সোশ্যাল মিডিয়া ছেয়ে গিয়েছে প্রতারণামূলক ভুয়ো বিজ্ঞাপনে, আমজনতাকে সতর্ক থাকার পরামর্শ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের
ভারত জুড়ে অনলাইনে প্রতারণার ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (MHA) নাগরিকদের এই বিষয়ে সতর্ক করেছে। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে থাকা ভুয়ো বিজ্ঞাপনগুলি এখন বিনিয়োগের প্রলোভন, মিথ্যা চাকরির প্রস্তাব এবং জটিল অনলাইন স্ক্যামের মূল মাধ্যম হয়ে উঠেছে। এই বিজ্ঞাপনগুলিতে অনেক সময় ডিপফেক ভিডিও ব্যবহার করে ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।
এই ধরনের প্রতারণার ফলে দেশের বহু মানুষ মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। আকর্ষণীয় ভিজ্যুয়াল, মিথ্যা দাবি এবং পেশাদার চেহারার অনলাইন পেজ দেখে অনেকে প্রতারিত হচ্ছেন। নাগরিকদের অবিলম্বে যেকোনও সন্দেহজনক কার্যকলাপ সম্পর্কে রিপোর্ট করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

সম্প্রতি, আহমেদাবাদের একজন পঁচিশ বছর বয়সী মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ ইনস্টাগ্রামের একটি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে একটি ট্রেডিং স্ক্যামে ৪৪ লক্ষ লক্ষ টাকা হারিয়েছেন। উচ্চ লাভের আশায় তিনি প্রতারকদের দ্বারা পরিচালিত একটি টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দেন, সেখানে প্রথমে তাকে লাভের ভুয়ো স্ক্রিনশট দেখানো হয়েছিল। পরবর্তীতে তার পুরো বিনিয়োগ গায়েব হয়ে যায়।
আশোক বিহারের একজন চল্লিশ বছর বয়সী মহিলা সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি স্টক ট্রেডিংয়ের প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপনের শিকার হয়ে ২১ লক্ষ টাকা হারিয়েছেন। তিনি একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করেছিলেন যা দেখতে একটি আসল ব্রোকারেজ প্ল্যাটফর্মের মতো ছিল। শুরুতে তার অ্যাকাউন্টে অল্প কিছু লাভ দেখা যায়, যা তাকে বিশ্বাস করাতে সাহায্য করে।
এরপর তাকে ১০০ জনের বেশি সদস্যের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত করা হয়। সেখানে একজন মহিলা নিজেকে বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিনিয়োগের নির্দেশ দেন। এটিকে আসল ভেবে মহিলা পাঞ্জাব, বাংলা ও ওড়িশার তিনটি ভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠান। যখন তিনি অতিরিক্ত ৭০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করতে অস্বীকার করেন, তখন তাকে অ্যাপ্লিকেশন থেকে ব্লক করে দেওয়া হয় এবং তিনি বুঝতে পারেন যে তিনি প্রতারিত হয়েছেন।
পূর্ব দিল্লির একজন আটাত্তর বছর বয়সী ইংরেজি শিক্ষক একটি ফোন কলের মাধ্যমে ১৩ লক্ষ টাকা খুইয়েছেন। একজন ব্যক্তি নিজেকে পুলিশ অফিসার দাবি করে তাকে জানান যে তার নম্বর আর্থিক জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত। এরপর কলটি সিবিআই অফিসার পরিচয় দেওয়া অন্য এক ব্যক্তির কাছে স্থানান্তরিত হয়। তার বাড়ি বাজেয়াপ্ত করার হুমকির মুখে পড়ে বয়স্ক লোকটি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তার ব্যাঙ্ক ডিটেলস শেয়ার করেন।
