গীতা ও সংবিধান একই, পবন কল্যাণের মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক ঝড়, মুখোমুখি কংগ্রেস ও বিজেপি
উডুপির ধর্মমঞ্চ থেকে দিল্লির রাজনীতির অঙ্গন এক মন্তব্যেই তীব্র বিতর্কের আগুন জ্বালালেন অন্ধ্রপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী ও জনসেনা পার্টির প্রধান পবন কল্যাণ। গীতা ও ভারতের সংবিধানকে একসূত্রে বেঁধে তাঁর বক্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
কর্নাটকের উডুপিতে শ্রীকৃষ্ণ মঠে আয়োজিত 'গীতা উৎসব' এর মঞ্চে দাঁড়িয়ে পবন কল্যাণ বলেন, "ধর্ম আর সংবিধান আলাদা কিছু নয় দুটোই এক।" আরও এক ধাপ এগিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, গীতা যেন ভারতের "মূল হাতে লেখা সংবিধান"। তাঁর ব্যাখ্যায়, গীতার নৈতিক দর্শনই ভারতের সমাজভাবনার ভিত্তি।
পবন কল্যাণ তাঁর বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে স্মরণ করান সংবিধানের একটি চিত্রের কথা যেখানে অর্জুনকে গীতা উপদেশ দিচ্ছেন শ্রীকৃষ্ণ। তাঁর দাবি, ইচ্ছাকৃতভাবেই এই চিত্র নির্দেশমূলক নীতির ওপর স্থাপন করা হয়েছে, কারণ তা ভারতের নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। "ধর্ম নৈতিক দিকনির্দেশ, সংবিধান আইনি পথনির্দেশ দুটোর লক্ষ্যই ন্যায়ভিত্তিক, শান্তিপূর্ণ ও মানবিক সমাজ," বলেন তিনি।

তবে এই মন্তব্যে তীব্র আপত্তি তুলেছে কংগ্রেস। দলের বর্ষীয়ান নেতা বি কে হরিপ্রসাদ কটাক্ষ করে বলেন, "যাঁরা সংবিধান বোঝেন না, তাঁরাই এমন কথা বলেন।" তাঁর স্পষ্ট অবস্থান ভারতের সংবিধান ধর্মনিরপেক্ষ, সেখানে ধর্মের কোনও জায়গা নেই।
কর্নাটকের মন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়গেও একই সুরে সমালোচনা করে বলেন, পবন কল্যাণ আইন ও ধর্ম দুটোই যথাযথভাবে বোঝেন না। তাঁর মতে, সংবিধান ও ধর্ম কখনও এক হতে পারে না।
অন্যদিকে, পবন কল্যাণের এনডিএ শরিক বিজেপি তাঁর পাশেই দাঁড়িয়েছে। বিজেপি নেতা মহেশ তেঙ্গিনকাইয়ের বক্তব্য, "পবন যা বলেছেন, তা ঠিক। নীতির স্তরে সংবিধান ও ধর্মের মূল ভাবনা এক।"
সব মিলিয়ে, গীতা বনাম সংবিধান নয় বরং ধর্ম, নৈতিকতা ও রাষ্ট্রচিন্তার সংযোগ ঘিরে নতুন করে উত্তাল হল জাতীয় রাজনীতি। বিতর্ক থামবে কবে, সে দিকেই এখন তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।












Click it and Unblock the Notifications