বিচার ব্যবস্থার ব্যর্থতা এটা, নির্ভয়া–দোষীদের ফাঁসি পিছিয়ে যাওয়ায় প্রতিক্রিয়া আশা দেবীর
বিচার ব্যবস্থার ব্যর্থতা এটা, নির্ভয়া–দোষীদের ফাঁসি পিছিয়ে যাওয়ায় প্রতিক্রিয়া আশা দেবীর
পরপর তিনবার। নির্ভয়া–দোষীদের ফাঁসি ফের একবার পিছিয়ে গেল। আগামীকাল, ৩ মার্চ ফাঁসি হচ্ছে না নির্ভয়া–কাণ্ডের চার অপরাধীর, জানিয়ে দিল আদালত। এই রায়ের পরই বিক্ষুব্ধ নির্ভয়ার মা আশাদেবী সোমবার জানান, বারবার মৃত্যুদণ্ড পিছিয়ে দেওয়ার অর্থ দেশের বিচার ব্যবস্থার ব্যর্থতা।

ব্যর্থ বিচার ব্যবস্থা
আশা দেবী আদালতের কাছে প্রশ্ন করেন, ‘আদালত নিজেই মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েও তা আসামীদের ফাঁসি দিতে কেন আদালত এত সময় নিচ্ছে? বারংবার এই ফাঁসি পিছিয়ে যাওয়া আমাদের বিচার ব্যবস্থার ব্যর্থতাকে তুলে ধরছে। আমাদের গোটা পদ্ধতি অপরাধীদের সমর্থন করছে। যে আদালত নিরপেক্ষ বিচারের জন্য পরিচিত বিশ্ববাসী দেখছে এই মামলাটার সঙ্গে আদালত কি ধরনের আচরণ করছে।' সোমবার দিল্লি আদালতের পক্ষ থেকে নির্ভয়া দোষীদের ফাঁসির আদেশ স্থগিত করে দেওয়া হয়। মঙ্গলবারই ভোর ছ'টার সময় নির্ভয়া দোষীদের ফাঁসি হওয়ার কথা ছিল।

পবন গুপ্ত ফের আবেদন জানায়
ফাঁসি চূড়ান্ত হওয়ার পরে, ফাঁসির এক দিন আগে, সুপ্রিম কোর্টে রায় সংশোধনের জন্য আবারও আর্জি জানিয়েছিল নির্ভয়া গণধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের চতুর্থ অপরাধী পবন গুপ্ত। সেই আর্জি খারিজ হয়ে যায় সুপ্রিম কোর্টে। সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আর্জি জানায় পবন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সে আর্জিও খারিজ করে দেন রাষ্ট্রপতি। কিন্তু তার পরেও আদালতে নির্ভয়া-কাণ্ডের আসামিদের ফাঁসি স্থগিতের আবেদন করেন অপরাধী পক্ষের আইনজীবীরা। আশা দেবী বলেন, ‘রোজ একটু একটু করে নিরাশ হচ্ছি। কিন্তু প্রতিদিনই আবার উঠে দাঁড়াচ্ছি। তবে আসামিরা যাই করুক না কেন ফাঁসি ওদের হবেই। নির্ভয়া মামলার মতো এরকম মামলা আর একটাও নেই যদিও আমি এখনও বিচারের জন্য লড়ে চলেছি। আদালত বসে বসে শুধু নাটক দেখছে।'

বারবার ফাঁসি পিছিয়ে যায়
২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর দিল্লিতে চলন্ত বাসের ভিতরে ২১ বছরের এক তরুণীকে নৃশংস ভাবে গণধর্ষণ করে ছ'জন যুবক। ২৯ ডিসেম্বর মারা যান তরুণী। এক জন অভিযুক্ত ধরা পড়ার পরে জেলে আত্মহত্যা করে, অন্যজন নাবালক বলে ছাড় পেয়ে যায়। বাকি চার জনের বিচার চলছে দীর্ঘ আট বছর ধরে। শেষমেশ এই জানুয়ারি মাসের ২২ তারিখে ফাঁসির আদেশ ঘোষণা হয় আদালতে। কিন্তু তার পর থেকেই শুরু হয়েছে নানা টালবাহানা। আইনি ফাঁককে কাজে লাগিয়ে একের পর এক অজুহাতে ফাঁসির পদ্ধতি পিছিয়ে চলেছে তারা। ২২ তারিখে ফাঁসি রদ হওয়ার পরে ফের ১ ফেব্রুয়ারি জারি হয় ফাঁসির দ্বিতীয় তারিখ। সময়ের কয়েক ঘণ্টা আগে পিছিয়ে যায় সেই তারিখও। এভাবে দু'বার দিনঘোষণার পরে ফাঁসি বাতিল হওয়ার পরে দিল্লির পাটিয়ালা হাউস আদালত ১৭ ফেব্রুয়ারি তৃতীয় বারের জন্য ঘোষণা করে, ৩ মার্চ ভোর ৬টায় কার্যকর হবে চার আসামির মৃত্যুদণ্ড। সেই মর্মে জারি করা হয় মৃত্যু পরোয়ানাও। তিহাড় জেলও সেরে রেখেছে ফাঁসির সবটুকু প্রস্তুতি। কিন্তু আবারও বিফল হল সবটা।












Click it and Unblock the Notifications