ডিজিটাল ক্লান্তি থেকে মানসিক চাপ! বেড়ে চলেছে হার্টের সমস্যা, ভারতে হৃদরোগ বাড়ার প্রধান কারণ কী? জেনে নিন
হার্ট হল আমাদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। অথচ বিশ্বজুড়ে, বিশেষ করে ভারতে, হৃদরোগ দ্রুত বেড়েই চলেছে। WHO-এর তথ্য অনুসারে, ২০২২ সালে প্রায় ১ কোটি ৯৮ লক্ষ মানুষের কার্ডিওভাসকুলার (Cardiovascular) রোগে মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৮৫ শতাংশ মৃত্যু হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের কারণে।

সম্প্রতি বিএম বিড়লা হার্ট হাসপাতাল (BM Birla Heart Hospital) প্রকাশিত 'বিট বাই বিট ২০২৫ (Beat by Beat 2025)' রিপোর্ট জানাচ্ছে যে, বিশ্বের হার্ট অ্যাটাকজনিত মৃত্যুর ২০ শতাংশই হল ভারতের।
পূর্ব ভারতে বাড়ছে উদ্বেগ
দেশের মোট হৃদরোগজনিত মৃত্যুর ৩০% হচ্ছে পূর্ব ভারতে। সেখানে প্রতি ১০ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মধ্যে ১ জন হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। পশ্চিমবঙ্গে ইস্কেমিক হার্ট ডিজিজের হার জাতীয় গড়ের চেয়েও অনেক বেশি। দেরিতে রোগ ধরা পড়া থেকে শুরু করে নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের অভাব এবং গোল্ডেন আওয়ার-এ চিকিৎসা না পাওয়াই সবথেকে বড় কারণ।
দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার চিত্র
দক্ষিণ এশিয়ায় ইস্কেমিক হার্ট ডিজিজের হার পূর্ব এশিয়ার তুলনায় ৮০% বেশি। যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তুলনায় ৩০% বেশি। দক্ষিণ এশিয়ায় ৪২% হৃদরোগজনিত মৃত্যু স্ট্রোকের কারণে হয়ে থাকে। অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ হেমোরেজিক স্ট্রোকের বড় একটি কারণ। কোভিডের সময় এশিয়ায় হৃদরোগে মৃত্যু অনেক বেড়েছে।
তরুণদের মধ্যেও বাড়ছে হার্টের সমস্যা (২৫-৪৫ বছর)
রিপোর্ট বলছে যে, আধুনিক জীবনযাপন বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ, ডিজিটাল ক্লান্তি, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা (এতে ১৫% বেশি করোনারি ঝুঁকি), ঘুমের অভাবের কারণে হার্টের সমস্যা বাড়ছে। ৭২% শহুরে পেশাজীবী, ডিজিটাল বার্নআউটে ভুগছেন।
ভারতে হৃদরোগ বাড়ার প্রধান কারণ
১. অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস
অতিরিক্ত নুন, চিনি, ট্রান্স ফ্যাট এবং প্রসেসড খাবার রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল বাড়ায়। স্থূলতা এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে।
২. অনিয়মিত জীবনযাপন
অফিসে দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করা, কম শারীরিক পরিশ্রম হৃদপেশি দুর্বল করে। হাঁটা অথবা যোগব্যায়াম করা উপকারী।
৩. উচ্চ রক্তচাপ
চুপিসারে ধমনী ক্ষতিগ্রস্ত করে, স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি।
৪. ডায়াবেটিস
ভারতে ১০১ মিলিয়ন ডায়াবেটিস রোগী এবং ১৩৬ মিলিয়ন প্রিডায়াবেটিক। রক্তে অতিরিক্ত শর্করা রক্তনালির ক্ষতি করে।
৫. তামাক সেবন
রক্তনালি সংকুচিত করে, রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়ায়। অতিরিক্ত মদ্যপান পরিস্থিতি আরও খারাপ করে দেয়।
৬. দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ
ধমনীতে প্রদাহ তৈরি করে, হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।
৭. বায়ুদূষণ
খারাপ বায়ু এবং ধোঁয়া হৃদযন্ত্র ও রক্তনালিতে প্রদাহ সৃষ্টি করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ভালো খাবার, ব্যায়াম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, এই কয়েকটি পদক্ষেপেই হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।












Click it and Unblock the Notifications