দিল্লি হাইকোর্টের 'আল্টিমেটাম'! জোটে ভাঙনের পরে এবার লোকসভার আগেই কি বাতিল হবে বিরোধীদের 'ইন্ডিয়া'?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন বিরোধীদের জোটের 'ইন্ডিয়া' নামটি তাঁরই দেওয়া। গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে ইন্ডিয়া ব্লক গঠনের পরে চারটি বৈঠক হয়েছে। তবে তার মধ্যে থেকে নীতীশ কুমার জোট ছেড়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলায় কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করতে অস্বীকার করেছেন। বিভিন্ন জায়গায় জোটের মধ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে। সেই পরিস্থিতিতে লোকসভা ভোটের আগেই কি বিরোধীদের জোট 'ইন্ডিয়া' বাতিল করবে দিল্লি হাইকোর্ট, সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
কেন জোটের নাম 'ইন্ডিয়া' রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে বিরোধী দলগুলির কাছে সাত দিনের মধ্যে জবাব চেয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। এই সময়সীমাকে শেষ সময়সীমা বলে জানিয়েছে হাইকোর্ট। বিরোধীদের পাশাপাশি হাইকোর্ট বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকেও নোটিশ পাঠিয়েছে। এব্যাপারে পরবর্তী শুনানি হবে ১০ এপ্রিল।

গত বছর বিরোধী দলগুলি যখন তাদের জোটের নাম 'ইন্ডিয়া' করেছিল, সেই সময় গিরিশ ভরদ্বাজ নামে এক ব্যক্তি এব্যাপারে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন। গিরিশ ভরদ্বাজ তাঁর আবেদনে বলেছিলেন, বিরোধী দলগুলির 'ইন্ডিয়া' নাম ব্যবহার বন্ধ করা উচিত। এব্যাপারে বিরোধীরা দেশের নামে অন্যায় সুবিধা নিচ্ছে বলেও যুক্তি দিয়েছিলেন গিরিশ ভরদ্বাজ। প্রসঙ্গত বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের পুরো নাম হল ইন্ডিয়ান ন্যাশনাস ডেভেলপমেন্ট ইনক্লুসিভ অ্যালায়েন্স।
গত বছর ইন্ডিয়া ব্লক গঠনের পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, বিজেপি কি ইন্ডিয়াকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে? অন্যদিকে রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, এই লড়াই এনডিএ ও ইন্ডিয়ার মধ্যে। এব্যাপারে আদালতে আবেদনকারী গিরিশ ভরদ্বাজ বলেছিলেন, দেশের নাম টেনে রাহুল গান্ধী সুচতুরভাবে দেখানোর চেষ্টা করছেন, দেশের লড়াই বিজেপি ও প্রধানমন্ত্রী মোদীর বিরুদ্ধে। সম্প্রতি তিনি আবেদনে বলেছেন, ১৯ এপ্রিল থেকে লোকসভা ভোট শুরু হচ্ছে। তাই তাড়াতাড়ি এব্যাপারে শুনানি হোক। যদিও আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে।
আদালতে আবেদনকারী তাঁর আবেদনে বলেছেন, ইন্ডিয়া ব্লক নামকরণ প্রতীক ও নাম আইনের ধারা তিনের অধীনে নিষিদ্ধ। এই ধাারা অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি তাঁর ব্যবসা, পেশা, পেটেন্ট, ট্রেড মার্ক কিংবা নকশার জন্য দেশের নাম কিংবা জাতীয় প্রতীক ব্যবহার করতে পারবেন না। তবে এগুলি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের কিছু ক্ষেত্রে অনুমতি দেওয়ার অধিকার আছে।
দিল্লি হাইকোর্টে করা আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২৩-এর ৪ অগাস্ট আদালত ইন্ডিয়া ব্লকের রাজনৈতিক দলগুলিকে নোটিশ দেওয়। এছাড়াও নির্বাচন কমিশনকেও নোটিশ দেয় আদালত। রাজনৈতিক দলগুলি মৌখিকভাবে বলেছে, এই আবেদন শুনানি যোগ্য নয়। তবে তারা এখনও লিখিতভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলি তাদের অধীনে নথিভুক্ত হলেও, কোন জোট নথিভুক্ত নয়। ফলে তারা এব্যাপারে কিছু করতে পারবে না।
আবেদনকারী মঙ্গলবার আদালতের বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলি এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে এব্যাপারে জবাব দিতে চারটি সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা কিছুই করেনি। তাই আদালত এক সপ্তাহ সময় দিয়ে আল্টিমেটাম দিয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications