Maharashtra: পর্যটকদের ফেরানো নিয়ে মতের অমিল! ফড়নবীশকে 'এড়িয়েই' শ্রীনগরে শিন্ডে, সংকটকালেও মহাজুটিতে 'বিবাদ'
Maharashtra: পহেলগাঁওতে জঙ্গি হামলার আবহেই মহারাষ্ট্রে ফের শাসক মহাজুটিতে অস্বস্তি। জঙ্গি হামলায় নিহতদের দেহ ও রাজ্যের আটকে পড়া পর্যটকদের ফেরানো নিয়ে মতের অমিল শাসক জোটের অন্দরেই। শ্রীনগরে প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ। মুখ্যমন্ত্রীর পরিকল্পনায় সায় নেই জোট শরিক তথা উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের। বিজেপির সঙ্গে বনিবনাই হল না শিন্ডে সেনার। মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশকে কার্যত এড়িয়েই শ্রীনগরে পাড়ি দিলেন একনাথ শিন্ডেও।
গত বিধানসভা নির্বাচনে মহারাষ্ট্রে ক্ষমতায় এসেছে মহাজুটি। বহু টানাপোড়েন শেষে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন বিজেপির দেবেন্দ্র ফড়নবীশ। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডেকে এবারে উপমুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত করা হয়েছে। উপমুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন এনসিপির অজিত পাওয়ারও। যদিও তারপর থেকে বারবারই ফড়নবীশের সঙ্গে মতের অমিল ধরা পড়েছে শিন্ডের। আর এবার কাশ্মীরে চূড়ান্ত সংকটের সময়েও অস্বস্তি অব্যাহত।

পহেলগাঁওতে জঙ্গি হামলার পরেই রাজ্যের মন্ত্রী তথা বিজেপির গিরিশ মহাজনকে শ্রীনগরে পাঠিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ। জম্মু কাশ্মীরে আটকে পড়া রাজ্যের পর্যটকদের ফেরাতে সেখানে তদারকি করবেন মহাজন। এছাড়াও কাশ্মীর ফেরত পর্যটকদের সাহায্যে বিজেপি নেতা আশিস সেলার ও মন্ত্রী মঙ্গল প্রভাত লোধাকে মুম্বই বিমানবন্দরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পুনের বিমানবন্দরেও পাঠানো হয়েছে প্রতিমন্ত্রী মাধুরী মিশালকে।
কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর এই পরিকল্পনার সঙ্গে সহমত হননি উপমুখ্যমন্ত্রী তথা শিবসেনা প্রধান একনাথ শিন্ডে। জঙ্গি হামলায় রাজ্যের ৬ হতাহত-সহ পর্যটকদের ফেরাতে সশরীরে শ্রীনগরেই উড়ে গিয়েছেন তিনি। ফিরতি পর্যটকদের সহায়তায় নিজের দলের মন্ত্রীদেরও মুম্বই বিমানবন্দরে থাকার নির্দেশও দিয়েছেন শিন্ডে। তবে বিজেপির মহাজন গিয়েছেন যাত্রীবাহী সাধারণ বিমানে। শিন্ডে অবশ্য গিয়েছেন বিশেষ বিমানে চেপে।
শিন্ডে শিবিরের শিবসেনা নেতাদের অবশ্য দাবি, জোটসঙ্গীদের সঙ্গে কিছুই নাকি আলোচনা করেনি বিজেপি। তারা বলেন, "জোটের নেতৃত্বে থাকা বিজেপি যদি সঙ্গীদের নিয়ে পরিকল্পনা কষতেন ও তাদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব সঁপে দিতেন, তাহলে ভালো হত। এভাবে জোটের অন্দরের সমন্বয়ের অভাব জনসমক্ষে ফুটে উঠত না।"
রাজ্যের এক বরিষ্ঠ বিজেপি নেতা অবশ্য বলেন, "শিন্ডে শিবিরের এহেন আচরণ শাসক জোটের পক্ষে সত্যিই হতাশাজনক। এই সংকটের সময়েও মহাজুটিতে ফাটল আরও চওড়া হয়ে গেল।" বিজেপির দাবি, জোটসঙ্গী শিবসেনার থেকে বরং এক্ষেত্রে পরিণত আচরণ করতে দেখা গিয়েছে বিরোধী শিবিরকে। অপর উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের উদাহরণ টেনেও শিন্ডে শিবিরকে নিশানা করেছে বিজেপি। পাওয়ার নীরবে কাজ করে মুখ্যমন্ত্রীকে সাহায্য করছেন। শিন্ডে শিবিরকে খোঁচা দিয়ে মন্তব্য বিজেপির। জম্মু কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার সঙ্গে ফোনে কথাও বলেছেন অজিত পাওয়ার।
অজিত পাওয়ারের এনসিপিও রয়েছে শাসক জোটে। শরিক একনাথ শিন্ডের আচমকাই শ্রীনগর উড়ে যাওয়া নিয়ে তাদের দাবি, "সন্ত্রাস হামলা রাজ্যর ইস্যু নয়, রাজনৈতিক ইস্যু তো নয়ই। শিন্ডে হোক বা অজিত পাওয়ার, এসময় উভয়েরই উচিত যাবতীয় পরামর্শ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে শেয়ার করা। একই কাজে সবাই মিলে লিপ্ত হয়ে আদতে কোনও লাভ হয় না।"
মহারাষ্ট্র থেকে প্রতিনিধি হিসেবে যখন মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে মহাজন শ্রীনগরে পৌঁছে গিয়েছেন, তারপর পৌঁছেছেন শিন্ডে। উপমুখ্যমন্ত্রীর দাবি, মহারাষ্ট্রের পর্যটকদের সাহায্য করাই উদ্দেশ্য। তাদের ঘরে ফেরাতে যথাযথ ব্যবস্থা করতেই এসেছেন বলে জানান তিনি। শ্রীনগরে পৌঁছেই বিশেষ বিমানে ৭০ জন পর্যটককে মুম্বইতে ফেরত পাঠিয়েছেন বলে দাবি শিন্ডের।
তবে শাসক মহাজুটির অন্দরে এহেন জটিলতা নিয়ে খোঁচা দিতে ছাড়েনি বিরোধী মহা বিকাশ আঘাড়ির উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনার নেতা সঞ্জয় রাউত। তিনি বলেন, "রাজ্যে কি সমান্তরাল সরকার চালাচ্ছেন শিন্ডে? এরকম জরুরি সময়ে মুখ্যমন্ত্রীই যাবতীয় তদারকি করে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। এমন কী হল যে শ্রীনগরে উড়ে যেতে বাধ্য হলেন শিন্ডে?" যদিও বিরোধীদের কটাক্ষকে আমল দেয়নি শিন্ডে শিবির।












Click it and Unblock the Notifications