ডেল্টার থেকেও সংক্রমক, পুনরায় সংক্রমণের সুযোগ বেশি ওমিক্রনে
২৫ নভেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকায় সর্বপ্রথম ওমিক্রনের খোঁজ মিলেছিল। তারপর থেকে বিশ্বজুড়ে ত্রাসের অপর নাম কোভিডের এই নয়া স্ট্রেন। আফ্রিকার দক্ষিণাংশ থেকে শুরু করে সংক্রমণ ছড়িয়েছে ইউরোপে। বাদ যায়নি ভারতও! শুক্রবার দেশে ওমিক্রন আক্রান্ত সংখ্যা সবমিলিয়ে ৩৩ জন। তবে এই ওমিক্রন ঠিক কতটা ক্ষতিকর, তার প্রমাণ মেলেনি। বিজ্ঞানীরা দিন-রাত এক করে দিচ্ছেন এর খুঁটিনাটি জানতে।

সম্প্রতি ওমিক্রন সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য জানতে পেরেছেন দক্ষিণ আফ্রিকান বিজ্ঞানীরা৷ তাঁদের মতে এই ওমিক্রন স্ট্রেনটি অন্যান্য ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় অনেকটা বেশি ক্ষতিকর।
ঠিক কী কী বলছেন বিজ্ঞানীরা? দক্ষিণ আফ্রিকার ডিএসআই-এনআরএফ সেন্টার অফ এক্সিলেন্স ইন এপিডেমিওলজিকাল মডেলিং অ্যান্ড অ্যানালাইসিস এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর কমিউনিকেবল ডিজিজেস) এর বিজ্ঞানীদের বক্তব্য, ' ওমিক্রনের ক্ষেত্রে পুনরায় সংক্রামিত হওয়ার ঝুঁকি আরও বেশি। অর্থাৎ কেউ কোভিড আক্রান্ত হওয়ার ৩ মাসের মধ্যেই ওমিক্রন আক্রান্ত হতে পারেন। ডেল্টা কিংবা বিটা ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় ওমিক্রনে পুনরায় সংক্রামিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় তিন গুন বেশি৷ আমরা গবেষণায় জানতে পেরেছি, ওমিক্রন অন্যান্য ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় বেশি মাত্রায় দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মোকাবিলা করতে পারে। বিটা কিংবা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণের সময় অবশ্য এমন একেবারেই দেখা যায়নি। কোভিডের একেবারে প্রাথমিক ভ্যারিয়েন্টের মতোই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার বিরুদ্ধে মোকাবিলা করত বিটা, ডেল্টা।'
স্বাভাবিকভাবেই বিজ্ঞানীদের এই রিপোর্ট জনস্বাস্থ্য, প্রশাসনের নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে৷ বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশে, যেখানে পূর্বের সংক্রমণের পর যথেষ্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে মানবদেহে। হিসেব বলছে, ২০২১ এর মে মাসের আগে দক্ষিণ আফ্রিকার মোট রক্তদাতার ৬০ শতাংশ আক্রান্ত হয়েছিলেন। চলতি বছরের অগাস্টের আগে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৬০ শতাংশ নাগরিক৷ কাজেই কোভিড যে নিজের ধর্ম পরিবর্তন তথা মিউটেশনের পরই ওমিক্রন রুপে আছড়ে পড়েছে, তা বলা বাহুল্য। এমতাবস্থায় জনগণের হার্ড ইমিউনিটির ওপর কোনওরুপেই ভরসা করতে পারবে না প্রশাসন।












Click it and Unblock the Notifications