ঘূর্ণিঝড় ওখি-র দাপটে বিপর্যস্ত দক্ষিণ ভারত, মৃত ১২, ত্রস্ত কেরল-তামিলনাড়ু
ঘূর্ণিঝড় ওখি-র প্রভাবে ঝড় ও প্রবল বৃষ্টির দাপটে কেরল ও তামিলনাড়ুতে অন্তত ১২জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় ওখি-র প্রভাবে ঝড় ও প্রবল বৃষ্টির দাপটে কেরল ও তামিলনাড়ুতে অন্তত ১২জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। দক্ষিণের উপকূল এলাকা ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে পুরোপুরি বিপর্যস্ত। কেরল উপকূল থেকে নিখোঁজ শতাধিক মৎস্যজীবীকে খুঁজে পেতে কোমর বেঁধে নেমেছে ভারতীয় নৌসেনা। সবমিলিয়ে পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক নয় কেরল ও তামিলনাড়ুতে।

আরও বৃষ্টির আশঙ্কা
কেন্দ্রীয় জল কমিশন জানিয়েছে, অত্যধিক বৃষ্টির ফলে কেরল ও তামিলনাড়ুর নদীতে জল অনেক বাড়তে পারে।তিরুবনন্তপুরম, কোল্লাম, পাতানামথিত্তা, ইড়ুক্কি, কোট্টায়াম, আলাপুঝা, এরনাকুলামে আগামী ২৪ ঘণ্টায় নদীর জলস্তর বাড়বে। বৃষ্টি কমলে তা ধীরে ধীরে নামবে। নীলগিরি, কোয়েম্বাটুর, থেনি, ডিন্ডিগুল এলাকায় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা
ঘূর্ণিঝড় ওখি-র দাপটে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তিরুবনন্তপুরম, কোল্লামের মতো এলাকাগুলি। ভিজিঞ্জামে এক মহিলার উপরে গাছ পড়ে যাওয়ায় তিনি মারা যান। একটি অটোর উপরে গাছ পড়ায় চালকের মৃত্যু হয়েছে। তিরুবনন্তপুরমে রাস্তায় বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে শক লেগে দুজন মারা গিয়েছেন। কন্যাকুমারী, তিরুনেলভেলি ও তুতিকোরিনে ঝড়বৃষ্টিতে ৫৭৮টি গাছ পড়ে গিয়েছে।

পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে
তামিলনাড়ু সরকার জানিয়েছে কন্যাকুমারী ও তিরুনেলভলি এলাকায় ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। মোট ১২০০ মানুষ ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্ত হয়েছেন। মৃতের পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা হয়েছে। এদিকে কেরলে কতজন সমুদ্রে গিয়েছেন তার সংখ্যা এখনও জানা যায়নি। ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্ত ২৭৫৫জনকে ২৯টি ত্রাণ শিবিরে নিয়ে রাখা হয়েছে।

মৎস্যজীবী উদ্ধার
কেরলে ২১৮ জন মৎস্যজীবীকে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তারা সমুদ্রে ঝড়ের মধ্যে আটকে পড়েন। কেরলে মোট সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৬০ জনকে জাপানি জাহাজ উদ্ধার করেছে। কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সাহায্য চাওয়া হয়েছে বাকীদের উদ্ধারের জন্য।

নৌ জাহাজ আনা হয়েছে
সমুদ্রে নেমে পড়েছে বেশ কয়েকটি নৌ জাহাজ। ঘূর্ণিঝড় ওখির দাপটে তামিলনাড়ু ও কেরলের বড় অংশ বিধ্বস্ত। কেরল উপকূল থেকে মোট আটটি জাহাজ রওনা দিয়েছে সমুদ্রে। এর মধ্যে ছয়টি রণতরী ও ২টি উপকূল রক্ষী জাহাজ রয়েছে।

স্কুল বন্ধ
কেরল ও তামিলনাড়ুতে গত কয়েকদিন ধরেই স্কুল কলেজ বন্ধ রাখা হয়েছে। মোট পাঁচটি জেলায় প্রশাসন স্কুল কলেজ পুরোপুরি বন্ধ রেখেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তা সামনের সপ্তাহ থেকে খোলা হবে।

লাক্ষাদ্বীপে ধ্বংসলীলা
লাক্ষাদ্বীপে ঘূর্ণিঝড়ের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। তবে কেউ মারা যাননি। সমুদ্রে আটকে পড়া একটি জাহাজ থেকে ৭জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানকার সাংসদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের কথা হয়েছে। কেন্দ্র সমস্ত সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications