স্বাধীনতা সংগ্রামীর সন্তান, প্রণব লড়ে গিয়েছেন জীবনের শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত
স্বাধীনতা সংগ্রামীর সন্তান, প্রণব লড়ে গিয়েছেন জীবনের শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত
বাবা ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী। তাই রাজনীতি আর লড়াকু মানসিকতা প্রথম থেকেই ছিল তাঁর রক্তে। সেই লড়াকু মানসিকতাই জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত জিইয়ে রেখেছিল তাঁকে। কোমায় থেকেই জীবন-মরণের লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন প্রণব।

স্বাধীনতা সংগ্রামীর ছেলে
জন্মেছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামীর পরিবারে। ১৯৩৫ সালে জন্ম প্রণবের। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম তখন চরমে। বাবা কে কে মুখোপাধ্যায় ছিলেন সংগ্রামী। দেশের স্বাধীনতার জন্য জেলেও কাটিয়েছেন তিনি। দেশের স্বাধীনতা আসার পর ১৯৫২ সালে প্রণবের বাবা কেকে মুখোপাধ্যায় রাজ্যের বিধানসভায় নির্বাচিত হয়ে এসেছিলেন। ১৯৫২ থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত রাজ্য বিধানসভার নির্বাচিত সদস্য ছিলেন প্রণবের বাবা।

ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যোগ
পারিবারিক কারণেই শৈশব থেকেই রাজনীতি দেখে এসেছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি দুটি পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন। তারপর থেকেই ধীরে ধীরে সক্রিয় রাজনীতিতে চলে আসেন প্রণব। মেদিনীপুর থেকে লোকসভা ভোটে ভিকে কৃষ্ণ মেমনকে জিতিয়ে প্রথম কংগ্রেসে নিজের গুরুত্ব বাড়িেয় তুলেছিলেন

ইন্দিরা ঘনিষ্ঠ ছিলেন প্রণব
পশ্চিমবঙ্গে লোকসভা উপনির্বাচনে প্রচারের সময় থেকেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর বিশ্বাসভাজন হয়ে উঠেছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। ১৯৬৯ সালে ইন্দিরা গান্ধী তাঁকে রাজ্যসভার জন্য মনোনিত করেন। সেই প্রথম সংসদীয় রাজনীতিতে প্রবেশ প্রণবের। তারপর ১৯৭৫, ১৯৮১,১৯৯৩, ১৯৯৯ সালে পর পর রাজ্যসভায় নির্বাচিত হন তিনি। ২০০৩ ও ২০০৯ সালে লোকসভায় নির্বাচিত হয়ে আসেন।

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা
ইন্দিরা গান্ধীর প্রয়াণের পর তাঁর ছেলে রাজীব গান্ধীর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল প্রণবের। অনেকেই মনে করতেন ১৯৮৪ সালে রাজীবকে প্রধানমন্ত্রী না করে প্রণবকে প্রধানমন্ত্রী করার দাবি জেগে উঠেছিল কংগ্রেসের অন্দরে। কারণ প্রণব এই পদের জন্য অনেক বেশি যোগ্য ছিলেন। ইন্দিরা গান্ধীর আমলে প্রণব অর্থমন্ত্রকের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের দায়িত্বে ছিলেন। রাজীব গান্ধীর সময় থেকে হাইকমান্ডের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হতে শুরু করেছিল প্রণবের।












Click it and Unblock the Notifications