তাকে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার সঙ্গে যুক্ত একটি অ্যাকাউন্টে টাকা স্থানান্তর করতে বলা হয় এবং আশ্বাস দেওয়া হয় যে তদন্ত শেষে টাকা ফেরত দেওয়া হবে। নয় দিনের মধ্যে তিনি মোট ১৩ লাখ টাকা তিনটি কিস্তিতে পরিশোধ করেন এবং এরপরই তিনি বুঝতে পারেন যে তিনি প্রতারিত হয়েছেন।
রোহিণীর এক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্রী সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচারিত একটি ভুয়ো ক্যাশব্যাক স্কিমে ১.৪ লাখ টাকার বেশি খুইয়েছেন। কিউআর কোডের মাধ্যমে কমিশনের প্রলোভনে পড়ে তিনি আগের পেমেন্টগুলি ফেরত পাওয়ার আশায় টাকা পাঠাতে থাকেন। তার এক বন্ধু তাকে সতর্ক করলে তিনি সাইবার জালিয়াতির অভিযোগ করেন এবং তার অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করান, যার ফলে ৪০ হাজার টাকা উদ্ধার হয়। তবে বাকি ১ লক্ষ টাকা ততক্ষণে অনেকগুলি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে চলে গিয়েছিল।
কমলা নগরে বসবাসকারী বিহারের একজন ইউপিএসসি পরীক্ষার্থী হোটেল এবং রেস্তরাঁর রেটিং করার পার্ট-টাইম কাজের প্রস্তাব দেওয়া একটি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজের জবাব দিয়ে প্রতারিত হন। প্রথমে তাকে অল্প কিছু পেমেন্ট করা হয়, যা তাকে বিশ্বাস করাতে সাহায্য করে। পরবর্তীতে তাকে উচ্চ মূল্যের কাজগুলি সম্পন্ন করার জন্য টাকা স্থানান্তর করতে উৎসাহিত করা হয়। সেখানে আরও বেশি কমিশনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তিনি তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলার আগেই একাধিক অ্যাকাউন্টে ৯৩ হাজার টাকা পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। এর পরপরই একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, এই ঘটনাগুলির একটি সাধারণ প্রবণতা হল- ভুয়ো বিজ্ঞাপন, সোশ্যাল মিডিয়াতে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং দ্রুত বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ফান্ড স্থানান্তর করা যাতে টাকা উদ্ধার করা কঠিন হয়। ভারতীয় সাইবার ক্রাইম কোঅর্ডিনেশন সেন্টার (I4C)-এর মাধ্যমে মন্ত্রক আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির সঙ্গে কাজ করে এই হুমকিগুলি পর্যবেক্ষণ এবং মোকাবিলা করে চলেছে।
নাগরিকদের সতর্ক থাকতে এবং অনলাইন থেকে আসা অযাচিত বিনিয়োগ পরিকল্পনা, ক্যাশব্যাক অফার বা পার্ট-টাইম কাজের বার্তাগুলিতে সাড়া না দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। যে কোনও সন্দেহজনক কার্যকলাপ অবিলম্বে ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টাল (www.cybercrime.gov.in) অথবা 1930 হেল্পলাইন নম্বরে রিপোর্ট করতে হবে। যার মাধ্যমে দেশব্যাপী ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। এছাড়াও, সতর্ক ও সচেতন থাকতে MHA নাগরিকদের সমস্ত প্রধান সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে CYBERDOST নামের অফিসিয়াল হ্যান্ডেলটি ফলো করার পরামর্শ দিয়েছে।
ইউটিউব - https://youtube.com/@cyberdosti4c
ইনস্টাগ্রাম- https://www.instagram.com/cyberdosti4c?igsh=c2tteTd5Mjl2b2cw
ফেসবুক- https://www.facebook.com/share/1KVuL1aJ9y/?mibextid=wwXIfr
এক্স- https://x.com/cyberdost?s=11
হোয়াটসঅ্যাপ- https://whatsapp.com/channel/0029Va3VAOY8fewrOtXqMw1V
ডেইলিহান্ট - https://m.dailyhunt.in/profile/I4C_MHA












Click it and Unblock the Notifications