ডিজিটাল প্রতারণার বাড়বাড়ন্ত! মিলেছে কোটি কোটি টাকার লেনদেনের খোঁজ, বড় তথ্য সামনে আনল ইডি
দেশজুড়ে সাইবার প্রতারণার জাল ঠিক কতটা বেড়ে গিয়েছে, তারই এক চমকপ্রদ ছবি তুলে ধরল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। সংস্থা দাবি করেছে যে, অনলাইন জুয়া, থেকে শুরু করে ভুয়ো ইনভেস্টমেন্ট অ্যাপ, তৎক্ষণাৎ ঋণ অ্যাপ, ছদ্মবেশী প্রতারণা সহ বিভিন্ন ভাবে মোট, ৩৪,৮৫৫ কোটি টাকার অপরাধলব্ধ অর্থের হদিশ পাওয়া গিয়েছে। এর মধ্যে এখনও পর্যন্ত আরও ১২,২২৯ কোটি টাকার সম্পত্তি সংযুক্ত করা হয়েছে।

ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে যে, মানি লন্ডারিং আইনে (Prevention of money laundering act) দায়ের হওয়া ২৩৪টি সাইবার অপরাধ মামলার তদন্তে এই বড় অর্থের অঙ্কটি সামনে এসেছে। যার মধ্যে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই 'মিউল অ্যাকাউন্ট' (Mule account), শেল কোম্পানি ক্রিপ্টোকারেন্সি (shell companies cryptocurrencies) এবং হাওলা চক্র (hawala operator)-এর মাধ্যমে টাকা ঘোরানো হয়েছে। জানানো হয়েছে যে, হাজারেরও বেশি মিউল অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে।
গত সপ্তাহে দিল্লিতে সিবিআই এবং ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (I4C)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হওয়া জাতীয় সম্মেলনে এই তথ্য তুলে ধরেছে ইডি। সেই সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ৫০০ তদন্তকারী আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন।
ইডির এক আধিকারিকের বক্তব্য যে, সংগঠিত চক্রগুলি পনজি স্কিম (Ponzi scheme), ভুয়ো ফরেক্স এবং স্টক ট্রেডিং অ্যাপ, গেমিং প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল অ্যারেস্ট, ভুয়ো পরিচয়ে প্রতারণা ইত্যাদির মাধ্যমে টাকা তোলে। তারপরে একাধিক শেল কোম্পানি খুলে সেই টাকা বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ভুয়ো আমদানি, রয়্যালটি অথবা ফ্রেট চার্জ দেখিয়ে বিদেশে সেই অর্থ পাঠানো, ক্রিপ্টোতে রূপান্তর অথবা হাওলা মারফত লেনদেন করেই টাকা পাচার হয়ে যায়।
১০ ফেব্রুয়ারির সম্মেলনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন যে, সাইবার জালিয়াতি রুখতে তাড়াতাড়ি প্রতিরোধ করা সবথেকে বড় অস্ত্র। এর জন্য সমস্ত সংস্থা এবং বিভাগের মধ্যে সমন্বয় ও সচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। তাঁর কথায়, "সিবিআই, এনআইএ, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, রাজ্য পুলিশ এবং অন্যান্য তদন্তকারী সংস্থাকে একসাথে কাজ করেই নিরাপদ এবং বিশ্বাসযোগ্য ডিজিটাল পরিকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।"












Click it and Unblock the Notifications