Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

ডিএ মামলায় ঐতিহাসিক নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের, বকেয়া মেটাতেই হবে, ভোটের মুখে চাপ বাড়ল রাজ্যের উপর

দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান। রাজ্য সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) সংক্রান্ত মামলায় বৃহস্পতিবার ঐতিহাসিক নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের স্পষ্ট বার্তা বকেয়া ডিএ রাজ্যকেই দিতে হবে, কোনও অজুহাত চলবে না। আগামী ৩১ মার্চের মধ্যেই বকেয়া ডিএ-র অন্তত ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দিতে হবে রাজ্য সরকারকে। পাশাপাশি, এই নির্দেশ কতটা কার্যকর হয়েছে, তা জানিয়ে ১৫ মে'র মধ্যে আদালতে কমপ্লিয়েন্স রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এই রায়ে কার্যত বড় স্বস্তি পেলেন পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী। একই সঙ্গে ভোটের মুখে অস্বস্তিতে পড়ল রাজ্য সরকার এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে সুপ্রিম কোর্টের ১১ নম্বর এজলাসে এই বহুল প্রতীক্ষিত রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি সঞ্জয় করোল ও বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রের বেঞ্চ। রাজ্যের সরকারি কর্মচারী মহলের নজর ছিল এই রায়ের দিকেই। প্রায় এক দশক ধরে চলা আইনি লড়াইয়ের ফলাফল জানতে আদালত চত্বরে ও রাজ্যজুড়ে ছিল প্রবল উৎকণ্ঠা।

সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, ডিএ কোনও দয়া নয়, এটি কর্মীদের প্রাপ্য। তাই রাজ্য সরকারকে অবিলম্বে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মেটাতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ প্রদান না হলে তার দায়ভার রাজ্যকেই বহন করতে হবে।
এছাড়াও, বাকি ৭৫ শতাংশ ডিএ কীভাবে ও কবে মেটানো হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

বর্তমানে কেন্দ্র ও রাজ্যের ডিএ-র ফারাক প্রায় ৪০ শতাংশ, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষে ভুগছেন রাজ্যের কর্মীরা।

অতীতের দিকে তাকালে দেখা যায়, গত কয়েক বছর ধরেই রাজ্য বাজেট পেশের সময় ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার।

২০২৩ সালের বাজেটে ৩ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধি, ২০২৪ সালে বাজেট চলাকালীন ৪ শতাংশ বৃদ্ধি, ২০২৫ সালেও ৪ শতাংশ ডিএ বাড়ানো হয়, এই ধারাবাহিকতার কারণেই চলতি বিধানসভার শেষ বাজেট ঘিরে আবারও আশায় বুক বেঁধেছিলেন রাজ্য সরকারি কর্মীরা। সুপ্রিম কোর্টের এই রায় সেই প্রত্যাশাকে আরও জোরালো করল বলেই মনে করছেন অনেকেই।

বকেয়া ডিএ নিয়ে এই মামলা শুরু হয়েছিল প্রায় এক দশক আগে। এক আদালত থেকে অন্য আদালতে ঘুরেছে মামলা, আর তার সঙ্গে দীর্ঘ হয়েছে কর্মীদের অপেক্ষার সময়ও।

২০২৫ সালের ১৬ মে সুপ্রিম কোর্ট অন্তর্বর্তী নির্দেশে জানিয়েছিল, শুনানির দিন থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে অন্তত ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ মেটাতে হবে। সেদিন আদালত স্পষ্ট ভাষায় বলেছিল
"ডিএ পাওয়ার অধিকার মৌলিক অধিকার কি না, তা বিচার্য। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের জন্য সরকারি কর্মচারীদের অনন্তকাল অপেক্ষা করানো যায় না।"

তবু সেই নির্দেশের পরেও রাজ্য সরকার কোনও অর্থ প্রদান করেনি। অবশেষে চূড়ান্ত রায়ে কড়া অবস্থান নিল শীর্ষ আদালত।

সূত্রের খবর, বকেয়া ডিএ মেটাতে রাজ্য সরকারের কোষাগার থেকে প্রায় ১০ হাজার ৪০০ কোটি টাকা খরচ হতে পারে। এই বিপুল অঙ্কের টাকা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মেটানো রাজ্যের পক্ষে কতটা সম্ভব, তা নিয়েই এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে।

এখন সব নজর ৩১ মার্চের
সময়সীমার দিকে। রাজ্য সরকার কি আদালতের নির্দেশ মেনে সময়মতো বকেয়া ডিএ দেবে? নাকি আবারও তৈরি হবে নতুন আইনি জটিলতা?
১৫ মে জমা পড়া কমপ্লিয়েন্স রিপোর্টই বলে দেবে, এই ঐতিহাসিক রায় বাস্তবে কতটা কার্যকর হল।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+