বিস্ফোরণের শব্দ, ভেবেছিলাম টায়ার ফেটেছে, মুখোমুখি অভিজ্ঞতায় উঠে এল গোয়ার নাইটক্লাব আগুনের লোমহর্ষক মুহূর্ত
পর্যটননগর গোয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হল অন্তত ২৫ জনের। শনিবার গভীর রাত থেকে রবিবার মধ্যরাতের মাঝামাঝি সময়ে উত্তর গোয়ার আরপোড়া গ্রামের জনপ্রিয় নাইটক্লাব 'বার্চ বাই রোমিও লেনে' আচমকা একটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের জেরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন তিন মহিলা ও চার জন পর্যটক। মুহূর্তের মধ্যেই উৎসবমুখর নাইটক্লাব রূপ নেয় আতঙ্ক আর মৃত্যুকূপে।
চোখের সামনেই এই বিভীষিকা দেখেছেন ক্লাবের নিরাপত্তারক্ষীরা। সঞ্জয় কুমার গুপ্ত নামে এক নিরাপত্তারক্ষী জানান, রাত বারোটার মধ্যে ঘটনাটি ঘটে। সেই সময় ক্লাব ছিল উপচে পড়া ভিড়ে ঠাসা। তিনি বলেন,
"গেটেই দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎই আগুন দেখতে পাই। একটু পরেই ডিজে ও নৃত্যশিল্পীদের আসার কথা ছিল, ভিড় আরও বাড়ছিল।"

আর এক নিরাপত্তারক্ষী, যিনি বহু বছর ধরে ওই এলাকায় কাজ করছেন, তিনি জানান প্রথমে বিস্ফোরণের শব্দ শুনে তিনি সেটিকে টায়ার ফাটার শব্দ ভেবেছিলেন। কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বোঝা যায়, সেটি ছিল সিলিন্ডার বিস্ফোরণ। তাঁর কথায়,
"একটা ভীষণ জোরে আওয়াজ হয়। লোকজনকে ছোটাছুটি করতে দেখি। পরে বুঝি, আগুন লেগেছে সিলিন্ডার ফেটে।"
এক স্থানীয় বাসিন্দা জানিয়েছেন, বাড়ি ফেরার সময় তিনি বিস্ফোরণের শব্দ শুনলেও বিষয়টিকে প্রথমে গুরুত্ব দেননি। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই একের পর এক অ্যাম্বুল্যান্স ছুটে আসতে দেখে পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রাজ্যের বিজেপি বিধায়ক মাইকেল লোবো গোয়ার সমস্ত নাইটক্লাবের নিরাপত্তা নিরীক্ষা (সেফটি অডিটের) দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, বেশিরভাগ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে, কারণ আতঙ্কে অনেকে বেসমেন্টের দিকে ছুটে গিয়েছিলেন।
তিনি বলেন,
"গোয়া বরাবরই পর্যটকদের কাছে নিরাপদ গন্তব্য হিসেবে পরিচিত। এই ঘটনা গভীরভাবে বিচলিত করেছে। ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। পর্যটক ও কর্মীদের নিরাপত্তা সবার আগে।"
ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত জানিয়েছেন, দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলে কেন্দ্রের তরফে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
এক রাতের এই অগ্নিকাণ্ড গোয়ার পর্যটনচিত্রে যেমন কালো দাগ ফেলল, তেমনই নতুন করে বড় প্রশ্ন তুলে দিল নাইটক্লাব ও বিনোদন কেন্দ্রগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা আসলে কতটা প্রস্তুত?












Click it and Unblock the Notifications