দেশের সাংবিধানিক প্রধানের পদে দ্রৌপদী মুর্মু! কেমন ছিলেন ওড়িশার ছোট স্কুলে পড়া ছাত্রী, কী বলছেন শিক্ষকরা
দেশের সাংবিধানিক প্রধানের পদে দ্রৌপদী মুর্মু! কেমন ছিলেন ওড়িশার ছোট স্কুলে পড়া ছাত্রী, কী বলছেন শিক্ষকরা
আগামী ৫ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতি (President) পদে নির্বাচিত হয়েছেন ওড়িশার (Odisha) ময়ূরভঞ্জের প্রত্যন্ত এলাকার দ্রৌপদী মুর্মু (Draipadi Murmu) । খুশি তাঁর স্কুলের ছাত্রছাত্রী (Students) থেকে শিক্ষক (Teachers) সবাই। দ্রৌপদী মুর্মুর পড়াশোনা ময়ূরভঞ্জের কুসুমির ওপরবেদা গ্রামের একটি ছোট স্কুলে। এই গ্রামের অবস্থান রাইসিনা হিলস থেকে প্রায় ২ হাজার কিমি আর ওড়িশার রাজধানী ভূবনেশ্বর থেকে ৩১৩ কিমি।

গর্বিত ছাত্র থেকে শিক্ষক সবাই
তাঁদের স্কুলের একসময়ের ছাত্রী দ্রৌপদী মুর্মু রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। স্বভাবতই খুশি তিনি যেই স্কুলে পড়েছেন, সেই সরকারি উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা। খুশি তৎকালীন সময়ের শিক্ষ বিশ্বেশ্বর মহান্তি। তিনি নিজেকে গর্বিত মনে করছেন বলে জানিয়েছেন বিশ্বেশ্বর মহান্তি। দ্রৌপদী মুর্মুর স্কুলের বর্তমান ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে তনুশ্রী-ইন্দ্রজিৎ-স্মৃতির মতো ছাত্রছাত্রীরা খুশি দ্রৌপদী মুর্মু রাষ্টপতি হওয়ায়। দ্রৌপদী মুর্মু তাদের কাছে অনুপ্রেরণা বলেও জানিয়েছে তারা। এরা জানিয়েছে, বড় হয়ে তারা নিজেদের ও
এলাকার নামকে দেশের সামনে তুলে ধরতে চায়।

মেধাবী ছাত্রী
সংবাদ মাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে বিশ্বেশ্বর মহান্তি জানিয়েছেন, দ্রৌপদী মুর্মু মেধাবী ছাত্রী ছিলেন। শিক্ষক বিশ্বেশ্বর মহান্তি জানিয়েছেন, একবার তাঁর শ্রেণিতে ছাত্রছাত্রীদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল তাঁরা বড় হয়ে কে-কী হতে চায়। সেই সময় অন্যরা যে যার পছন্দের কথা জানালেও দ্রৌপদী মুর্মু জানিয়েছিল সে মানুষের সেবা করতে চায়।

বাড়ি এখন বোর্ডিং স্কুল
খুব অল্প সময়ের মধ্যে দ্রৌপদী মুর্মু স্বামী ও ২ ছেলেকে হারান। এরপর তিনি নিজের বাড়িটিকে বোর্ডিং স্কুলে রূপান্তরিত করেন। সেই স্কুল এখনও চলছে। প্রসঙ্গত দ্রৌপদী মুর্মুর স্বামী প্রয়াত শ্যামচরণ মুর্মু ব্যাঙ্কে চাকরি করতেন। তাঁর মেয়ে ইতিশ্রী মুর্মু ভুবনেশ্বরের একটি ব্যাঙ্কে চাকরি করেন। অন্যদিকে
তাঁর দুই ছেলে মারা যান ২০০৯ ও ২০১২ সালে মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে।

শিক্ষিকা হিসেবে দ্রৌপদী মুর্মু
১৯৯৪ সাল থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত দ্রৌপদী মুর্মু ময়ূরভঞ্জের রায়রাংপুরে শ্রী অরবিন্দ ইন্টিগ্রেটেড এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চে শিক্ষিকা হিসেবে ছিলেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা হিসেবে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে পড়াতেন।
১৯৯৭ সালে তিনি রায়রাংপুর পুরসভার সদস্য হন।
দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে কাজ করা দিলীপ গিরি নামে এর ব্যক্তি সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, ছাত্রছাত্রীদের কাছে খুব প্রিয় ছিলেন। জন্মদিনে ছাত্রছাত্রীদের চকোলেট দিতেন। এমন কী ১৬ ফেব্রুয়ারি তাঁর জন্মদিনেও দ্রৌপদী মুর্মু চকোলেট
দিয়েছিলেন। স্কুলের অন্য কর্মীরা জানিয়েছেন, দ্রৌপদী মুর্মুর মেয়ে ইতিশ্রী মুর্মুও ওই স্কুলেই পড়াশোনা করেছে। তবে নিজের মেয়ের জন্য তাঁর (দ্রৌপদী) আলাদা কোনও আচরণ করতেন না। সব ছাত্রছাত্রীদের তিনি সামন চোখে দেখতেন।












Click it and Unblock the Notifications