ্ঠীর সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের জেল, জরিমানা এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্তও করেছিল।
যদি এফএটিএফের ধূসর তালিকার ফেরানো হয়, তবে পাকিস্তানের আর্থিক লেনদেনের উপর নজরদারি বাড়বে, যার ফলে দেশে বিদেশি বিনিয়োগ এবং মূলধন প্রবাহ সীমিত হতে পারে। পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর ভারত ইতিমধ্যেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে, যেখানে ২৫ জন পর্যটক এবং একজন স্থানীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন। এই হামলাটি পাকিস্তান-ভিত্তিক লস্কর-ই-তৈবা নামক জঙ্গি গোষ্ঠী চালিয়েছে।
পাকিস্তানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক হ্রাস করার পাশাপাশি, ভারত সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করেছে, আটারি-ওয়াঘা সীমান্তে ইন্টিগ্রেটেড চেক পোস্ট বন্ধ করে দিয়েছে, পাকিস্তানি নাগরিকদের জন্য ভিসা পরিষেবা বাতিল করেছে এবং পাকিস্তানি বিমানের জন্য তার আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে।
এছাড়াও কেন্দ্র ১৬টি পাকিস্তানি ইউটিউব চ্যানেল নিষিদ্ধ করেছে। পাশাপাশি হানিয়া আমির, মাহিরা খান ও আলি জাফরের মতো পাকিস্তানি তারকাদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ব্লক করেছে।
অন্যদিকে, পাকিস্তান বাণিজ্য স্থগিতকরণ সহ একাধিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে এবং একই সাথে সতর্ক করেছে যে তাদের সিমলা চুক্তি "স্থগিত" রাখার অধিকার রয়েছে।
তবে ভারতের এই পদক্ষেপ একদিকে যেমন জঙ্গি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে তাদের কঠোর অবস্থানকে তুলে ধরে, তেমনই আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। পাকিস্তানের পাল্টা পদক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। শেষ পর্যন্ত, এই আর্থিক চাপ পাকিস্তানের উপর কতটা প্রভাব ফেলবে, তা তো সময়ই বলে দেবে।












Click it and Unblock the Notifications