নির্ভয়ার চার দোষীকে একসঙ্গে ফাঁসি দিয়ে ফুরফুরে মেজাজে পবন জল্লাদ
নির্ভয়ার চার দোষীকে একসঙ্গে ফাঁসি দিয়ে ফুরফুরে মেজাজে পবন জল্লাদ
শুক্রবার, ঘড়ির কাঁটা ঠিক সাড়ে পাঁচটা ছুঁয়েছে। তিহার জেলে পূর্ব নির্ধারিত সময়েই ফাঁসি হয়ে গেল নির্ভয়ার চার দোষীর। নির্ভয়ার মা–বাবার সঙ্গে এই দিনটার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন ফাঁসুড়ে পবন জল্লাদ। তাঁর হাতে গোটা কর্যক্রম পরিণতি পায় শুক্রবার। উত্তরপ্রদেশ মিরাটের সরকারি ফাঁসুড়ে পবন জল্লাদের হাতেই ফাঁসি হল নির্ভয়ার চার আসামির।

কোনও ভুল ছাড়াই ফাঁসি দিতে পারেন পবন
২০১২ সালে নির্ভয়া গণধর্ষণ মামলা দীর্ঘ সাত বছর তিন মাস ও চার দিন ধরে বিচার ব্যবস্থা বিলম্বিত হয়েছে। কিন্তু অবশেষে ফাঁসি হয়েছে চারজনের। তিহার জেলে এই ফাঁসি দেওয়ার পর নিজের খুশি প্রকাশ করলেন ৫৭ বছরের পবন জল্লাদ। পেশাদার ফাঁসুড়ে পবন জল্লাদ মিরাট জেলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং মাসে তিনহাজার টাকা করে বেতন পেতেন। পবনকে তিহার জেল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে বিশেষভাবে বাছাই করা হয়েছে, কারণ পবনই পারেন একমাত্র ত্রুটিহীন ফাঁসি দিতে।

ফাঁসির মহড়া হয়েছে বহুবার
২০ মার্চ চূড়ান্ত ফাঁসির আগে পবন বহুবার ফাঁসির মহড়া দিয়েছেন। আসামিদের ওজন অনুসারে বালির ব্যাগ নিয়ে হয়েছে ফাঁসির মহড়া। সূত্রের খবর, পবনকে তাঁর কাজের জন্য মোট ৬০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক আসামি পিছু ১৫ হাজার করে। এই নিয়ে চতুর্থবার পবন তিহার জেলে নির্ভয়ার আসামিদের ফাঁসি দেওয়ার জন্য আসেন।

এই দিনটার জন্যই অপেক্ষা করছিলেন পবন
শুক্রবার ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ নির্ভয়ার দোষীদের একসঙ্গে ফাঁসি দেওয়ার পর পবন জল্লাদ বলেন, ‘আমার জীবনে এই প্রথমবার চারজন দোষীকে ফাঁসি দিয়ে আমার আনন্দ হচ্ছে। আমি এই দিনটার জন দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেছি। আমি ভগবান ও তিহার জেল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাতে চাই।' পবনের বাবা ও দাদুও পেশাদার ফাঁসুড়ে ছিলেন। তাঁরা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর হত্যাকারীকে ফাঁসি দিয়েছিলেন। পবনের বাবা কাল্লু কুখ্যাত দুষ্কৃতী রঙ্গা ও বিল্লাকে ফাঁসি দিয়েছিলেন। নিঠারি মামলার অন্যতম আসামি সুরেন্দ্র কোলিকেও ফাঁসি দেওয়ার জন্য পবনকেই বাছা হয়েছিল কিন্তু সেই ফাঁসি আর হয়নি। মিরাটের বাইরে থাকেন পবন ও তাঁর পরিবার। তাঁর ছোট ছেলে পরিবারের ঐতিহ্য অনুসরণ করার পরিকল্পনা করছেন।












Click it and Unblock the Notifications