কেরলে আবহাওয়ায় বড় পরিবর্তন! পরিস্থিতিকে উপেক্ষা করলে আরও বড় ক্ষতির আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের
কেরলে আবহাওয়ায় বড় পরিবর্তন! পরিস্থিতিকে উপেক্ষা করলে আরও বড় ক্ষতির আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের
অসময়ে প্রবল বৃষ্টি (rain), যার জেরে বিধ্বস্ত কেরল (kerala)। গত কয়েকদিনে প্রকৃতির ধ্বংসলীলা দেখেছে সাধারণ মানুষ। বহু সাধারণ মানুষের মৃত্যুর পাশাপাশি সম্পত্তিহানিও হয়েছে প্রচুর। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, গত পাঁচবছরে রাজ্যের বৃষ্টির ধরনের আমুল পরিবর্তন হয়েছে। যার জেরেই এই পরিস্থিতি।

আবহাওয়ার পরিবর্তন স্পষ্ট
গত কয়েকবছরে যে কেরলে আবহাওয়ার পরিবর্তন হচ্ছে, তা এখন সবার কাছেই স্পষ্ট। ২০১৮ সালের সেখানে শতাব্দীর ভয়াবহতম বন্যা হয়েছিল। আর এবার হল হড়কা বান। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত দুদশকে আরব সাগরের ওপরের তাপমাত্রা বেড়েছে ১.২ থেকে ১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো। সাধারণভাবে আরব সাগরের তাপমাত্রা বঙ্গোপসাগরের তুলনায় ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো কম থাকে। সেই কারণে আরব সাগরে তুলনায় কম নিম্নচাপ এবং ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়। কিন্তু সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। তবে সেই পরিবর্তন শুরু সাগরের উপরিভাগেই সীমাবদ্ধ নেই বলে জানানো হয়েছে।

বেড়েছে আরব সাগরের ওপরের তাপমাত্রা
বিজ্ঞানীরা বলছেন, সাধারণভাবে পৃথিবীর তাপমাত্রার ৯০ শতাংশ শোষণ করে নেয় মহাসাগরগুলি। সাধারণভাবে ভারত মহাসাগর এবং বঙ্গোপসাগরের তাপমাত্রা থাকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে। অন্যদিকে আরব সাগরের ক্ষেত্রে তা থাকে ২৬-২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। কিন্তু গত কয়েকবছরে দ্রুত তাপমাত্রা বাড়ছে আরব সাগরের। যারই প্রভাব পড়েছে কেরলে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হল দূষণ। সেন্ট্রাল মেরিন ফিসারিজ ইনস্টিটিউটের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বড় মহাসাগরগুলিতে মাছের থেকে প্লাস্টিকের সংখ্যা বেড়ে গিয়েছে। তাদের করা হিসেব অনুযায়ী, ২০৫০ সাল নাগাদ সমুদ্রে প্লাস্টিকের পরিমাণ দাঁড়াবে ৮৫০ মেট্রিক টনের মতো। আর মাছ থাকবে ৮২১ মেট্রিক টনের মতো। বিশ্বের সমুদ্রে যেসব এলাকায় দূষণ সব থেকে বেশি তার মধ্যে রয়েছে মুম্বই, কেরল এবং আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের মতো এলাকা।

আরব সাগরে বেড়েছে ঘূর্ণাবর্তের সংখ্যা
আরব সাগরে ঘূর্ণাবর্তের সংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে গত কয়েকবছরে। দেখা গিয়েছে ২০০১ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে আরব সাগরে ঘূর্ণাবর্তের সংখ্যা বৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৫২ শতাংশের মতো। আবহাওয়া দফতরের দেওয়া হিসেব অনুযায়ী, নটি ঘূর্ণিঝড় এবং বড় নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে এই এলাকায়। এর মধ্যে চারটি তৈরি হয়েছে আরব সাগরে।

কেরলকে সতর্ক থাকতে হবে
বিজ্ঞানীরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কেরলকে সতর্ক থাকতে হবে। কেননা কেরলে একদিকে যেমন পাহাড় রয়েছে, অন্যদিকে রয়েছে নদী। আর পাহাড় থেকে নেমে আসা ভৌগলিক দৃশ্যও রয়েছে সেখানে। ফলে কেরলবাসীকে জমির ব্যবহার সম্পর্কে সবসময় সতর্ক থাকতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেরলে কোনও ঘটনা ঘটার পরে আলোচনা শুরু হয়, কিন্তু খুব তাড়াতাড়ি তা মানুষের মন থেকে হারিয়ে যায়। ভগবানের আপন দেশে যা পরিস্থিতি তাতে সেখানে মেঘ ভাঙা বৃষ্টি, হড়পা বান কিংবা ভূমিধস থেকে যাবে। রাজ্য যদি আবহাওয়ার পরিবর্তনকে উপেক্ষা করে, তাহলে তাদেরকে মূল্য দিতে হবে বলেও সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।












Click it and Unblock the Notifications