পাকিস্তানকে চাপে রেখে সিন্ধু নদের জল ধরে রাখার প্রক্রিয়া শুরু করে দিল ভারত
সিন্ধু নদের জল নিয়ে কড়া পদক্ষেপ করতে চলেছে ভারত। শুক্রবার উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। কেন্দ্রের পাশাপাশি জম্মু ও কাশ্মীর এবং পাঞ্জাব সরকারের প্রতিনিধিরাও সেই বৈঠকে হাজির ছিলেন।
নয়াদিল্লি, ২৪ ডিসেম্বর : সিন্ধু নদের জলের উপরে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে এবার কাজ শুরু করে দিল ভারত। উরি হামলার পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কূটনৈতিকভাবে পাকিস্তানকে চাপে ফেলার নানা কৌশল নেন। তখনই তিনি বলেছিলেন, রক্ত ও জল কখনও একসঙ্গে বইতে পারে না।['সিন্ধু জল চুক্তি' দিয়ে পাকিস্তানকে চাপে ফেলতে চাইলে তা ব্যুমেরাং হতে পারে ভারতের কাছে!]
অর্থাৎ এতদিন ধরে ভারত যেভাবে চুক্তি অনুযায়ী মোট জলের মাত্র ২০ শতাংশ রেখে বাকীটা পাকিস্তানকে ছেড়ে দিত, এবার তা থেকে সরে আসতে বাধ্য হবে ভারত। সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে বারবার পাকিস্তান কথার খেলাপ করাতেই এই অবস্থান বলে ভারতের তরফে জানানো হয়েছিল।[চিন ব্রহ্মপুত্রের জল আটকালে সমস্যায় পড়তে পারে ভারত!]

এবার সেই পথে হেঁটেই সিন্ধু নদের জল নিয়ে কড়া পদক্ষেপ করতে চলেছে ভারত। শুক্রবার উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। কেন্দ্রের পাশাপাশি জম্মু ও কাশ্মীর এবং পাঞ্জাব সরকারের প্রতিনিধিরাও সেই বৈঠকে হাজির ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নৃপেন্দ্র মিশ্রের সভাপতিত্বে হওয়া বৈঠকে জম্মু ও কাশ্মীরে প্রস্তাবিত জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। সেজন্য কী ধরনের পরিকাঠামো প্রয়োজন, ভারতের ভাগে পড়া সিন্ধু, ঝিলম ও চন্দ্রভাগা নদীর জল ধরে রাখতে বাঁধের জল ধারণের ক্ষমতা কত হওয়া প্রয়োজন তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
পাঞ্জাবের উপর দিয়ে গিয়ে রবি, বিপাশা ও শতদ্রু নদী যেহেতু পাকিস্তানে পড়েছে তাই পাঞ্জাবের প্রতিনিধিত্বও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। সেজন্য পাঞ্জাব সরকারের মুখ্যসচিবও এই বৈঠকে হাজির ছিলেন। এর পাশাপাশি এই বৈঠকে হাজির ছিলেন এনএসএ প্রধান অজিত ডোভাল, বিদেশমন্ত্রকের সচিব এস জয়শঙ্কর, অর্থমন্ত্রকে সচিব অশোক লাভাসা ও জলসম্পদ মন্ত্রকের সচিব শশীশেখর।
প্রসঙ্গত, ১৯৬০ সালে জল বণ্টন সংক্রান্ত একটি চুক্তি হয় ভারত ও পাকিস্তান সরকারের মধ্যে। এটি 'সিন্ধু জল চুক্তি' নামে পরিচিত। চুক্তি অনুযায়ী, পূর্বের তিনটি নদী বিপাশা, ইরাবতী ও শতদ্রুর অধিকার থাকবে ভারতের কাছে। অন্যদিকে পশ্চিমের তিনটি নদী সিন্ধু, চেনাব ও ঝিলমের অধিকার থাকবে পাকিস্তানের।
এই চুক্তিতে প্রথম থেকেই বিতর্ক ছিল এবং আজও রয়েছে। কারণ সবকটি নদীর উৎপত্তিস্থলই ভারতীয় অববাহিকায়। ফলে যেহেতু সবকটি নদী ভারতের মধ্য দিয়ে বয়ে পাকিস্তানে যাচ্ছে, তাই চুক্তি অনুযায়ী ভারত সেচ, জলবিদ্যুৎ উৎপাদন সহ সমস্ত কাজে এই জল ব্যবহার করতে পারবে বলে স্থির হয়। মোট জলের ২০ শতাংশ ভারত ব্যবহার করতে পারবে বলে ঠিক হয়েছিল। গত পাঁচ দশকের বেশি সময় গড়িয়ে গেলেও ভারত কখনও জল ছাড়া নিয়ে কখনও বেইমানি করেনি। তবে সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গে পাকিস্তানের বেইমানি ও উরি হামলা পরে ভারত কড়া সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications