কাতার থেকে মুক্ত মৃত্যু দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আট নৌসেনা সদস্য! আড়ালে থেকে কামাল করলেন জয়শঙ্কর-দোভালরা
কাতারে গুপ্তচর বৃত্তির অভিযোগে জেলে থাকা আট প্রাক্তন নৌসেনাকে মুক্তি দিয়েছে উপসাগরীয় ওই দেশ। রবিবার রাতে দেশে ফিরে এসেছেন সাতজন। কাতারের আমিরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং আড়ালে থেকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের কেরামতি আটজনের দেশে ফেরে নিশ্চিত করেছে।
প্রাক্তন নৌসেনাদের মুক্ত করতে কূটনৈতিক ফ্রন্ট সামলেছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। অন্যদিকে এব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী মোদীর পরামর্শে কাতারের সঙ্গে সূক্ষ্ম আলোচনা চালিয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। এব্যাপারে দোভাল নিজে বেশ কয়েকবার দোহা সফর করেছেন এবং ভারতের দৃষ্টিভঙ্গী কাতারের সামনে তুলে ধরেছেন।

গত অক্টোবরে একটি মামলায় আট প্রাক্তন নৌসেনার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ ভারত সরকারকে চমকে দিয়েছিল। আট প্রাক্তন নৌসেনার বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ উঠেছিল। ভারতের তরফে আবেদনের প্রক্রিয়া শুরুর পরে কাতারের আদালত তাদের সাজা কমিয়ে জেলের সাজা দেয়।
তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোজী দুবাইতে COP28 সম্মেলনের ফাঁকে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানির সঙ্গে দেখা করেন এবং দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্ব এবং কাতারে বসবাসকারী ভারতীয় সম্প্রদায়ের মঙ্গল নিয়ে আলোচনা করেন।
গতমাসে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছিলেন, সরকার সমস্যাটি উদ্বিগ্ন। তবে ষাট দিনের সময় রয়েছে। যেখানে কাতারের উচ্চ আদালতে আবেদন করা যেতে পারে। তবে তার আগেই বিদেশমন্ত্রকের কাছে আদেশলতের আদেশ ছিল। যেখানে মৃত্যুদণ্ডের সাজাকে কারাদণ্ড দেওয়ার বিস্তারিত বিবরণ ছিল। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং কাতারের আমির শেখল তামিম বিন হামাদের মধ্যে হওয়া বৈঠকটিও তুলে ধরে বলেছিলেন, তাঁদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে ভাল আলোচনা হয়েছে।
কাতারে আটক ভারতীয় নৌবাহিনীর আট প্রবীণ সদস্য হলেন, ক্যাপ্টেন নভতেজ সিং গিল, ক্যাপ্টেন বীরেন্দ্র কুমার ভার্মা, ক্যাপ্টেন সৌরভ বশিষ্ঠ, কমান্ডার অমিত নাগপাল, কমান্ডার পূর্ণেন্দু তিওয়ারি, কমান্ডার সুগুনাকর পাকালা, কমান্ডার সঞ্জীব গুপ্তা এবং নাবিক রাগেশ। ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রবীণ এই সদস্যরা দিল্লিতে ফিরে আসার পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে এব্যাপারে হস্তক্ষেপের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদীর হস্তক্ষেপ ছাড়া তাঁদের পক্ষে দাঁড়ানো সম্ভব হত না।
এদিন বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রী মোদীর জয় গান শোনা গিয়েছে। তবে আড়ালে থেকে যাঁরা কাজটিকে আরও সহজ করে তুলেছেন তাঁরা হলেন, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল।












Click it and Unblock the Notifications