বিশ্ব মন্দার মাঝেই ছন্দে ভারত, আইএমএফের রিপোর্টে উঠে এল দ্রুততম অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ছবি
বিশ্ব অর্থনীতির গতিপথে যখন অনিশ্চয়তা, মন্দার ছায়া ও বহু বড় দেশের উন্নয়ন হার কমার আভাস সেই প্রেক্ষাপটে ভারত রইল ব্যতিক্রম। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর সর্বশেষ 'ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক আপডেট' জানাচ্ছে, আগামী দুই বছরও বিশ্বের দ্রুততম বৃদ্ধি পাওয়া বড় অর্থনীতির তকমা ধরে রাখবে ভারত।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ভারতের প্রবৃদ্ধি থাকবে ৭.৩ শতাংশ; পরবর্তী দুই বছর অর্থাৎ ২০২৬ ও ২০২৭ এ রাখবে ৬.৪ শতাংশের স্থিতিশীল গতি। একই সময়ে বিশ্ব অর্থনীতি গড়ে বাড়বে ৩.৩ শতাংশ হারে, আর উন্নত দেশগুলোর বৃদ্ধির হার থাকবে আরও নিচে, ১.৭ থেকে ১.৮ শতাংশের মধ্যে। ফলে ভারতের সঙ্গে বিশ্ব ও উন্নত অর্থনীতিগুলোর ব্যবধান ক্রমেই বাড়বে বলে মত সংস্থার।

এশিয়ার অর্থনৈতিক চিত্রেও বদল এসেছে। দীর্ঘদিন বিশ্ব অর্থনীতির ইঞ্জিন হিসেবে পরিচিত চিনের প্রবৃদ্ধি ২০২৬ এ নামবে ৪.৫ শতাংশে, ২০২৭এ আরও কমে ৪ শতাংশে। ফলে এ অঞ্চলের সবচেয়ে ধারাবাহিক বৃহৎ বৃদ্ধির চালক হিসেবে ভারতই উঠে আসছে বলে বিশ্লেষণ।
শুধু শিরোনামি তথ্যেই নয়, ভারতের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে প্রবৃদ্ধির ধারার স্থিতি যেখানে যবনিকা ওঠে বহু উদীয়মান বাজার দেশের ওঠাপড়ায়। উদাহরণ হিসেবে ব্রাজিল, মেক্সিকো বা রাশিয়ার প্রবৃদ্ধিতে নানা ওঠানামার উল্লেখ এনেছে আইএমএফ। সেখানে ভারত ৭.৩ শতাংশ থেকে ৬.৪ শতাংশে নেমে স্থিরতা বজায় রাখবে, যা বিরল বলে মত সংস্থার।
আইএমএফ বলছে, ভারতের এই গতি টিকে আছে শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা, সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও বেসরকারি বিনিয়োগের ধীরে ধীরে ফেরার উপর ভর করে। উদীয়মান ও উন্নয়নশীল এশীয় অর্থনীতিগুলোর মধ্যে ভারতই নেতৃত্ব দিচ্ছে, সেই সঙ্গে বৃহৎ আকারে অবদান রাখছে পুরো অঞ্চলের ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধিতে।
রিপোর্টে আরও উল্লেখ, ২০২৫ এ ভারতের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আগের তুলনায় বাড়িয়ে ৭.৩ শতাংশ করা হয়েছে তৃতীয় ও চতুর্থ ত্রৈমাসিকের প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফলের কারণে। যদিও ২০২৬ ও ২৭ সালে কিছু সাময়িক ও চক্রগত কারণ কমে যাওয়ায় প্রবৃদ্ধি স্থিত হবে ৬.৪ শতাংশে।
মূল্যস্ফীতি নিয়েও আশার বার্তা দিয়েছে আইএমএফ। ২০২৫ এ খাদ্যের দাম শান্ত হওয়ায় মূল্যস্ফীতি ফের লক্ষ্যমাত্রা ২ থেকে ৬ শতাংশে আসবে বলে আশা। এর ফলে স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধির সঙ্গে মিলিয়ে ভারতের সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক অবস্থান আরও দৃঢ় হবে বিশ্বের বহু বড় দেশের মতো নীতি অনিশ্চয়তা ও মূল্যস্ফীতির চাপের মুখে না পড়েই।
বৈশ্বিক অঙ্গনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ প্রযুক্তি নির্ভর বিনিয়োগ, আর্থিক নীতি সহায়তা ও বেসরকারি খাতের অভিযোজন ক্ষমতা বিশ্ব অর্থনীতিকে কিছুটা ধাক্কা সামলাতে সাহায্য করলেও ভারতই এখন বিরলভাবে এমন একটি দেশ, যার অর্থনৈতিক চিত্রে একসাথে গতি, পরিসর ও স্থিতি,এই তিনের সমন্বয় একযোগে দেখা যাচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications