ভেঙে দেওয়া হোক নির্বাচন কমিশন! শিবসেনা নাম ও প্রতীক হারিয়ে বিস্ফোরক উদ্ধব ঠাকরে
শিবসেনা নাম ও প্রতীক হারিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ উদ্ধব ঠাকরের। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা।
নির্বাচন কমিশনকে ভেঙে দেওয়ার দাবি তুললেন মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে। দিন দুয়েক আগে নিজের বাবা বাল ঠাকরের প্রতিষ্ঠিত শিবসেনার নাম ও প্রতীক হারিয়েছেন একদা অনুগত একনাথ শিন্ডের কাছে। এদিন তিনি দাবি করেছেন, জনগণের দ্বারা নির্বাচন কমিশনারদের নির্বাচিত হওয়া উচিত। এর আগে উদ্ধব ঠাকরের কাছের বলে পরিচিত সঞ্জয় রাউত শিবসেনার নাম ও প্রতীক একনাথ শিন্ডের হাতে তুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে ২ হাজার কোটির হাত বদলের অভিযোগ করেছিলেন।

কোনও উদাহরণ নেই
উদ্ধব ঠাকরের তরফে সুপ্রিম কোর্টে শিবসেনার নাম ও প্রতীকের জন্য মামলা দায়ের করা হয়েছে। সেখানে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। এব্যাপারে উদ্ধব ঠাকরে বলেছেন, কেউ এমন কোনও উদাহরণ দেখাতে পারবেন না, যেখানে দলের নাম এবং প্রতীক অন্য কোনও গোষ্ঠীকে দেওয়া হয়েছে। কেন তাড়াতাড়ি এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন পড়ল, সেই প্রশ্ন করেছেন তিনি। এব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের জন্য নির্বাচন কমিশনের অপেক্ষা করা উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

শিন্ডে সরকারের ভিত্তি নিয়েই প্রশ্ন
সুপ্রিম কোর্টে উদ্ধব ঠাকরের তরফে যে আবেদন দাখিল করা হয়েছে, সেখানে শিন্ডে সরকারের ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কেননা একনাথ শিন্ডে-সহ ১৬ জন বিধায়ককে অযোগ্য ঘএাষণা করা হয়েছিল। যখন নির্বাচন কমিশন বলছে, শিন্ডের সমর্থনে শিবসেনার দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়কের সমর্থন হয়েছে, সেখানে প্রশ্ন এইসব বিধায়করা কি একসঙ্গে দলবদল করেছিলেন। উত্তর হল , এইসব বিধায়করা একে একে গিয়েছিলেন।

সব কিছু চুরি হয়ে গিয়েছে
মুম্বইয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে উদ্ধব ঠাকরে বলেছেন, তাঁর সব কিছু চুরি হয়ে গিয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্ন করেন, কেন তাঁরা সেখানে? এই মুহূর্তে কোনও কিছুই তার সঙ্গে নেই। তিনি বলেছেন, এক গোষ্ঠী নাম আর প্রতীক নিয়ে গেলেও, ঠাকরে নামটা নিতে পারেনি। বালাসাহেব ঠাকরের পরিবারের তিনি জন্মগ্রহণ করায় তিনি গর্বিত বলে জানিয়েছেন। তবে এটা দিল্লি সাহায্য করলেও নিতে পারবে না, কটাক্ষ করে বলেছেন তিনি।

বিজেপি গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে
উদ্ধব ঠাকরে অভিযোগ করেছেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির সাহায্যে বিজেপির গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে। মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তানি এব্যাপারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও শরদ পাওয়ার এবং নীতীশ কুমার-সহ অনেকের ফোন পেয়েছেন।
উদ্ধর বলেছেন, বিজেপি যা তাদের সঙ্গে করছে, তা ভবিষ্যতে যে কারও সঙ্গে করতে পারে। আর যদি তা হয়, তাহলে ২০২৪-এর পরে দেশের গণতন্ত্র থাকবে না কিংবা নির্বাচন হবে না।

হিন্দুত্ব ত্যাগ করেননি
উদ্ধব ঠাকরে দাবি করেছেন, তিনি কখনই হিন্দুত্ব ত্যাগ করেননি। যদিও ২০১৯-এ বিধানসভা নির্বাচনের পরে মুখ্যমন্ত্রীর পদ নিয়ে বিজেপি ও শিবসেনার মধ্যে দড়ি টানাটানিতে উদ্ধব ঠাকরের বিরুদ্ধে হিন্দুত্বের লাইন থেকে সরে আসার অভিযোগ উঠেছিল।
যাই হোক ২০১৯-এর শেষের দিকে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী পদে বসলেও, ২০২২-এর জুন মাসে একটা অনুগত একনাথ শিন্ডের বিদ্রোহের জেরে উদ্ধবকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে হয়। সেই সময় থেকেই কে আসল শিবসেনা তা নিয়ে লড়াই চলে আসছে।












Click it and Unblock the Notifications