ইন্দিরার থেকে মোদীর আমলে সংসদে সাসপেনশন ৩৬ গুণ বেশি! রাজ নারায়ণের সঙ্গে উচ্চারণ দোলা-ডেরেকের নাম
লোকসভা এবং রাজ্যসভা থেকে সাংসদদের সাসপেনশন নিয়ে শোরগোল হচ্ছে। তবে এই সাসপেনশন নতুন কিছু নয়। নেহরুর সময়ে ১৯৬২ সালে প্রথমবার রাজ্যসভা থেকে গোদে মুরাহারিকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। তবে দিন যত গিয়েছে সাসপেনশনের বহর তত বেড়েছে। এবার শুধু শীতকালীন অধিবেশনেই ১৪৬ জন সাংসদকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
ইন্দিরা গান্ধীর শাসনকালে যেখানে ৭ জনকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল, সেখানে মোদীর নয় বছরের শাসনে ২৫৫ জনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তুলনা করলে ৩৬ গুণের বেশি। সাধারণভাবে সংসদে বিশৃঙ্খলা তৈরি ও সংসদে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে সংসদ সদস্যদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

১৯৬৬ সালে তৎকালীন ফায়ারব্র্যান্ড নেতা রাজ নারায়ণকে প্রথমবার সাসপেন্ড করা হয়। তিনিই দেশের প্রথম সাংসদ যাঁকে সংসদ থেকে চারবার সাসপেন্ড করা হয়েছিল। ১৯৬৬-র পর ১৯৬৭, ১৯৭১ ও ১৯৭৪ সালে তাঁকে রাজ্যসভা থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল।
সেই সময় ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস দল ও সরকার খুবই শক্তিশালী ছিল এবং বিরোধীরা ছিল ছিন্নভিন্ন। রাজ নারায়ণকে ইন্দিরা গান্ধীর কট্টর প্রতিপক্ষ বলেই বিবেচনা করা হত। ১৯৭৭ সালের লোকসভা নির্বাচনে রাজ নারায়ণ জনতা দলের প্রতীকে রায়বরেলি থেকে ইন্দিরা গান্ধীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হয়ে প্রথমবারের জন্য লোকসভায় গিয়েছিলেন।
এর মধ্যে রাজীব গান্ধীর সময়ে অর্থাৎ ১৯৮৪ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ৬৩ জন সাংসদকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। আর মনমোহন সিংয়ের ১০ বছরের শাসন কালে মাত্র ৫৯ জন সাংসদকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। সেখানে নরেন্দ্র মোদীর ৯ বছরের শাসনকালে ২৫৫ জন সাংসদকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
ইন্দিরা-রাজীবের সময়ে শুধু বিরোধী সাংসদদের সাসপেন্ড করা হলেও মনমোহনের জমানা ছিল একটু আলাদা। সাসপেন্ড হওয়া ৫৯ জনের মধ্যে ২৮ জন ছিলেন কংগ্রেসের। বিজেপির ২ সাংসদও ছিলেন সেই তালিকায়। তবে মোদীর জমানায় সাসপেন্ড হওয়া ২৫৫ জন সাংসদের মধ্যে কেউই বিজেপির নন, সবই বিরোধী দলের।
ইন্দিরা গান্ধীর জমানায় রাজ নারায়ণকে রাজ্যসভা থেকে চারবার সাসপেন্ড করা হয়েছিল। এই সাপেনশনের নিরিখে তুলনা চলে আসছে তৃণমূলের দোলা সেন, ডেরেক ও'ব্রায়েন ও কংগ্রেসের মনিকম ঠাকুরের নাম। মোদী জমানায় এই তিন সাংসদকে চার বার করে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
দোলা সেনকে প্রথমবার সাসপেন্ড করা হয় ২০২০ সালে। তারপর তাঁকে ২০২১-এর বর্ষাকালীন অধিবেশনে, ২০২১-এর শীতকালীন অধিবেশনে এবং ২০২২-এর বর্ষাকালীন অধিবেশনে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। ৫৬ বছর বয়সী দোলা সেনের সংসদে উপস্থিতির হার ৫৬ শতাংশ।
তৃণমূলের অপর সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েনকেও রাজ্যসভা থেকে চারবার সাসপেন্ড করা হয়েছে। ২০২০ সালের পর ২০২১, ২০২২ ও ২০২৩ সালে তাঁকে রাজ্যসভা থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। ২০১১ সালে তৃণমূল তাঁকে প্রথমবার রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিল।
কংগ্রেস সাংসদ মনিকম ঠাকুরকেও ২০২০ সাল থেকে চারবার সাসপেন্ড করা হয়েছে। ২০২০ সালের পরে ২০২১, ২০২২ সালের বর্ষাকালীন অধিবেশনে তাঁকে সাসপেন্ড করা হযেছিল। সম্প্রতি লোকসভায় সাংসদদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় সাসপেন্ড হওয়া সাংসদদের তালিকায় মনিকম ঠাকুরের নাম রয়েছে। তিনি তামিলনাড়ুর বিরুধানগর আসনের সাংসদ।
-
আরও একটি সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন, আর কত নাম নিষ্পত্তি হওয়া বাকি? -
বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে অনির্দিষ্টকালের জন্য থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী -
ভোটের আগেই কমিশনের কড়া নির্দেশ! অনুমতি ছাড়া জমায়েত নয়, নিয়ম ভাঙলেই গ্রেফতার, রাজ্যজুড়ে জারি কঠোর নির্দেশ -
দাগি নেতাদের নিরাপত্তা কাটছাঁট কতটা মানল পুলিশ? স্টেটাস রিপোর্ট চাইল নির্বাচন কমিশন -
যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই বড় রদবদল! মার্কিন সেনা প্রধানকে সরাল ট্রাম্প প্রশাসন, কারণ কী, জল্পনা তুঙ্গে -
আরও একটি মার্কিন F-35 যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি ইরানের, কী বলছে আমেরিকা? -
এপ্রিলে শক্তিশালী ত্রিগ্রহী যোগ, শনি-সূর্য-মঙ্গলের বিরল মিলনে কাদের থাকতে হবে সতর্ক? -
এপ্রিলেই বাড়ছে গরমের দাপট! আগামী সপ্তাহেই ৪-৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়ার আশঙ্কা, কী জানাচ্ছে হাওয়া অফিস -
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রভাব! শিল্পে ধাক্কা, একলাফে বাড়ল ডিজেলের দাম, কত হল? জানুন -
পুর-নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ভোটের আগে তৃণমূলের দুই হেভিওয়েট নেতাকে ইডির তলব -
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ! MRI Scan-এর খরচ আকাশছোঁয়া হতে পারে, বিপাকে পড়তে পারেন রোগীরা -
অমিত শাহের রাজ্যে থাকার ঘোষণায় তীব্র কটাক্ষ মমতার, বললেন, যত বেশি থাকবে, তত ভোট কমবে












Click it and Unblock the Notifications