উৎসবের মরশুমে হাল ফিরছে অর্থনীতির, ১ লক্ষ কোটির গণ্ডি পারের পথে জিএসটি সংগ্রহ
দেশের অর্থনৈতিক স্বাস্থ্যের এক বড় দিক নির্দেশক জিএসটি সংগ্রহের পরিমাণ। করোনা আবহে বিগত বেশ কয়েক মাস ধরেই নিম্নমুখী গ্রাফ বজায় রেখেছে দেশের অর্থনীতি। এহেন অবস্থায় দেশের জন্য সুখবর, গত আট মাসে এই প্রথমবার দেশের জিএসটি সংগ্রহের পরিমাণ ১ লক্ষ কোটি টাকার গণ্ডি ছাড়াতে চলেছে। উৎসবের মরশুমে দেশের অর্থনীতির হাল ফেরার ইঙ্গিত হিসাবেই দেখা হচ্ছে বিষয়টিকে।

৬৮ দিনের কড়া লকডাউনে অর্থনীতিতে ধস
প্রসঙ্গত, করোনা আবহে ৬৮ দিনের কড়া লকডাউন জারি করা হয়েছিল দেশ। সেই সময় অর্থনৈতিক গতিবিধি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল দেশে। উৎাপদন শিল্প থেকে খুচরো ব্যবসা, করোনা প্রবাহের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল সব ক্ষেত্রই। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যগুলিকে জিএসটি ক্ষতিপূরণ দিতেও অক্ষম হয়েছইল কেন্দ্র। যার জেরে বিগত বেশ কয়েক দিন ধরেই কেন্দ্র-রাজ্য তরজা তুঙ্গে ছিল।

১.১ মিলিয়ন জিএসটি আর-৩বি জমা অক্টোবরে
জানা গিয়েছে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত ১.১ মিলিয়ন জিএসটি আর-৩বি জমা পড়েছে এবছর। গত বছর এই সময় জিএসটি আর-৩বি জমা পড়েছিল মাত্র ৪ লক্ষ ৮৫ হাজার। এর জেরেই আশা করা হচ্ছে যে মার্চের পর প্রথম বার ঘুরে দাঁড়াতে চলেছে অর্থনীতির চাকা। এদিকে গত ১ অক্টোবর অনলাইনে ই-ভয়েসিং প্রক্রিয়া চালু করে জিএসটির। এর ফলেও জিএসটি সংগ্রহ বাড়তে চলেছে বলে আশা আধিকারিকদের।

ঘাটতি মেটাতে বিশেষ ঋণ নিল কেন্দ্র
এদিকে জিএসটি কমপেনসেশন খাতের ঘাটতি মেটাতে বিশেষ ঋণ নিল কেন্দ্র। প্রথম ধাপে ১৬টি রাজ্য ও দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য ৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে সেই টাকা নির্দিষ্ট খাতে জমা করা হয়েছে। জিএসটি কমপেনসেশনের ঘাটতি মেটাতে কেন্দ্র বিশেষ উইন্ডোর মাধ্যমে রাজ্যগুলির জন্য ১ লক্ষ ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।

ঘাটতি মেটাতে বিশেষ ঋণের উইন্ডো
২০২০-২১ সালের জিএসটি সংগ্রহের ঘাটতি মেটাতে কেন্দ্র একটি বিশেষ ঋণের উইন্ডো তৈরি করেছে। ২১ টি রাজ্য এবং ২টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জিএটি কমপেনসেশনের জন্য অর্থমন্ত্রকের ব্যাক-টু-ব্যাক ঋণের এই বিশেষ উইন্ডোর সুবিধা নেওয়ার পথ বেছে নিয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি রাজ্যের জিএসটি কমপেনসেশন খাতে কোনও ঘাটতি নেই।

উপকৃত কোন রাজ্যগুলি?
কেন্দ্র যে ৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে তা অন্ধ্রপ্রদেশ, অসম, বিহার, গোয়া, গুজরাত, হরিয়ানা, হিমাচলপ্রদেশ, কর্ণাটক, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, মেঘালয়, ওড়িশা, তামিলনাড়ু, ত্রিপুরা, উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড এবং দিল্লি এবং জম্মু ও কাশ্মীরের খাতায় জমা করা হয়েছে। যে ঋণ নেওয়া হয়েছে তাতে সুদের হার ৫.১৯ শতাংশ। এই ছয় হাজার কোটি টাকা সাপ্তাহিক হিসাবে রাজ্যগুলিকে জন্য দেওয়া হবে।












Click it and Unblock the Notifications