চার মিনিটে ৫২ বার 'Sorry'! স্কুলের ছাদ থেকে ঝাঁপ অষ্টম শ্রেণীর স্কেটিং চ্যাম্পিয়নের, ঘটনা কী? জানুন

মধ্যপ্রদেশে ঘটে গেল আবারও এক ঘটনা। স্কুলের তৃতীয় তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে গুরুতর জখম হল এক অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের রতলাম শহরে। জাতীয় স্তরের স্কেটার ওই ছাত্র। নাম রিশান কাটারা। স্কুল চত্বরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করায় ছেলেটির অধ্যক্ষ তাকে তার ক্যারিয়ার শেষ করে দেওয়ার, তাকে বরখাস্ত করার এবং তার পদক কেড়ে নেওয়ার হুমকি দেন। সেইসঙ্গে ছেলেটির অভিভাবককে স্কুলে ডাকা হলে, কয়েক মিনিটের মধ্যেই হঠাৎ করে ছেলেটি ছাদে উঠে লাফ দেয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনা ঘটার পরেই গোটা এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়ায়।

Sorry

কর্মকর্তাদের মতে, ঘটনাটির শুরু বৃহস্পতিবার থেকেই হয়। সেই ছাত্রটি স্কুলের নিয়ম লঙ্ঘন করে মোবাইল ফোন স্কুলে নিয়ে এসেছিল এবং তার পাশাপাশি শ্রেণীকক্ষের ভেতরে সোশ্যাল মিডিয়ায় রিলও বানিয়েছিল। পরে সে বানানো সেই ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টও করে।বৃহস্পতিবারই ওই ছাত্রকে স্কুলের নিয়ম লঙ্ঘন করে মোবাইল ফোন স্কুলে না নিয়ে আসার জন্য একবার সতর্ক করেছিলেন শিক্ষকরা। তারপরের দিন অর্থাৎ শুক্রবার ছেলেটির বাবা-মাকে স্কুলে ডেকে পাঠানো হয়েছিল এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার জন্য। ছেলেটির বাবা-মাকে স্কুলে পৌঁছনোর পর এই বিষয় নিয়ে কথা শুরু হওয়ার আগেই রিশন হঠাৎ করেই সরে গিয়ে সোজা ছাদে ওঠে এবং এক মুহূর্তের মধ্যেই ছাদ থেকে নীচে ঝাঁপ দিয়ে দেয়।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ছেলেটি তার অধ্যক্ষের অফিসে হেঁটে যাচ্ছে। সে প্রায় চার মিনিট ধরে সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল এবং বারবার ক্ষমাও চেয়েছিল। ফুটেজ অনুসারে, সে ৫২ বার 'দুঃখিত (Sorry)' বলে ক্ষমা চেয়েছিল।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশে সন্দেহ করছে যে, ছেলেটি মানসিক চাপ ও বাবা-মা বকতে পারে, এই ভয়ের কারণেই এমন কাজ করেছে।

ছেলেটির বাবা প্রীতম কাটারা বলেন, 'আমার ছেলের সাথে দেখা করার জন্য আমাকে স্কুলে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। যখন আমি স্কুলে পৌঁছাই, তখন জানতে পারি যে সে ছাদ থেকে পড়ে গেছে। আমার ছেলে দু'বার জাতীয় স্কেটিংয়ে অংশ নিয়েছে। প্রথমে আমাকে স্কুল থেকে ফোন করে স্কুলে যেতে বলা হয়েছিল, কিন্তু তারপরই আবার স্কুল থেকে আরেকটি ফোন আসে এবং আমাকে সরাসরি হাসপাতালে আসতে বলা হয়।'

ঘটনার ঘটার পরে স্কুল কর্তৃপক্ষ ছেলেটিকে দ্রুত নিকটবর্তী একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ছেলেটির চোয়াল, দুই পা এবং মেরুদণ্ডে গুরুতর ভাবে আঘাত লেগেছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেলেটির অবস্থার আরও অবনতি দেখা দিলে তাকে স্থানীয় হাসপাতাল থেকে রতলামের জিডি হাসপাতালে পরিবর্তন করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, রিশন এখন সংকটজনক অবস্থায় রয়েছে।

পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনাটির তদন্ত করতে শুরু করেছে। স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহারের নীতি, রিশনকে সেই বিষয়ে কীভাবে সতর্ক করা হয়েছিল, সমস্তটাই খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+