Delhi: মুস্তাফাবাদে শোকের ছায়া, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১, বাদ গেলেন না মালিকও,
Delhi: দিল্লির মুস্তাফাবাদে ভবন ধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ জন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ওই বাড়ির মালিকও। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়, যেখানে একের পর এক স্বজন হারানোর বেদনায় মানুষ স্তব্ধ। এনডিআরএফ, দমকল পরিষেবা, দিল্লি পুলিশ এবং অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবকরা ১২ ঘন্টারও বেশি সময় ধরে উদ্ধারকাজ চালিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘনবসতিপূর্ণ মুস্তাফাবাদের সংকীর্ণ গলির মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা এই ভবনটি দীর্ঘদিন ধরেই দুর্বল ছিল। এরপর আচমকা সেটি ভেঙে পড়লে বহু মানুষ চাপা পড়েন। খবর পাওয়া মাত্রই বিপর্যয় মোকাবিলা দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং উদ্ধারকার্য শুরু করে। তবে ঘিঞ্জি এলাকা ও সরু রাস্তার কারণে উদ্ধারকাজে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়।

দিল্লি পুলিশ এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত এবং আহতদের তালিকা ভাগ করে নিয়েছে। তালিকা অনুসারে, ভবনের মালিক, যার নাম ৬০ বছর বয়সী তাহসিন, তিনিও ধসে মারা গিয়েছেন। ভয়াবহ এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১১ জনের মধ্যে ৮ জন একই পরিবারের। নিহতদের মধ্যে ৩ জন মহিলা, এবং ধসে প্রাণ হারিয়েছেন ৪ শিশুও।
এইচটি-র হাতে আসা তালিকা অনুসারে, ধসে আরও ১১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৬ জনকে চিকিৎসার পর হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, এবং ৫ জন এখনও চিকিৎসাধীন। চারতলা ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া ২২ জনকে উদ্ধারের জন্য দিনের বেশিরভাগ সময় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত ছিল।
উল্লেখ্যে, শনিবার ভোর ২:৩৯ নাগাদ একটি চারতলা ভবন ধসে পড়ে। ঘটনায় ধ্বংসস্তূপের নিচে বেশ কয়েকজন আটকা পড়ে বলে উত্তর-পূর্ব জেলার অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার সন্দীপ লাম্বা জানিয়েছেন। বিভাগীয় দমকল কর্মকর্তা রাজেন্দ্র আটওয়াল এএনআইকে জানিয়েছেন যে, ভোর ২:৫০ নাগাদ তারা একটি বাড়ি ধসের খবর পান। "আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে জানতে পারি যে পুরো ভবনটি ধসে পড়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকা পড়েছে। এনডিআরএফ, দিল্লি ফায়ার সার্ভিস মানুষকে উদ্ধারে কাজ করছে," তিনি বলেন।
এদিকে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত মুস্তাফাবাদ ভবন ধসে প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, ভয়াবহ ঘটনার কারণ অনুসন্ধান শুরু করা হয়েছে এবং ডিডিএমএ, এনডিআরএফ, ডিএফএস এবং অন্যান্য সংস্থাগুলি থেকে উদ্ধারকারী দল অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে নিয়োজিত রয়েছে।
"এই দুর্ভাগ্যজনক দুর্ঘটনায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের প্রতি আমি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। ঈশ্বর যেন মৃতদের আত্মার শান্তি দান করেন এবং শোকাহত পরিবারগুলিকে এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি দেন," তিনি বলেন।
এই ঘটনায় শোকস্তব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা জরাজীর্ণ বাড়িগুলির রক্ষণাবেক্ষণ এবং নির্মাণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে বহু পুরনো ও দুর্বল বাড়ি এখনও বিপজ্জনক অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। মুস্তাফাবাদের এই ভবন ধসের ঘটনা ফের একবার দিল্লির দুর্বল পরিকাঠামো এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকে আঙুল তুলেছে। শুধু কয়েকটি প্রাণহানি নয়, এই দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে বহু পরিবারের শেষ সম্বলটুকুও। স্বজন হারানোর কান্না নিয়েই খোঁজ চলছে কাছের মানুষের।












Click it and Unblock the Notifications